নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব বন্ধ্যাত্ব

বন্ধ্যত্বের কারন

বন্ধ্যত্বের কারন
বন্ধ্যত্বের অনেক গুলো সম্ভাব্য কারন আছে। তবে শতকরা ২৫ ভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কোন কারণই খুজে পাওয়া যায় না।

মেয়েদের বন্ধ্যত্বের কারন

ডিম্বস্ফুটনে (ovulation) সমস্যা
মেয়েদের বন্ধ্যত্বের প্রধান কারন হলো ডিম্বস্ফুটনে সমস্যা। মেয়েদের মাসিক চক্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি ডিম্বানু, ডিম্বাশয় থেকে বের হয়ে এসে ডিম্বনালীতে অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা বেচে থাকে। ঐ সময়টাতে যদি শারীরিক মিলনের মাধ্যমে শুক্রানু জরায়ুতে প্রবেশ করে, তবে ডিম্বাণু ও শুক্রানুর মিলনে শিশুর জন্ম হয়। সুতরাং গর্ভধারণের জন্য ডিম্বস্ফুটন অপরিহার্য।

ডিম্বস্ফুটনে সমস্যার কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই ডিম্বস্ফুটন হয় না, কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফুটন হয় কিন্তু তা অনিয়মিত, প্রতি মাসিক চক্রে হয় না। ডিম্বস্ফুটনে সমস্যার প্রধান কারন গুলো হলো –

পলিসিস্টিক ওভারী সিনড্রোম (Polycystic ovary syndrome) –স্বাভাবিক অবস্থায় মাসিক চক্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মেয়েদের ডিম্বাশয়ের ফলিকল (follicle) গুলোর মধ্য থেকে একটি পরিপক্ক হয়, এক পর্যায়ে সেটি ফেটে যায় এবং সেখান থেকে ডিম্বানু বের হয়ে আসে। পলিসিস্টিক ওভারী সিনড্রোম এর ক্ষেত্রে যা ঘটে তা হলো, এই ফলিকলটি পুরোপুরি পরিপক্ক হতে পারে না, একটা পর্যায়ে তার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ডিম্বস্ফুটন হয় না। এই অপরিপক্ক ফলিকল গুলো ডিম্বাশয়ে থেকে যায় এবং দেখতে সিস্ট (ছোট্ট তরল ভর্তি থলে) এর মত দেখায়।

আমাদের থাইরয়েড গ্রন্থি (thyroid gland) যখন অতিরিক্ত কাজ করে তখন তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম (hyperthyroidism), আর যখন কম কাজ করে তখন বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম (hypothyroiddism). দুটিই অসুস্থতা, দুই ক্ষেত্রেই গর্ভধারণে সমস্যা হয়।

সাধারন অবস্থায় ৪৫ থেকে ৫০ বৎসর পর্যন্ত মেয়েরা প্রজননক্ষম থাকে অর্থাৎ ঐ বয়স পর্যন্ত তাদের ডিম্বস্ফুটন হয়। কিন্তু কোন কোন মেয়ের ক্ষেত্রে আগেই যেমন ৪০ বৎসরের আগেই ডিম্বস্ফুটন বন্ধ হয়ে যায়। এটাকে বলা হয় ‘প্রিম্যাচুয়্যর ওভারীয়ান ফেইলর’ (Premature ovarian failure)।


ডিম্বনালী ও জরায়ুর সমস্যা
শারীরিক মিলনের পর পুরুষের শুক্রানু মেয়েদের জরায়ু পার হয়ে ডিম্বনালীতে প্রবেশ করে। যদি সময়টা ডিম্বস্ফুটনের পরের সময়টা হয় অর্থাৎ সে সময় ডিম্বনালীতে ডিম্বানু থাকে, তাহলে ডিম্বাণুটি শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুটি ডিম্বনালী দিয়ে জরায়ুতে এসে, জরায়ুর ভিতরের দেয়ালে শিকড় গেড়ে বসে। সুতরাং ডিম্বনালী ও জরায়ুতে যদি কোন সমস্যা থাকে তবে গর্ভধারণে সমস্যা হয়।

