অটিজম বিশেষ চাহিদা

অটিজম- চিকিৎসা

Written by Maya Expert Team

এখন পর্যন্ত ASD নিরাময়ের কোন উপায় পাওয়া যায় নি। তবে বিশেষায়িত শিক্ষা এবং আচরণগত সহায়তার (ইন্টারভেনশন) দ্বারা ASD আক্রান্ত শিশুরা উপকৃত হতে পারে।

ASD এর জন্য অনেক রকম ইন্টারভেনশন আছে। আপনার শিশুর জন্য কোনটি সবচেয়ে কার্যকর হবে সেটি বলা মুশকিল কারন ASD এর ট্রিটমেন্ট আক্রান্ত ব্যাক্তির চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।

শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে ইন্টারভেনশন হওয়া উচিত। যেমনঃ

যোগাযোগের দক্ষতা- যেমন নিজে থেকে কোন আলোচনা শুরু করার ক্ষমতা

সামাজিক দক্ষতা- যেমন অন্যদের অনুভূতি বুঝতে পারা এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করা

বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা- যেমন সৃজনশীলভাবে খেলতে পারা

শিক্ষাগত দক্ষতা- লেখাপড়ার জন্য যেগুলো প্রয়োজনীয় যেমন পড়তে, লিখতে ও অঙ্ক করতে পারা

ASD এর চিকিৎসায় অনেক সময় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, থেরাপিস্ট এর মত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা একসাথে কাজ করেন।

ASD চিকিৎসার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল;

বাবা-মায়ের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

ASD আক্রান্ত শিশুদের মৌখিক ও অমৌখিক যোগাযোগে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে আপনার সাহায্য শিশুকে নির্ভার রাখবে এবং ওর আচার-ব্যাবহারেও উন্নতি ঘটবে। নিম্নলিখিত পরামর্শগুলো এক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারেঃ

কথা বলার সময় আপনার শিশুকে সবসময় নাম ধরে ডাকুন যাতে ও বুঝতে পারে যে ওর সাথে কথা বলা হচ্ছে।

আশেপাশে যেন বেশি আওয়াজ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন

সহজভাবে কথা বলুন

স্পষ্টভাবে এবং আস্তে কথা বলুন। প্রয়োজনে প্রতিটি শব্দের পর বিরতি দিন

কথা বলার সময় সহজেই বোঝা যায় এমন ইশারা করুন

আপনি কি বলছেন এটি বোঝার জন্য শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিন

এগুলো ছাড়াও বিশেষজ্ঞের সাহায্যের মাধ্যমে শিশুর দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমনঃ

স্পিচ (কথা) ও ল্যাঙ্গুয়েজ (ভাষা) থেরাপি (SLT)

SLT আপনার শিশুর ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একধরনের প্রশিক্ষণ। এটি ওদের সামাজিকভাবে অন্যদের সাথে ভালভাবে মিশতে সাহায্য করে। গল্প,খেলনা ও ছবির সাহায্যে থেরাপিস্ট শিশুর যোগাযোগে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

সাইকোলজিকাল থেরাপি

আপনার শিশুর ASD এর সাথে অ্যাংযাইটির মত অন্য কোন মানসিক সমস্যা থাকলে বা ওর আচরণের কারনে কোন সমস্যা হলে সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট (চিকিৎসা) করতে বলা হবে। কগ্নিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT) এর মত সাইকোলজিকাল ট্রিটমেন্টে থেরাপিস্ট শিশুর সাথে ওর অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা এবং ওর আচরণ ও সুসাস্থ্যের ওপর এগুলোর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

CBT এর মত কোন ট্রিটমেন্ট করতে বলা হলে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ASD এর সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য ট্রিটমেন্টে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছবি ব্যাবহার করা বা সহজ করে কথা বলার মত কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

মেডিকেশন (ওষুধ)

ASD এর মূল উপসর্গগুলোর জন্য কোন ওষুধ না থাকলেও ASD এর জন্য অন্যান্য যেসব সমস্যা হতে পারে সেগুলোর জন্য অনেক রকম ওষুধ আছে। যেমন;

ঘুমের সমস্যা- সাধারণত ঘুমের সমস্যার জন্য মেলাটোনিন (Melatonin) জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়

বিষণ্ণতা- এটির জন্য সিলেক্টিভ সেরাোটনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) দেয়া হয়

মৃগী রোগ- এর চিকিৎসায় অ্যান্টিকনভালসেন্ট বা খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ ব্যাবহৃত হয়

অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (ADHD) – মিথাইলফেনিডেট দেয়া হয়।

আগ্রাসী বা চ্যালেঞ্জিং আচরণ যেমন নিজের ক্ষতি করা বা প্রচন্ড চিৎকার চ্যাঁচামেচি করা- সাধারণত অবস্থা খুব বাজে হয়ে গেলে বা সাইকোলজিকাল ট্রিটমেন্টে কাজ না হলে অ্যান্টিসাইকোটিক জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়।

এই ওষুধগুলোর প্রত্যেকটিরই গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

যা করবেন না

ASD এর জন্য প্রচলিত অনেক চিকিৎসাই আছে যেগুলোর কোন ভিত্তিই নেই এবং এগুলো অনেক সময় রোগীর জন্য ক্ষতিকরও। যেমন –

বিশেষ ডায়েট- যেমন আটা বা ছানাজাতীয় খাবার খেতে না দেয়া

নিউরোফিডব্যাক- এখানে রোগীর মাথায় ইলেক্ট্রোড বসিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনে তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম দেখানো হয় এবং সেগুলো কিভাবে পরিবর্তন করতে হবে তা শেখানো হয়।

অডিটরি ইন্টেগ্রেশন ট্রেইনিং- একধরণের থেরাপি যেখানে বিভিন্ন মাত্রার ও কম্পাঙ্কের শব্দ শোনানো হয়।

চিলেশন থেরাপি – ওষুধ বা অন্য কোন উপায়ে শরীর থেকে ধাতু (বিশেষ করে মার্কারি) বের করে ফেলা

হাইপারবলিক অক্সিজেন থেরাপি- উচ্চ চাপের কোন ঘরের ভেতর অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা

ফ্যাসিলিটেটেড কমিউনিকেশন- এখানে থেরাপিস্ট বা অন্য কেউ আক্রান্ত ব্যাক্তির হাত ধরে তাকে কম্পিউটারের কীবোর্ড, মাউস বা অন্য কোন যন্ত্র ব্যাবহার করতে সহায়তা করে।

 

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment