নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব পিসিওএস

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের লক্ষণসমূহ

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের লক্ষণসমূহ
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)- এর লক্ষণগুলো সাধারণত কৈশোরের শেষ থেকে শুরু করে বিশ বৎসরের পরবর্তী কয়েক বৎসর – এই সময়কালে শুরু হয়।

এ সিনড্রোমে আক্রান্ত সব মহিলা সকল উপসর্গগুলো অনুভব করেন না । প্রত্যক লক্ষণই হালকা থেকে তীব্র সব ধরণের হতে পারে । অধিকাংশ মহিলাদের মধ্যে দেখা দেওয়া একমাত্র সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে মাসিকে (রজঃস্রাব) অথবা গর্ভধারণে সমস্যা।

পিসিওএস এ সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া লক্ষণগুলো হলো

  • অনিয়মিত মাসিক (রজঃস্রাব) বা তা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • গর্ভবতী হতে না পারা (অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন বা ডিম্বাণু উৎপাদনে ব্যর্থতার কারনে)
  • অত্যাধিক চুল গজানো (হার্সুটিসম), যা সাধারণত মুখ, বুক, পিঠ বা নিতম্বে হয়
  • ওজন বৃদ্ধি
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা মাথা থেকে চুল পড়া
  • তৈলাক্ত ত্বক বা ব্রণ হওয়া

যদি উপরোক্ত  লক্ষণগুলো আপনি অনুভব করে থাকেন অথবা পিসিওস হয়েছে সন্দেহ করেন, তাহলে আপনার গাইনোকোলোজিস্টের সাথে কথা বলা উচিত ।


বন্ধ্যাত্ব
সমস্যা
মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম । এই সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন এ সম্পর্কে অধিকাংশ মহিলা তখনই জানতে পারেন যখন তারা গর্ভবতী হতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হোন।

প্রত্যেক মাসিক চক্রের সময় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু জরায়ুতে মুক্ত হয় । এ পদ্ধতিকে বলা হয় ডিম্বস্ফোটন, যা মাসে সাধারণত একবার হয়ে থাকে । পিসিওসে আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন হয় না বা হলেও কদাচিৎ হয়, অর্থাৎ তাদের মাসিক অনিয়মিত অথবা অনুপস্থিত থাকে।


পরবর্তী
জীবনে ঝুঁকি
পিসিওএস এর কারণে পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় । উদাহরণস্বরুপ, এ সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মহিলারা নিম্নোক্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেনঃ

টাইপ ২ ডায়াবেটিসঃ যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যায়।

বিষণ্নতা ও মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন, কেননা পিসিওএস আপনার আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানে প্রভাব সৃষ্টি করে ।

উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি বৃদ্ধি করে।

মাত্রাতিরিক্ত ওজন আছে এমন মহিলারা স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন, যা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটায়।

যেসব মহিলাদের ক্ষেত্রে  বহু বছর ধরে খুবই অনিয়মিত ( বছরে ৩ বা ৪ বারের কম সময়) মাসিক হয় কিংবা মাসিক হয়ই না, তারা গর্ভাশয়ের আস্তরণের ক্যান্সারে (এন্ড্রোমেট্রিয়াল ক্যান্সার) আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের এ ঝুঁকির মাত্রা গড়পড়তা হিসাব থেকেও অনেক বেশি । তবে মাসিক নিয়মিতকরণের বিভিন্ন চিকিৎসা যেমন গর্ভনিরোধক বড়ি ও ইন্ট্রাউটেরিন (আইইউএস) ব্যবহার করে এন্ডোমেটিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়।

About the author

Maya Expert Team