যে সমস্ত কারনে ডিম্বনালী ও জরায়ুর সমস্যা হতে পারে

অপারেশনের পর শুকানো ক্ষতের (scar) কারনে – আমাদের শরীরের কোথাও যখন কাটা যায় বা অপারেশন করা হয়, কাটা অংশ যখন জোড়া লাগে বা ক্ষত পূরণ হয়, সে অংশ টুকু অসমান থাকে, যাকে স্কার (scar) বলা হয়। কোন কারনে যদি তলপেটে কোন অপারেশন হয়ে থাকে, অপারেশনের সময় যদি ডিম্বনালীতে কোন ক্ষত হয়, সেই শুকানো ক্ষতের কারনে ডিম্বনালীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। একই ভাবে জরায়ু মুখের (cervix) কোন অপারেশন বা ক্ষতের কারনেও সেখানে এমনটা হতে পারে।

জরায়ু মুখের শ্লেষ্মার (cervical mucus) সমস্যার কারনে – জরায়ু মুখে যে শ্লেষ্মা (এক ধরনের আঠাল তরল) থাকে, ডিম্বস্ফুটনের পর পরই তা পাতলা হতে শুরু করে যাতে শুক্রানু সহজে সাতার কেটে জরায়ুর ভিতরে ঢুকতে পারে। কোন কারনে যদি এই শ্লেষ্মা ঐ সময় পাতলা না হয়, আঠাল থেকে যায় তবে শুক্রানু ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে গর্ভধারণ হয় না।

ফাইব্রয়েড (fibroids) – ফাইব্রয়েড হলো জরায়ুর একধরনের টিউমার (tumour)। জরায়ুর দেয়ালের তিনটি স্তর থাকে, মাঝের স্তরটি হলো মাংশপেশির স্তর। ফাইব্রয়েড এই স্তরেই হয়, এবং ভিতরের দিকে ফুলে থাকে। সঠিক ভাবে জানা যায়নি ফাইব্রয়েড কি ভাবে গর্ভধারণে বাধা দেয়, তবে ধারনা করা হয় এটি নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুর ভিতরের স্তরে শিকড় গাড়তে বাধা দেয়।

এন্ডোমেট্রিয়সিস (endometriosis) – জরায়ুর দেয়ালের ভিতরের স্তরটিকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াম। কখনো কখনো এই এন্ডোমেট্রিয়াম জরায়ুর ভিতরেরে স্তরের বাইরে অন্যান্য জায়গায় তৈরি হতে পারে। ডিম্বাশয়ে হলে, এটি ঘন এবং আঠাল বলে ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয়, ডিম্বনালী বা আসে-পাশে হলে ডিম্বাণু চলাচলে বাধা দেয়।

তলপেটের প্রজননঅঙ্গ সমূহের অসুখ (pelvic inflamatory disease) – প্রজননতন্ত্রের উপরের অঙ্গসমূহ যেমন, জরায়ু, ডিম্বনালী এবং ডিম্বাশয়ে সংক্রমন (infection) হলে তাকে এই নামে অবহিত করা হয়। যৌনবাহিত (sexually transmitted disaese) রোগের কারনে এমনটা হতে পারে। এতে ডিম্বনালী ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বা সেখানে ক্ষত শুকিয়ে স্কার হতে পারে, যার কারনে নিষিক্ত ডিম্বাণু ডিম্বনালী হয়ে জরায়ুতে আসতে বাধা পায়।


মেয়েদের বন্ধ্যত্ব
করন (sterilisation)
অনেক মেয়েরাই আর সন্তান না চাইলে, জন্মনিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি হিসাবে স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরন করে থাকেন। এতে ডিম্বনালীকে সেলাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়, যাতে ডিম্বাণু জরায়ুতে আসতে না পারে। বন্ধ্যত্বকরন একবার করলে সাধারনত আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যায় না। এমনকি অপারেশন করেও যদি ডিম্বনালীকে আবার খুলে দেয়া হয়, তাও পুনরায় গর্ভবতী হওয়ার নিশ্চয়তা নাই।

ওষুধ এবং মাদকের ব্যবহার
কোন কোন ওষুধ এবং মাদকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বন্ধ্যত্ব হতে পারে। যেমন,

