নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব বন্ধ্যাত্ব

বন্ধ্যত্ব- ভূমিকা

বন্ধ্যত্ব- ভূমিকা
কোন ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা ছাড়া নিয়মিত শারীরিক মিলনের পরও কোন দম্পতির যখন সন্তান হয় না তখন তাকে বন্ধ্যত্ব বলে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৭ দম্পতির মধ্যে একটি দম্পতি সন্তান ধারনে সমস্যায় ভুগে। প্রতিরোধক ছাড়া নিয়মিত শারীরিক মিলনে

  • ১ বৎসরের মধ্যে ৮৪ ভাগ দম্পতি গর্ভধারণ করে
  • ২ বৎসরের মধ্যে ৯২ ভাগ দম্পতি গর্ভধারণ করে
  • ৩ বৎসরের মধ্যে ৯৩ ভাগ দম্পতি গর্ভধারণ করে

যে সমস্থ দম্পতি তিন বৎসরের বেশি সময় ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু হচ্ছে না, পরবর্তী ১ বৎসরে তাদের গর্ভধারণের সম্ভবনা শতকরা ২৫ ভাগ বা তারও কম।


এ বিষয়ে কখন আপনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন

সাধারন ভাবে ১ বৎসর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। যে মেয়েদের বয়স ৩৬ এর বেশি বা কোন কারনে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন, তারা আগেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বন্ধ্যত্বর সম্ভাব্য কারন গুলো পরীক্ষা করে দেখবেন এবং সে অনুযায়ী আপনাকে ব্যবস্থাপনা দিবেন।

কোন দম্পতি যদি ১ বৎসরের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করেও গর্ভধারণ করতে না পারেন কেবলমাত্র তখনই সেটাকে বন্ধ্যত্ব বলা যাবে। বন্ধ্যত্ব দুই রকমের

১) প্রাথমিক বা মৌলিক বন্ধ্যত্ব (primary infertility) – যার ইতিপূর্বে কখন সন্তান হয়নি এবং এখনও চেষ্টা করে হচ্ছে না

২) দ্বিতীয় পর্যায়ের বা গৌণ বন্ধ্যত্ব (secondary infertility) – যার ইতিপূর্বে এক বা একাধিক সন্তান হয়েছিল কিন্তু এখন গর্ভবতী হতে সমস্যা হচ্ছে


বন্ধ্যত্বের কারন
বন্ধ্যত্বের অনেক গুলো সম্ভাব্য কারন আছে, এবং এটা স্ত্রী, পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। বন্ধ্যত্বের মূল কারন অনেক সময়ই খুজে পাওয়া যায় না। মেয়েদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের প্রধান কারন গুলো হলো, ঠিকমত ডিম্বস্ফুটন (ovulation) না হওয়া, ডিম্ববাহী নালীতে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়া এবং এন্ডোমেট্রিয়সিস (endometriosis)। শতকরা ২৫ ভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে কোন কারণই খুজে পাওয়া যায় না। পুরুষের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারন হলো বীর্য সংক্রান্ত। দেখা গেছে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করলে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ করা যায়।


বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা
বন্ধ্যত্বের যে সকল চিকিৎসা রয়েছে

  • ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা হলে, ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা
  • এন্ডোমেট্রিয়সিস হলে, অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা
  • বিশেষ ব্যবস্থায় গর্ভধারণের ব্যবস্থা করা যেমন IUI বা IVF

আপনার বন্ধ্যত্বের কারন অনুযায়ী যে চিকিৎসা আপনার জন্য প্রযোজ্য সে চিকিৎসাই আপনাকে দেয়া হবে।

কোনো কোনো বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমনঃ

  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • স্থানচ্যুত গর্ভধারন এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া
  • একবারে একাধিক ভ্রুণের গর্ভধারন
  • মানসিক চাপ

About the author

Maya Expert Team