নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব যোনিপথের স্বাস্থ্যবিধি

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)- কারণসমূহ

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)- কারণসমূহ
যোনিতে ক্ষত বা ঘা হচ্ছে ঈষ্ট সংক্রমণ যা যোনি ও ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত এক জাতীয় ছত্রাকের কারনে হয়ে থাকে। ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে এই ক্ষতের জন্যে ক্যানডিডা অ্যালবিকান নামক ছত্রাক দায়ী। যৌনাঙ্গের প্রাকৃতিক ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারনে ক্যানডিডা’র পরিমান বেড়ে যায় বলে মনে করা হয়, এর ফলে ক্ষতের লক্ষণ প্রকাশিত হয়। এটা রাসায়নিক পরিবর্তনের জন্যও হয়ে থাকতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা হলে। অথবা হরমোনগত পরিবর্তন, যেমন গর্ভবতী থাকাকালেও এরকম সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। নিম্নোক্ত বিষয় বা কারনের জন্য ক্ষতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়ে থাকেঃ

  • অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ
  • গর্ভাবস্থা
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • দুর্বল ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

১. অ্যান্টিবায়োটিক

এক তৃতীয়াংশ মহিলাদের ক্ষত হওয়ার পিছনে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণ দায়ী থাকে। কেননা যেসব প্রাকৃতিকভাবে সহাবস্থান করা ব্যাকটেরিয়ার কারনে যোনিতে ক্ষত সৃষ্টিকারী ছত্রাক তৈরি হওয়া সীমিত থাকে, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণের কারনে সেইসব ব্যাকটেরিয়া নিঃশেষ হয়ে যায়। যেকোন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। তবে ঈষ্ট সংক্রমণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ক্যানডিডা নামক ছত্রাক যোনিতে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।

২. গর্ভাবস্থা

গর্ভবতী থাকাকালে এস্ট্রোজেন (হরমোন যা নারীত্বের বড় নিয়ামক) – এর মাত্রার পরিবর্তনের কারনে ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি হয় এবং এ সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. ডায়াবেটিস

নিয়ন্ত্রিত থাকার পরিবর্তে রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা উঠানামা করলে অর্থাৎ ডায়াবেটিস দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকলে তা ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

৪. দুর্বল ইমিউন সিস্টেম

দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অক্ষম বা দুর্বল থাকার কারনেও যোনির ক্ষতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। উদাহরণ স্বরূপ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দমিয়ে রাখে এমন অবস্থার কথা বলা যেতে পারে, যা হলো এইচ আইভি বা এইডস-এ সংক্রমিত হওয়া অথবা কেমোথেরাপি গ্রহণ করা।

দেহের ইমিউন সিস্টেম, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তা ঐ অবস্থাতে ক্যানডিডা ছত্রাকের ব্যাপ্তি রোধ করতে অক্ষম থাকে।


জনশ্রুতি ও প্রকৃত কারণ
প্রকৃত বা অপ্রকৃত যেকোনভাবেই নিম্নোক্ত বিষয়সমূহকে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাব্য কারন হিসেবে সাধারনত মানুষ উল্লেখ করে থাকেঃ

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
এটা ঠিক যে কয়েক ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, বিশেষ করে মিশ্রিত পিল দ্বারা ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি সম্ভব। প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রক যা ডিম্বস্ফোটন (ovulation) বন্ধ করে, সেগুলোর প্রভাবে ক্ষততে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে।

তবে, এ বিষয়টি সমর্থন করে এমন প্রমাণ খুব কমই আছে।

আঁটোসাঁটো পোষাক
আঁটোসাঁটো বা শরীরের সাথে লেগে থাকে এমন কাপড় পরিধান ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এ বিষয়টি সমর্থনদানকারী প্রমাণ খুব শক্তিশালী নয়।

নারী যৌনাঙ্গের সঠিক পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি মেনে চলা
স্যানিটারি ন্যাপকিন (মাসিকের সময় ব্যবহৃত প্যাড), ট্যাম্পুন অথবা যোনিতে ব্যবহৃত ডুশ প্রভৃতি ব্যবহারের কারনে ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় – এ মতবাদের পক্ষে খুব কম প্রমান রয়েছে।

About the author

Maya Expert Team