নন-স্ট্রয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামিটরি ড্রাগ (Non-steroidal anti-inflammatory drugs – NSAIDs) – এগুলো একধরনের ব্যথা এবং প্রদাহ (inflamation) কমানোর ওষুধ। যেমন, এস্পিরিন, আইবুপ্রুফেন ইত্যাদি। এগুলো দীর্ঘ দিন ধরে খেলে বা বেশি মাত্রায় খেলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।

কেমোথেরাপি (Chemotherapy) – ক্যান্সারের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ডিম্বাশয় তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে, ফলে ডিম্বস্ফুটন হয় না, গর্ভধারণও হয় না। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি সারাজীবনের জন্য হতে পারে।

মানসিক রোগে ব্যবহৃত ওষুধ – মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কিছু ওষুধের কারনে অস্থায়ী বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

স্পাইরনোলেক্টন (Spironolactone) – আমাদের শরীরের কোথাও পানি জমে গেলে সেটাকে বের করে দেয়ার জন্য এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি খাওয়া অবস্থায় এবং বন্ধ করে দেয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত গর্ভধারণ হয় না।

মাদক যেমন, গাজা, কোকেন – এসব সন্তান জন্মদান ক্ষমতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এসব খেলে ডিম্বস্ফুটনে সমস্যা হয়।


বয়স
মেয়েদের বন্ধ্যত্বের সাথে বয়সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মধ্য-তিরিশের পর থেকে সন্তান ধারনের সম্ভবনা কমতে থাকে। ৩৫ ঊর্ধ্ব মেয়েদের ক্ষেত্রে কোনরকম জন্মনিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা ছাড়া নিয়মিত শারীরিক মিলনে গর্ভধারণের সম্ভবনা শতকরা ৯৫ ভাগ। কিন্তু বয়স ৩৮ হয়ে গেলেই সে সম্ভবনা নেমে আসে শতকরা ৭৫ ভাগে।

পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারন

বীর্য সংক্রান্ত সমস্যা
পুরুষের বন্ধ্যত্বের মূল কারন বীর্যের সমস্যা। বীর্যের যে সমস্থ সমস্যার কারনে সন্তান জন্মদানে সমস্যা হয়, সেগুলো হলো

১) বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা কম থাকা – প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ৪০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন শুক্রানু থাকে। যদিও ডিম্বাণুকে একটি মাত্র শুক্রানু নিষিক্ত করে, কিন্তু প্রতি মিলিলিটার বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা ২০ মিলিয়নের কম হলে গর্ভধারণ হয় না। কারো কারো বীর্যে একেবারেই শুক্রানু থাকে না, আবার কারো কারো নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম থাকে। দুই ক্ষেত্রেই গর্ভধারণ হয় না।

২)শুক্রানুর চলন ক্ষমতা (mobility) কম থাকা – শুক্রাণু গুলো জরায়ু মুখ দিয়ে ঢুকে সাতার কেটে জরায়ু পার হয়ে ডিম্বনালীতে থাকা ডিম্বানুর কাছে যায়। যদি শুক্রানুর চলন ক্ষমতা কম থাকে তবে তারা সময়মত ডিম্বানুর কাছে পৌছাতে পারে না, ফলে গর্ভধারণ হয় না।

৩) শুক্রানুর গঠনে সমস্যা থাকা – শুক্রানুর গঠন যদি ঠিক না থাকে তবে তাদের চলনে এবং ডিম্বানুকে নিষিক্ত করনে সমস্যা হয়, ফলে গর্ভধারণ হয় না।

৪) অজ্ঞাত কারন – অনেক সময় উপরের কোন সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও গর্ভধারণ হয় না।


অণ্ডকোষের সমস্যা
পুরুষের অণ্ডকোষ থেকে শুক্রানু তৈরি হয় এবং সেখানে জমা থাকে। কোন কারনে যদি অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে সে ঠিকমত শুক্রানু তৈরি করতে পারে না। অতীতের কোন ঘটনা যার কারনে অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা হলো

