নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব মাসিক

মাসিক না হওয়া বা অনুপস্থিত থাকা

মাসিক না হওয়া বা অনুপস্থিত থাকা
মাসিক না হওয়ার অর্থ দুইটি হতে পারে, হয় আপনার আগে মাসিক হয়েছে কিন্তু কোন কারনে এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে বা ১৪ থেকে ১৬ বৎসর বয়স হয়ে যাওয়ার পরও আপনার মাসিক শুরু হয়নি । ডাক্তারি ভাষায় মাসিক অনুপস্থিত হওয়াকে অ্যামেনোরিয়া বলা হয় ।

অনেক ক্ষেত্রে মাসিক না হওয়াকে দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে মনে করা হয় না, কেননা কিছু কিছু মহিলার মাসিক স্বাভাবিক সময়ে না হয়ে কিছু দেরিতে শুরু হতে পারে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা বন্ধ হয়ে যাওয়াও স্বাভাবিক ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, গর্ভাবস্থায়, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কালে অথবা মেনোপজ (রজঃনিবৃত্তি) শুরু হলে মাসিক হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে । কয়েক ধরণের জন্মনিরোধক পদ্ধতি দ্বারাও সাময়িকভাবে মাসিক হওয়া বন্ধ রাখা যায় ।

তবে, কিছু কিছু পরিস্থিতিতে মাসিক অনুপস্থিত বা না হওয়া কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে হতে পারে, যেমনঃ

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওস)- এই অসুখে ডিম্বাশয় থেকে নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন হয় না ।

হাইপোথ্যালামিক অ্যামেনোরিয়া – মস্তিষ্কের যে অংশ মাসিক চক্রকে নিয়ন্ত্রন করে, যদি তা ঠিকমত কাজ না করে, তখন মাসিকের সমস্যার সৃষ্টি হয় । ধারনা করা হয় যে, অতিরিক্ত ব্যায়াম, অত্যাধিক ওজন ও চাপের কারনে এরকম হয়ে থাকে ।

হাইপারপ্রোল্যাকটিনিমিয়া- প্রোল্যাকটিন নামক হরমোনটি রক্তে উচ্চ মাত্রায় উপস্থিত থাকলে মাসিকের সমস্যার সৃষ্টি হয় ।

প্রিম্যাচিউর ওভারিয়ান ফেইলার- মেনোপজ (রজঃনিবৃত্তি) যা সাধারণত ৫০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়, তার পূর্বে যদি কোনো মহিলার ডিম্বাশয় সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় তখন সময়ের পূর্বেই মেনোপজ হতে পারে অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে যায় ।


কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত

যদি আপনি আপনার মাসিক সংক্রান্ত কোন সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে আপনার কথা বলা উচিত, যাতে তারা এর কারণ চিহ্নিত করতে পারেন ।

মাসিক অনুপস্থিত থাকার সম্ভাব্য কারণের উপর ভিত্তি করে আরো পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিত্সা প্রদানের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করার জন্য আপনাকে বলা হতে পারে ।


কারা এ সমস্যার সম্মুখীন হোন

পূর্বে মাসিক হওয়ার পর, কোন কারনে তা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে সেকেন্ডারি বা দ্বিতীয় পর্যায়ের অ্যামেনোরিয়া বলা হয় । এটি হওয়া স্বাভাবিক, ধারণা করা হয় যে ২৫ জনের মধ্যে ১জন মহিলা জীবনের কোনো এক সময়ে এ সমস্যায় আক্রান্ত হোন ।

কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, এবং তার থেকেও বেশি দেখা যায় কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপ বা দলের ক্ষেত্রে, যেমন, পেশাদার ক্রীড়াবিদ (অ্যাথলেট) নৃত্যশিল্পী কিংবা জিমন্যাস্ট (ব্যায়ামবিদ)।

নির্দিষ্ট বয়সে মাসিক শুরু না হওয়াকে প্রাইমারি বা প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যামনোরিয়া বলা হয়। এটি খুব বেশি দেখা যায় না, ৩০০ জনের মধ্যে ১ জন কিশোরী বা তরুণী এ জাতীয় অ্যামনোরিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন।


কীভাবে চিকিৎসা করা হয়

কারণের উপর ভিত্তি করে মাসিক না হওয়ার চিকিৎসা প্রদান করা হয় ।

উদাহরণস্বরূপ, হরমোন চিকিৎসা দ্বারা পিসিওস অধিকাংশ সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় । হাইপোথ্যালামিক অ্যামনোরিয়া ক্ষেত্রে ব্যায়ামের পরিমাণ কমিয়ে, স্বাস্থ্যকর ওজন অর্জনের মাধ্যমে মাসিক নিয়মিতকরণ করা যায় ।

কিছু ক্ষেত্রে, মাসিক পুনরায় নিজে থেকে শুরু হয় কী না তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা হয়।

কিছু কিছু সময়ে চিকিৎসা গ্রহণের পরও মাসিক নিয়মিত ভাবে নাও হতে পারে, কেননা মাসিক না হওয়ার পিছনে সাধারণত প্রিম্যাচিউর ওভারিয়ান ফেইলার দায়ী থাকে ।

About the author

Maya Expert Team