নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব বন্ধ্যাত্ব

বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ

বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ

জীবনযাত্রায় কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন এনে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে বন্ধ্যত্বের অনেক কারনের প্রতিরোধ সম্ভব।


জীবনযাত্রার পরিবর্তন

ওজন
ওজন বেশি বা কম দুই ক্ষেত্রেই ডিম্বস্ফুটনে সমস্যা হয়। উচ্চতার অনুপাতে যে ওজন স্বাস্থ্যকর, তেমন ওজন বজায় রাখতে পারলে গর্ভধারণের সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ‘স্বাস্থ্যসম্মত ওজন পরিমাপের ক্যালকুলেটর’ ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার অবস্থা নির্ণয় করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে যাদের ‘উচ্চতার তুলনায় শরীরের ভরের সুচক’ (BMI) ১৯ থেকে ২৫ এর মধ্যে তাদের গর্ভধারণের সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। ওজন যদি বেশি হয় অর্থাৎ BMI যদি ২৫ এর বেশি হয় অথবা ওজন যদি কম হয় অর্থাৎ BMI যদি ১৯ এর কম হয় – দুই ক্ষেত্রেই গর্ভধারণের সম্ভবনা কমে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রেও BMI যদি ২৯ এর বেশি হয় তবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায়।

শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি আপনার ওজনকে সুস্বাস্থ্যর সীমার মধ্যে রাখতে পারেন। এ ব্যাপারে আরো জানতে ‘স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন’ অধ্যায়টি পড়ুন।

খাদ্যাভ্যাস
আপনাকে অবশ্যই পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিয়মিতভাবে খেতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিনের খাবারে প্রধান খাদ্য উপাদান গুলো আনুপাতিক হারে থাকতে হবে। শর্করার জন্য ভাত বা রুটি খেতে হবে, আমিষের জন্য মাছ বা মাংস, ডাল খেতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে ফল ও শাক সব্জি থাকতে হবে। সবুজ শাকে প্রচুর ফলিক এসিড থাকে, যা গর্ভস্থ সন্তানের জন্মত্রুটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আরো জানতে ‘গর্ভাবস্থায় কি খাবেন’ এবং ‘গর্ভাবস্থায় কি খাওয়া যাবে না’ অধ্যায় দুটি পড়ুন।

মানসিক চাপ
অতাধিক চাপও অনেক সময় বন্ধ্যত্বের কারন হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমাগত মানসিক চাপে যৌন আগ্রহ কমে যায়, ফলে যৌনমিলন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। দুই বা তিন দিন অন্তর অন্তর যৌনমিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বিরতী বেশি হয়ে গেলে সম্ভবনা কমে যায়। আপনি যদি মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন, বিষয়টি আপনার স্বামীকে জানান, প্রয়োজনে মনোবিদ কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। এ ব্যাপারে আরো জানতে ‘গর্ভধারণের জন্য যৌনমিলনের সঠিক সময়’ অধ্যায়টি পড়ুন।

ওষুধ এবং মাদক
গাজা, কোকেন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, ইত্যাদি সব অবৈধ মাদকই সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এমনকি গর্ভধারণ করে ফেললেও গর্ভস্থ সন্তানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। গর্ভধারণের চেষ্টা করা অবস্থায় সব ওষুধও খাওয়া ঠিক না। এ ব্যপারে আরো জানতে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন বা ‘মায়া আপা কি বলে’ তে জিজ্ঞেস করুন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বয়সভেদে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরই তিন থেকে পাচ বৎসর অন্তর অন্তর ‘পেপস স্মেয়ার’ টেস্ট করানো উচিত। জরায়ু মুখে কোন সংক্রমণ বা অন্য কোন অসুখ আছে কিনা তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝা যায়। অনেক সময় এই অসুখ গুলোর কোন লক্ষন থাকে না, ফলে আপাত কোন সমস্যা দেখা যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে এগুলো ঠিকই ক্ষতি করতে থাকে। নিয়মিত ‘পেপস স্মেয়ার’ টেস্ট করালে, বড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগেই রোগটি নির্ণয় করা যায়। ‘ক্লামাইডিয়া’ নামক যৌনরোগটিও বন্ধ্যত্ব করে, এটিও মেয়েদের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কোন লক্ষন থাকে না কিন্তু গর্ভধারণে এবং গর্ভধারণের পরও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করে। ফলে গর্ভধারণের প্রস্তুতিতে যৌনরোগের পরীক্ষাও করানো উচিত।

About the author

Maya Expert Team