নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব যোনিপথের স্বাস্থ্যবিধি

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)-চিকিৎসা

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)-চিকিৎসা
মৃদু যৌনাঙ্গে ক্ষতের জন্য স্বল্পমেয়াদী ঔষধ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যায়। এ ঔষধ ১ থেকে ৩ দিনের হয়ে থাকে। যদি লক্ষণের তীব্রতা আরো বাড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

ক্ষত বিরোধী ঔষধ নিম্নোক্ত রূপে পাওয়া যায়ঃ

জোলাপ- এটি যোনিতে উপস্থিত ক্যানডিডা ছত্রাক নিরাময় করে। পেশারি (জোলাপ) হচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি এক ধরণের পিল যা অ্যাপ্লিকেটর (প্রয়োগকারী) দ্বারা যোনিতে স্থাপন করা হয়।

ক্রীম বা মলম- যোনিমুখে এবং তার পারিপার্শ্বিক অংশে ক্যানডিডা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

ট্যাবলেট- মলম ও পেশারির পরিবর্তে এটি গ্রহণ করা যায়। এগুলো মুখে খেতে হয় এবং এ পদ্ধতিকে ওরাল (মুখে গৃহীত) চিকিৎসা পদ্ধতি বলে।

পেশারি এবং ওরাল উভয় চিকিৎসা পদ্ধতি ক্ষত নিরাময়ে সমানভাবে কার্যকর হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কি ধরণের ঔষধ ব্যবহৃত হয়েছে তা নির্বিশেষে প্রায় ৮০% মহিলার ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা সফল হয়।


চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা
সরাসরি ক্ষতের চিকিৎসার জন্য অনেক মহিলা ক্ষত বিরোধী পেশারি ও মলম ব্যবহার করে থাকেন। গর্ভবতী অথবা স্তন্যদানকালে পেশারি ও মলম বা ক্রীম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

ওরাল বা মুখ গৃহীত চিকিৎসা সহজতর এবং পেশারি  ও ক্রীম ব্যবহার থেকেও সুবিধাজনক। তবে এ চিকিৎসায় পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। উভয় পদ্ধতিই সমানভাবে কার্যকর।

ক্ষত বিরোধী ট্যাবলেট
ডাক্তাররা প্রধানত যে দুই ধরণের ক্ষত বিরোধী ট্যাবলেট দিয়ে থাকনে তাতে মূল উপাদান হিসেবে ফ্লুকোনাজোল(fluconazole) অথবা ইট্রাকোনাজল(itraconazole) নামক ছত্রাকবিরোধী ঔষধ অন্তর্ভূক্ত থাকে। যদি ক্রীম ব্যবহার করতে চান, তাহলে ছত্রাকবিরোধী ক্রীম বা মলমের পরিবর্তে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ক্ষত বিরোধী ট্যাবলেটের কারনে নিম্নোক্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারেঃ

  • বমি বমি ভাব
  • বমি করা
  • মাথা ব্যথা
  • ডায়রিয়া
  • পেট ফাপা বোধ হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পেট খারাপ হওয়া
  • ক্ষত বিরোধী পেশারি(জোলাপ)

ক্ষতের জন্য যেসব পেশারি প্রায়ই গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয় সেগুলোতে নিচের ছত্রাক বিরোধী ঔষধ উপাদান থাকেঃ

  • ক্লোট্রিমাজোল (clotrimazole)
  • ইকোনাজোল (econazole)
  • মাইকোনাজোল (miconazole)

যোনিতে স্থাপনকৃত পেশারি শরীরে শোষিত হয় না, তবে এগুলো নিচের ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারেঃ

  • ব্যবহারে অস্বস্তিবোধ
  • হালকা জ্বালাবোধ, লাল হওয়া, চুলকানি বা যন্ত্রণাবোধ হওয়া
  • অন্তর্বাসে সাদা অথবা সরসদৃশ দাগ ফেলে (এগুলো ধোয়ার মাধ্যমে দূর হয়ে যায়)
  • রাবারের কনডম ও ডায়াফ্রামের ধ্বংসসাধন করে, তাই এজাতীয় পেশারি ব্যবহারকালে অন্য রকমের জন্মবিরতি পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত যোনিতে পেশারি ব্যবহার উচিত নয়।

ফার্মেসিতে প্রাপ্ত ক্ষত বিরোধী চিকিৎসা
যোনির ক্ষতের চিকিৎসার জন্য কিছু ট্যাবলেট, ক্রীম এবং পেশারি ফার্মেসিতে সরাসরি কিনতে পাওয়া যায়, যা সংগ্রহের জন্য প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন পড়ে না।

ক্লোট্রিমাজোল সমৃদ্ধ ক্ষত প্রতিহতকারী পেশারি ও ক্রীম ফার্মেসিতে ব্যাপক হারে বিক্রি হয়।

ফ্লুকোনাজোলের মতো প্রেসক্রিপশন ছাড়া সরাসরি বিক্রয়যোগ্য ঔষধও ক্ষত নিরাময়ের জন্য একক ডোজ ট্যাবলেট হিসেবে ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।

আগে ক্ষতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এই চিকিৎসা কার্যকর হবে। তবে প্রথমবার আক্রান্ত হলে সরাসরি ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে চিকিৎসা করতে যাবেন না। প্রথমে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত ক্ষতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত সরাসরি বিক্রয়যোগ্য ঔষধ দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করা উচিত নয়।


গর্ভবতী অথবা স্তন্যদানকালে পরামর্শ
গর্ভবতী থাকাকালে অথবা শিশুকে স্তন্যদানকালে ক্ষততে আক্রান্ত হলে সরাসরি ফার্মেসি থেকে ক্ষত নিরাময়ের ঔষধ ক্রয়ের পরিবর্তে সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ বা উপদেশ নেওয়া উচিত।

এ সময় মুখে গৃহীত ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় না কারন তা আপনার গর্ভস্থ শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ সময় ক্লোট্রিমাজোল, ইকোনাজোল অথবা মাইকোনাজোল প্রভৃতি ক্ষত প্রতিহতকারী পেশারি গ্রহণের পরামর্শ সাধারণত দেয়া হয়।

গর্ভবতী হলে, পেশারি স্থাপনকালে বিশেষ সাবধাণতা অবলম্বন করবেন, কেননা এটি স্থাপনকালে সারভিক্স (জরায়ু গ্রীবা) ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সামান্য ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি হ্রাসের জন্য অ্যাপ্লিকেটরের পরিবর্তে হাতের আঙুলের সাহায্যে পেশারি স্থাপন করুন।

যোনিপথে যন্ত্রণাবোধ, চুলকানি প্রভৃতি উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে ক্ষতবিরোধী ক্রীম বা মলম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। যৌনাঙ্গের ক্ষতের পারিপার্শ্বিক অংশে সাধারন ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সাবানের পরিবর্তে ই৪৫ (E45) ক্রীম  ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বককে রক্ষা করার জন্য ক্রীম প্রয়োগের পর তা ধুয়ে তৈলাক্ত বা পিচ্ছিল ময়েশ্চারাইজার লাগান। তবে মনে রাখবেন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের কারনে কনডম দুর্বল বা অক্ষম হয়ে পড়ে।

About the author

Maya Expert Team