  • অণ্ডকোষে কোন সংক্রমন (infection) হয়ে থাকলে
  • অণ্ডকোষে ক্যান্সারে হয়ে থাকলে
  • অণ্ডকোষে কোন অপারেশন হয়ে থাকলে
  • অণ্ডকোষের জন্মগত ত্রুটি থাকলে
  • একটি বা দুটি অণ্ডকোষই পেটের ভিতর থেকে না নেমে থাকলে (undescended testis)
  • অণ্ডকোষে আঘাত পেয়ে থাকলে
  • অণ্ডকোষের শুক্রানুবাহী নালির সমস্যা- অণ্ডকোষ থেকে তৈরি হওয়া শুক্রানু একটি সরু নালী দিয়ে বীর্যের সঙ্গে মিশে। এই নালীতে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে, অণ্ডকোষে শুক্রানু তৈরি হয় ঠিকই কিন্তু বীর্য রসের সঙ্গে মিশতে পারে না, ফলে বীর্যপাতের মধ্যে কোন শুক্রানু থাকে না। অণ্ডকোষে কোন সংক্রমন বা অপারেশন হয়ে থাকলে এমনটা হতে পারে।


পুরুষের বন্ধ্যত্ব
করন (sterilisation)
পুরুষদের জন্য স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরন পদ্ধতির নাম হলো ভেসেকটমি (vesectomy)। অণ্ডকোষ থেকে তৈরি হওয়া শুক্রানু যে সরু নালী দিয়ে বীর্যের সঙ্গে মিশে তার নাম হলো ভাস ডিফারেন্স (vas deferens)। অপারেশনের মাধ্যমে এটিকে কেটে সেলাই করে দিলে, শুক্রানু বীর্য রসের সঙ্গে মিশতে পারে না, ফলে বীর্যপাতের মধ্যে কোন শুক্রানু থাকে না। কেউ চাইলে পুনরায় অপারেশন করে এটিকে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব কিন্তু তাতে সবক্ষত্রে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ফিরে আসবে কিনা নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না।


বীর্যপাত সংক্রান্ত সমস্যা
কোন কোন পুরুষের বীর্যপাত সংক্রান্ত সমস্যার কারনে সন্তান জন্মদানে সমস্যা হতে পারে। বীর্যপাত সংক্রান্ত সমস্যা গুলো হলো

  • সময়ের আগে বীর্যস্খলন হয়ে যাওয়া (pre-mature ejaculation) – কারো কারো ক্ষেত্রে শারিরিক মিলনের সময় পুরুষাঙ্গ যোনিপথে প্রবেশের আগেই বীর্যপাত হয়ে যায়। ফলে গর্ভধারণের কোন সম্ভবনা থাকে না
  • উল্টো দিকে বীর্যপাত হওয়া (retrograde ejaculation)- সাধারন অবস্থায় বীর্যপাত পুরুষাঙ্গ দিয়ে শরীরের বাইরে হয়। কিন্তু কার কারো ক্ষেত্রে উল্টো দিকে অর্থাৎ মুত্র থলিতে বীর্যপাত হয়। ফলে গর্ভধারণ হয় না।


পুরুষ হরমোনের সমস্যা (hypogonadism)
টেসটোস্টেরন (testosterone) হলো এক ধরনের হরমোন, যা সকল পুরুষ বৈশিষ্ট এর জন্য দায়ী। এটি অণ্ডকোষে তৈরি হয় এবং শুক্রানু উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। কিছু কিছু কারনে অস্বাভাবিক কম পরিমানে টেসটোস্টেরন তৈরি হয়, একে বলে হাইপোগোনাডিজম (hypogonadism), এর ফলে শুক্রানু উৎপাদনে সমস্যা হয় এবং পরিণতিতে সন্তান হয় না। যে যে কারনে এমনটা হতে পারে

  • অণ্ডকোষে টিউমার (tumour) হলে
  • মাদক সেবন করলে
  • ক্লিনফেল্টারস সিনড্রোম (Klinefelter’s syndrome) – এটি একধরনের জীনগত অসুখ। সাধারন অবস্থায় ডিম্বানু এবং শুক্রানুর মিলনে যে ভ্রূণটি জন্ম নেয়, তার মধ্যে মায়ের একটি ক্রমজোম X এবং বাবার একটি ক্রমজোম X অথবা Y থাকে। দুটি মিলে ছেলে হলে হয় XY এবং মেয়ে হলে হয় XX। এই বিশেষ অসুখে মায়ের দিক থেকে দুটি X ক্রমজোম চলে আসে, ফলে ছেলের ক্ষেত্রে তার গঠন দাঁড়ায় XXY। এই বাড়তি একটা X ক্রমজোমের কারনে তার ভিতরে নানা রকমের অস্বাভাবিকতা থাকে, তার মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে না পারা একটি।


ওষুধ এবং মাদকের ব্যবহার
কোন কোন ওষুধ এবং মাদকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ছেলেদের বন্ধ্যত্ব হতে পারে। যেমন,

সালফাসেলাজিন (Sulfasalazine) – এটি এক ধরনের প্রদাহ (inflamation) কমানোর ওষুধ। আমাদের অন্ত্রে প্রদাহ জনিত এক ধরনের অসুখ হয়, যার নাম ক্রনস ডিজিজ (Crohn’s disease), তার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া বাতের (rheumatoid arthritis) চিকিৎসায়ও সালফাসেলাজিন ব্যবহার করা হয়। এটি সাময়িক ভাবে বন্ধ্যত্ব তৈরি করে, ওষুধ বন্ধ করে দিলে আবার ঠিক হয়ে যায়।

এনাবোলিক স্টেরয়েড (enabolic steroid)- এটি নিষিদ্ধ ওষুধ। খেলোয়াড়রা কেউ কেউ শরীরের পেশী গঠনের জন্য এটা ব্যবহার করে। বেশিদিন ব্যবহারে এর থেকে বন্ধ্যত্ব হতে পার

কেমোথেরাপি (Chemotherapy) – ক্যান্সারের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় শুক্রানু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষ কিছু হারবাল ওষুধ যেমন, ট্রিপ্টেরাইজিয়াম উইলফরদি (Tripterygium wilfordii), এই চাইনিজ হারবাল ওষুধ শুক্রানু উৎপাদন কমিয়ে দেয়, এমনকি অণ্ডকোষকেও ছোট করে ফেলে।

মাদক যেমন, গাজা, কোকেন – এসব সন্তান জন্মদান ক্ষমতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এসব খেলে শুক্রানুর সংখ্যা কমে যায়, গঠনেও সমস্যা হয়।

যে সমস্ত কারনে ছেলে, মেয়ে উভয়েরই বন্ধ্যত্ব হতে পারে

ওজন
অতিরক্ত মোটা হলে ছেলে, মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তান হতে সমস্যা হয়। অতিরক্ত মোটা হলে মেয়েদের ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা হয়, আবার ওজন বেশি কম হলেও ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা হয়।

যৌনবাহিত সংক্রমন (sexually transmitted infections)
কিছু কিছু যৌন রোগের কারনে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন, ক্লামাইডিয়া (chlamydia) হলে মেয়েদের ডিম্বনালী আক্রান্ত হতে পারে এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে সংক্রমন হতে পারে, দুটিই বন্ধ্যত্বের কারন।

ধূমপান
ধূমপান করলে অন্যান্য আরো অনেক সমস্যার পাশাপাশি ছেলে, মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

পেশাগত এবং পরিবেশগত কারন
পেশাগত এবং পরিবেশগত কারনে অনেক মানুষকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, কীটনাশক ইত্যাদির সংস্পর্শে আসতে হয়। এর কারনে ছেলে, মেয়ে উভয়েরই বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

মানসিক চাপ
স্বামী বা স্ত্রীর যে কোন একজনের মানিসিক চাপ তাদের দাম্পত্য জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এর কারনে যৌন ইচ্ছা কমে যায়, শারীরিক মিলন কম হয়, সঙ্গত কারনে সন্তান ধারনের সম্ভবনাও কমে যায়। মানসিক চাপ তীব্র হলে মেয়েদের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা হয় আর ছেলেদের ক্ষেত্রে শুক্রানু উৎপাদন কমে যায়।

About the author

Maya Expert Team