নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব যোনিপথের স্বাস্থ্যবিধি

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)- রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

যৌনাঙ্গে ঘা হওয়া (ভ্যাজিনাল ক্যান্ডিডায়াসিস)- রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যোনির ক্ষত সহজেই নির্ণয় করা যায়। আগে কখনো আপনার এ জাতীয় ক্ষত শনাক্ত করে থাকলে আপনি যদি তার লক্ষণ বুঝতে পারেন তাহলে কাছের ফার্মেসিতে থেকে ক্ষতবিরোধী ঔষধ সংগ্রহ করতে পারেন। আপনাকে লক্ষণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন করা হতে পারেঃ

  • আগে কখনো ক্ষত হয়েছে কী না
  • উপসর্গ প্রশমনের জন্য ইতোমধ্যে ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করা কোনো ঔষধ ব্যাবহার করেছেন কী না
  • আপনার মধ্যে ক্ষত হওয়ার প্রবণতা আছে কি না, যেমন, অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছেন কী না

যোনির ক্ষতের সাধারণ লক্ষণসমূহ, যেমন যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং ঘন সরের মত স্রাব প্রভৃতি দেখা গেলে আপনার এ ক্ষততে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরো পরীক্ষা করা
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে। নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের জন্য এ পরীক্ষা করা হয়ঃ

  • ইতোমধ্যে ক্ষত নিরাময়ের ঔষধ গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি
  • ক্ষত বারবার ফিরে আসতে (পুনারাবৃত্তি) থাকে
  • প্রকাশিত লক্ষণসমূহ বিশেষভাবে তীব্র হলে
  • যৌনবাহিত সংক্রমণে (এসটিআই) আক্রান্ত থাকলে বা তার সম্ভাবনা থাকলে

যেসব পরীক্ষা করানো হয়ে থাকে তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

যোনির নিঃসরণ সংগ্রহ (ভ্যাজাইনাল সোয়াব); কটন বাডের মতো তুলা যুক্ত কাঠি দ্বারা যোনির নিঃসৃত পদার্থের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর সে নমুনা পরীক্ষাগারে বা ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়।

নমুনা পরীক্ষার ফল থেকে আপনি ঈস্ট সংক্রমণে আক্রান্ত কি না তা জানা যায়। সেই সাথে এসব পরীক্ষা থেকে আপনি ট্রাইকোমোনিয়াসিস (trichomoniasis) এর মত যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত কি না তাও জানা যায়।

ক্ষত সৃষ্টিকারী ছত্রাকের ধরণও এ পরীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, তবে এ পরীক্ষা নিয়মিত করতে হয় না।

রক্ত পরীক্ষা
ক্ষততে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না তা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ডায়াবেটিস আক্রান্ত এমন সন্দেহ হয়ে থাকলে রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করানো হতে পারে। সম্ভাব্য কারণ উপস্থিত থাকলে এইচআইভি পরীক্ষাও করানো হতে পারে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত থাকলে অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ, যেমন পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া প্রভৃতি দেখা যেতে পারে।

পিএইচ(অম্ল ও ক্ষার) এর পরিমাণ বা মাত্রা
যদি ক্ষতের পুনরাবত্তি ঘটে এবং চিকিৎসা গ্রহণ অসফল হয়, তাহলে যোনির  পিএইচ (এসিড/ অ্যালকালিনের ভারসাম্য) মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে। এ পরীক্ষার জন্য যোনির নিঃসৃত পদার্থ তুলা দ্বারা সংগ্রহ করা হয় এবং এক ধরণের বিশেষ কাগজে নমুনা পদার্থ মোছা হয়। পিএইচ এর মাত্রার উপর নির্ভর করে কাগজের রং পরিবর্তিত হয়।

পিএইচ মাত্রা ৪ – ৪.৫ হলো স্বাভাবিক। ৪.৫ এর অধিক মাত্রার পিএইচ ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস নামক একটি প্রচলিত যৌন সংক্রমণকে নির্দেশ করে।

যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই)
যোনির ক্ষত যৌনবাহিত সংক্রমণের অন্তর্ভূক্ত নয়। সঙ্গীর মধ্যে লক্ষণ প্রকাশিত না হলে তার ক্ষেত্রে পরীক্ষা বা চিকিৎসা গ্রহণ প্রযোজ্য নয়।

About the author

Maya Expert Team