নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব বন্ধ্যাত্ব

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা
বন্ধ্যত্বের কিছু কিছু চিকিৎসায় জটিলতা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে – ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, যমজ বাচ্চা হওয়া, মানসিক চাপ, ইত্যাদি।

ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে

  • বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
  • ডায়রিয়া
  • পেটে ব্যথা
  • মাথা ব্যথা
  • হট ফ্লাশ (hot flash) – হঠাৎ করে শরীরের উপরের অংশে বিশেষ করে মুখে প্রচণ্ড গরম লাগতে থাকা, লাল হয়ে উঠা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে, ওষুধের সঙ্গে যে লিফলেট টি থাকে সেটা পড়ুন, অথবা আমাদের ‘মায়া আপা’ তে যোগাযোগ করে আপনার যা জানার জেনে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ওষুধের বিস্তারিত বিবরন আমাদের জানাতে হবে। ওষুধের বৈজ্ঞানিক নাম অর্থাৎ রাসায়নিক নামও উল্লেখ করতে হবে।


ডিম্বাশয়কে অতি-উদ্দীপনা প্রদান সংক্রান্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
যাদের ডিম্বস্ফুটনে সমস্যা থাকে, তাদের ডিম্বাশয়কে ওষুধের মাধ্যমে উদ্দীপ্ত করা হয় যেন ডিম্বাণু পরিপক্ক হতে পারে এবং ঠিকমত নির্গত হতে পারে। এই উদ্দীপনা বেশি হয়ে গেলে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার নাম হল ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেসন সিন্ড্রোম (Ovarian hyperstimulation syndrome – OHSS)। এক কোর্স এই ওষুধ গ্রহন করার পর এক তৃতীয়াংশের মধ্যে মৃদু আকারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শতকরা ১০ জনের মধ্যে মাঝারি বা তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে। মৃদু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে

  • বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
  • পেটে ব্যথা
  • পেটে গ্যাস হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ডায়রিয়া
  • ঘন প্রস্রাব

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তীব্র হলে সেটা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারন এর মধ্যে রয়েছে

  • থ্রম্বসিস (thrombosis) – রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেধে, রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা
  • লিভার এবং কিডনী অকার্যকর হয়ে পড়া
  • শ্বাস কষ্ট হওয়া

এই সংক্রান্ত যে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে, দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। হাসপাতালে আপনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (ectopic pregnancy)
স্বাভাবিক অবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর ভিতরের দেয়ালে প্রোথিত হয়। কখন কখন এটি জরায়ুর বাইরে প্রোথিত হয়ে যায়। বাইরে প্রোথিত হওয়ার শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এটি ডিম্বনালীতেই প্রোথিত হয়। এরকম অবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভপাত হয়ে যায়। যদি গর্ভপাত না হয়, ভ্রুনটি যখন বড় হতে শুরু করে তখন ডিম্বনালীটি ফেটে যায়, যার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের লক্ষন হলো

  • পেটে ব্যথা
  • যোনিপথে রক্তক্ষরন

এরকম কোন লক্ষন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। স্বাভাবিক অবস্থায় শতকরা ১ ভাগ ক্ষেত্রে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঘটনা ঘটতে পারে। গর্ভধারণের জন্য ওষুধ খেলে এটা বেড়ে হয়ে যায় শতকরা ৪ ভাগ। ডিম্বনালীতে আগেই কোন সমস্যা থাকলে এর সম্ভবনা আরো বেড়ে যায়।


তলপেটে সংক্রমন (pelvic infection)
কৃত্রিম গর্ভধারণের ক্ষেত্রে যখন ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু বেড় করে আনা হয়, তখন তলপেটে সংক্রমণের কিছুটা ঝুকি থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে তীব্র সংক্রমনের সম্ভবনা খুবই কম। প্রতি ৫০০ জনে ১ জনের এমনটা হতে পারে।


একাধিক গর্ভধারণ
সাধারন ভাবে মনে হতে পারে, মন্দ কি, একসঙ্গে একাধিক বাচ্চা হলেতো ভালই। তবে বাস্তবতা হলো, গর্ভাবস্থার ঝুকি একাধিক গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। মা এবং গর্ভস্থ সন্তান – সবারই ঝুকি বেড়ে যায়। বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার সবচেয়ে বড় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো একাধিক গর্ভধারণ। একাধিক গর্ভধারণের যে ঝুকি গুলো রয়েছে তা হলো

অপরিনত ও কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়া, যমজ হলে এই সম্ভবনা শতকরা ৫০ ভাগ, তিনটি বাচ্চা হলে সেই সম্ভবনা শতকরা ৯০ ভাগ। এর কারনে জন্মের ১ সপ্তাহের মধ্যে শিশু মৃত্যুর হার যমজদের মধ্যে ৫ গুন বেশি, আর তিনটি বাচ্চা হলে ৯ গুন বেশি

সেরিব্রাল পলসি (cerebral palsy) – মস্তিষ্কের এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাওয়া, যা কখন আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। যমজ হলে এর সম্ভবনা ৫ গুন বেশি, আর তিনটি বাচ্চা হলে ১৮ গুন বেশি

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ – একাধিক সন্তান গর্ভে থাকলে, শতকরা ২৫ জনের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়

গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস – একাধিক সন্তান গর্ভে থাকলে, গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস দেখা দেয়ার সম্ভবনা দুই থেকে তিন গুন বেশি

সমীক্ষা মতে যুক্তরাজ্যে যারা বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ‘দেহের বাইরে নিষিক্ত করনের পর জরায়ুতে প্রতিস্থা্পন’ অর্থাৎ IVF করেছেন, তাদের মধ্যে প্রতি ৪ জনে ১ জনের একাধিক সন্তান হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় যার হার প্রতি ৮০ জনে একজন।


মানসিক চাপ
বন্ধ্যত্ব দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়ন তৈরি করে। যারা একই রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বললে হয়তো আপনি উপকৃত হবেন। আমাদের ‘মায়া ভয়েস’ এ এই বিষয়ে আপানর ভাবনা গুলো তুলে ধরতে পারেন, সেখান থেকে অন্যদের ভাবনাও জানতে পারবেন।

দেখবেন, যারাই বন্ধ্যত্বের মত সমস্যার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তারা সবাইকে একধরনের মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, অনেকই এর জন্য মনোরোগ কাউন্সেলরের সহায়তা নিয়েছেন। আপনিও মনোরোগ কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে পারেন। এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে ‘মায়া আপা কি বলে’ তে ফোন করতে পারেন। মানসিক চাপ কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা অধ্যায় টি পড়ুন।

About the author

Maya Expert Team