নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব মাসিক

ব্যথাযুক্ত মাসিকঃ রোগ নির্ণয়

ব্যথাযুক্ত মাসিকঃ রোগ নির্ণয়
বেশীরভাগ মহিলা যাদের মাসিকের ব্যথা মধ্যম মাত্রায় আছে, তাদের চিকিৎসা বাসাতেই করা যায়। তবে, মাসিক যদি গুরুতর ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে পরামর্শের জন্য আপনার ডাক্তারকে দেখান। অবশ্যই ডাক্তারকে দেখান যদি আপনারঃ

  • জ্বর থাকে
  • পেটে হঠাৎ এবং গুরুতর ব্যথা হয়
  • আপনার মাসিকে যদি বেশী পরিমানের রক্তজমাট বাঁধে
  • যোনি থেকে ঘন অথবা দূর্গন্ধযুক্ত স্রাব নিঃসৃত হয়।

আপনি যখন ডাক্তারকে দেখাবেন তারা আপনার অন্যান্য রোগের ইতিহাস নিবেন এবং আপনাকে আপনার উপসর্গ বর্ননা করতে বলবেন। তারা আপনার মাসিকচক্রের কথা এবং যৌন মিলনের কথাও জিজ্ঞাসা করতে পারেন।  যখন ডাক্তার আপনাকে এগুলো জিজ্ঞাসা করবেন তখন বিব্রত না হবার চেষ্টা করুন। মাসিকের ব্যথার কারণ নির্ধারন করার জন্য তাদের এই তথ্যগুলো জানা প্রয়োজন। এটা আপনাকে সবচেয়ে যথার্থ চিকিৎসা দিতে সাহায্য করবে।

পেলভিক বা শ্রোনী-সংক্রান্ত পরীক্ষাঃ
যদিও মাসিকের ব্যথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত কোন কারণের জন্য হয়না, তবুও, ডাক্তার একটি শারীরিক পরীক্ষা করার প্রয়োজন বোধ করতে পারেন যাতে যেকোন অবস্থা সনাক্ত করা যায়। সাধারনত শারীরিক পরীক্ষায় আপনার ডাক্তার পেলভিক এলাকা পরীক্ষা করতে পারেন।

পেলভিক পরীক্ষা করার সময়,আপনার ডাক্তার যোনীমুখ এবং যোনীঠোট (বহিঃস্থ যৌনাঙ্গ) পরীক্ষা করে দেখবেন রক্তপাত অথবা সংক্রমণের নমুনা আছে কি না তা দেখার জন্য। অনেকসময় তাদেরকে শরীরের ভেতরেও পরীক্ষা করে দেখতে হতে পারে। ডাক্তারকে গ্লাভস পরিহিত, ভেজানো আঙ্গুল যোনীর ভেতর ঢুকাতে হতে পারে গর্ভাশয় এবং ডিম্বাশয়ে কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা তা যাচাই করে দেখার জন্য।

একটি পেলভিক বা শ্রোনী পরীক্ষা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পেশাজীবি দ্বারা করানো হবে যিনি কিনা সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন, যেমন একজন ডাক্তার কিংবা গাইনী বিশেষজ্ঞ (একজন চিকিৎসক যিনি স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের রোগসমূহের উপর বিশেষজ্ঞ)। এই রকম পরীক্ষা আপনার সম্মতি ছাড়া করা হবেনা এবং আপনি চাইলে এই প্রক্রিয়ার সময় সাথে কাউকে রাখতে পারবেন।


রেফারেল
যদি আপনার মাসিকের ব্যথা চিকিৎসায় সাড়া না দেয়, অথবা আপনার ডাক্তার অন্তর্নিহিত কোন কারন সন্দেহ করে থাকেন, তাহলে আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে গাইনী বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হবে।

মাসিকের ব্যথার আসল কারন সনাক্ত করতে গাইনী বিশেষজ্ঞ আপনাকে অনেকগুলো ধারাবাহিক পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

সেগুলোর কিছু নিচে দেওয়া হলঃ

পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ডঃ একটি আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান যাতে উচ্চ-তরঙ্গের শব্দে প্রয়োগ করা হয় যা আপনার শরীরের ভেতরের একটি ছবি তুলে নিয়ে আসবে। এটা ব্যথাহীন একটি প্রক্রিয়া, এবং আপনার বিশেষজ্ঞ আপনার জননতন্ত্রে যেকোনো অস্বাভাবিকতা ধরতে পারবেন।

ল্যাপারোস্কোপিঃ  এই প্রক্রিয়ার সময়  আপনার পেটে একটি ছোট ফুটো করা হবে যার মাধ্যমে ফাইব্রো-অপটিক টেলিস্কোপ (ল্যাপারোস্কোপ) ভেতরে ঢুকানো হবে। এটা আপনার ভেতরের অঙ্গগুলো দেখার জন্য এবং ভেতরের টিস্যুর কিছু স্যম্পল নিতে ব্যবহার করা হবে। এই প্রক্রিয়া সাধারনত সম্পূর্ণ অচেতন করে করা হয়।

হিস্টেরোস্কোপি: এই পরীক্ষায় একটি ফাইব্রো-অপটিক টেলিস্কোপ ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার বিশেষজ্ঞ গর্ভাশয়ের ভেতরে দেখতে পারবেন, যা খুব সাবধানে যোনীর মধ্য দিয়ে গর্ভাশয়ে ঢুকানো হয় যেকোনো অস্বাভাবিকতে যাচাই করার জন্য।

About the author

Maya Expert Team