অটিজম বিশেষ চাহিদা

অটিজম(Autism)

Written by Maya Expert Team

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) কয়েকটি অসুখের সমষ্টি যা সামাজিক আচার-আচরণ ও স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ ও আচরণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে অ্যাসপারগার সিন্ড্রোম ও শৈশবকালীন অটিজমও অন্তর্ভুক্ত। ASD, অটিজম স্পেক্ট্রাম কন্ডিশন এবং এতে আক্রান্ত ব্যাক্তি নিউরোডাইভারস (স্বাভাবিক মানুষকে নিউরোটিপিকাল বলা হয়) নামেও পরিচিত।

অটিজমের লক্ষণগুলো শৈশব থেকেই দেখা যায়, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এর প্রভাব জীবনে বড় কোন পরিবর্তন (যেমন নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়া) আসার আগে পর্যন্ত নাও বোঝা যেতে পারে।

ASDএর কোন নিরাময় নেই তবে যথাযথ শিক্ষা এবং আচরণগত সহায়তার মত ব্যাবস্থা নিলে আক্রান্ত ব্যাক্তি উপকৃত হতে পারেন।

ASD এর লক্ষণ

ASDএর লক্ষণগুলো প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়;

স্বাভাবিক সামাজিক আচরণ ও মৌখিক এবং অমৌখিক যোগাযোগে সমস্যা- এর ফলে আক্রান্ত ব্যাক্তির ঠিকভাবে অন্যের আবেগ বুঝতে সমস্যা হয়, তার কথা বলা শিখতে দেরি হতে পারে এবং স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতেও সমস্যা হয়।

একই কাজ বা চিন্তাভাবনা বারবার করতে থাকা- এর মধ্যে হাত মোচড়ানো বা তালি দেয়ার মতন শারীরিক আচরণও অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো বাধাগ্রস্থ হলে সে ক্ষিপ্ত বা অসন্তুষ্ট হয়ে যায়

ASD আক্রান্ত ব্যাক্তির অনেক সময়ই ADHD, অ্যাংযাইটি বা বিষণ্ণতার মত অন্যান্য মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। ASD আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশিরই কোন কোন না কোন মাত্রায় লারনিং ডিয্যাবিলিটি (কোন কিছু শেখার অক্ষমতা) থাকে। তবে পর্যাপ্ত সহায়তার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের অধিকাংশই অনেকটা স্বাভাবিক ও স্বাধীন জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। তবে যেসব শিশুদের ক্ষেত্রে ASD এর লক্ষণগুলো অনেক বেশি এবং লার্নিং ডিয্যাবিলিটির মাত্রাও বেশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অতিরিক্ত যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

অটিজম নির্ণয়

অটিজমের লক্ষণ সাধারণত শিশুর জন্মের ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই প্রকাশ পায়। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই ওরা একটু বড় হবার আগে পর্যন্ত লক্ষণগুলো বুঝা যায় না।

ASD এর কোন লক্ষণ দেখলে বা আপনার শিশুর বিকাশ নিয়ে শঙ্কিত থাকলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন মনে করলে তিনি আপনাকে বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে বলতে পারেন। আপনার শঙ্কার বিষয়ে শিশুর নার্সারি বা স্কুলেও কথা বলতে পারেন।

প্রাপ্তবয়স্কদেরও অনেক সময় ASD ধরা পড়ে। আপনার চিকিৎসক কিছু পরিক্ষার মাধ্যমে আপনার ASD আছে কিনা সেটি বোঝার চেষ্টা করতে পারেন এবং প্রয়োজনে আপনাকে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে বলতে পারেন।

ASD কেন হয়?

অটিজম মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এটি ঠিক কি কারণে হয় তা জানা না থাকলেও ধারণা করা হয় যে এটি কিছু জটিল জেনেটিক কারণে বা কোন পারিপার্শ্বিক কারণে হতে পারে। অনেক সময় অন্য কোন জটিলতার কারণে ASD হতে পারে।

অতীতে মনে করা হত যে MMR টীকা (মাম্পস, বসন্ত এবং রুবেলার টীকা) এর কারণে ASD হয়। কিন্তু অনেক গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে MMR ও ASD এর মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।

প্রাপ্তবয়স্কদের অটিজম

অনেকেরই শৈশবে ASD এর কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও এটির কোন চিকিৎসা করা হয় না। তারা এটি নিয়েই বেড়ে ওঠেন। তবে ASD আক্রান্ত ব্যাক্তি পর্যাপ্ত যত্ন ও সহযোগিতা পেলে অনেকটাই স্বাভাবিক, স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারবেন। এমন মানুষদের প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ASD আক্রান্তদের পছন্দের কোন শখের কাজ খুঁজতে বা তাদের জন্য উপযোগী চাকরি পেতে সাহায্য করা ছাড়াও আরও অনেকভাবেই সহায়তা করে।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment