প্রসব পরবর্তী যত্ন বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন

বাচ্চাকে পরিস্কার ও গোসল করানো

Written by Maya Expert Team

আপনার বাচ্চাকে প্রতিদিন গোসল না করালেও তার মুখ, ঘাড়, হাত, নিতম্বের ভাজ ও যৌনাঙ্গের চারপাশ প্রতিদিন ভালোভাবে পরস্কার করা উচিত।

এমন একটা সময় ঠিক করুন যখন আপনার বাচ্চা জেগে থাকে ও শান্তশিষ্ট হয়ে থাকে এবং ঘরের তাপমাত্রা যেন উষ্ণ থাকে। প্রয়োজনীয় সব কিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। আপনার এক গামলা গরমপানি, একটি তোয়ালে, তুলা, একটি পরিস্কার ন্যাপি এবং, ক্ষেত্রবিশেষে, পরিস্কার কাপড় প্রয়োজন হবে।

নিচের ধাপে ধাপে দেয়া নির্দেশনাটি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারেঃ

  • বাচ্চাকে আপনার হাঁটুর ওপর রাখুন বা একটি ম্যাটে শুইয়ে দিন এবং ন্যাপি ছাড়া তার পরনের সবকিছু খুলে ফেলে তাকে একটি তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিন।
  • একটুকরো তুলো পানিতে ভিজিয়ে নিন (খেয়াল রাখুন যাতে তুলোর টুকরোটি বেশি ভিজে না যায়) এবং বাচ্চার চোখের চারপাশ থেকে নাক পর্যন্ত আস্তে আস্তে মুছে দিন। প্রতি চোখের জন্য আলাদা তুলো ব্যবহার করুন।
  • পরিস্কার তুলো দিয়ে বাচ্চার কানের চারপাশ পরিস্কার করে দিন, কিন্তু কানের ভিতরের দিকে মুছবেন না। বাচ্চার কান পরিস্কার করার জন্য কক্ষনো কটন বাড ব্যবহার করবেন না। শিশুর মুখ, ঘাড় এবং হাত একইভাবে পরিস্কার করে দিন এবং তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে মুছে দিন।
  • ন্যাপি খুলে ফেলুন এবং নিতম্বের ভাজ ও যৌনাঙ্গের চারপাশ পরিস্কার তুলা ও গরম পানি দিয়ে পরিস্কার করে দিন। এরপর তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে চামড়ার ভাঁজের ভিতর পর্যন্ত শুকনো করে মুছে দিন এবং নতুন একটি ন্যাপি পরিয়ে দিন।
  • বাচ্চাকে পরিস্কার করানোর সময় তার সাথে গল্প করলে সে শান্ত হয়ে থাকে। বাচ্চার সাথে যত বেশি কথা বলবেন তত বেশি সে আপনার কথায় অভ্যস্ত হবে এবং আপনার কথা বুঝতে শুরু করবে।

গোসল করানো

বাচ্চাদেরকে সপ্তাহে মাত্র দুইদিন বা তিনদিন গোসল দেয়াই যথেষ্ট, তবে আপনার বাচ্চার ভাল লাগলে তাকে রোজ গোসল দিন।

খাওয়ানোর ঠিক পর পর বা সে যখন ক্ষুধার্ত বা ক্লান্ত থাকে তখন বাচ্চাকে গোসল করাবেন না, এবং যখন করাবেন তখন ঘরের তাপমাত্রা যেন উষ্ণ থাকে তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনীয় সব কিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখুনঃ

  • একটি গোসল করানোর গামলা ভর্তি হালকা গরম পানি, দুটি তোয়ালে (যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য!), গোসল করানোর জন্য বিশেষ ধরনের তরল পদার্থ (baby bath liquid), একটি পরিস্কার ন্যাপি, পরিস্কার কাপড় এবং তুলা।
  • পানি যেন হালকা গরম হয়। আপনার কব্জি অথবা কনুই দিয়ে পানির তাপমাত্রা পরিক্ষা করুন এবং ঠাণ্ডা পানি ও গরম পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যেন পানি কোথাও বেশি গরম না থাকে।
  • বাচ্চাকে হাঁটুর উপর রেখে উপরে দেয়া পদ্ধতি অনুযায়ী তার মুখ পরিস্কার করে দিন।
  • এরপর তার চুল বাচ্চাদের জন্য তৈরি বিশেষ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে দিন এবং এবং বাচ্চাকে গামলার উপর ধরে ভালোভাবে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • চুল মুছে দেয়ার পর তার ন্যাপি খুলে ফেলুন এবং কোন ময়লা থাকলে তা মুছে দিন।
  • এবার আস্তে করে বাচ্চাকে গামলার পানিতে নামান। এসময় একহাত দিয়ে তার বগলের কাছে এমনভাবে ধরুন যাতে তার মাথা ও ঘাড় অবলম্বন পায়।
  • বাচ্চার মাথা যেন কখনই পানির কাছে না আসে। অন্য হাতে অল্প করে পানি নিয়ে বাচ্চার উপর আস্তে আস্তে ঢালুন যেন পানি না ছিটে ।
  • আপনার শিশুকে কখনই গোসলের সময় একা রেখে যাবেন না, এমনকি এক সেকেন্ডের জন্যেও না।
  • বাচ্চাকে পানি থেকে তুলে নিন এবং ভালোভাবে শরীর মুছে দিন, বিশেষ করে চামড়ার ভাজগুলোতে যেন পানি আটকে না থাকে তা খেয়াল রাখুন।

বাচ্চাকে তেল বা ক্রিম মাখানোর জন্য এই সময়টি ভাল, তবে পানিজাতীয় ক্রিম (aqueous cream) ব্যবহার করবেন না। বাদামের তেল আছে এমন ক্রিম ব্যবহার করবেন না, কারন কোন কোন বাচ্চার এতে অ্যালার্জি থাকে। অনেক শিশু তেল দিয়ে মালিশ করা পছন্দ করে এবং এতে তাদের ঘুমাতে বা আরাম করতে সুবিধা হয়। আপনার হাত ও বাচ্চা এসময় তেলে পিচ্ছিল হয়ে থাকে বলে এসময় তাকে মাটিতে একটি তোয়ালে বিছিয়ে শুইয়ে রাখা সবেচেয়ে ভাল।

যদি আপনার বাচ্চা পানি ভয় পায় এবং কান্নাকাটি করে তাহলে দুজনে একসাথে গোসল করে দেখতে পারেন। পানি যেন বেশি গরম না হয় তা নিশ্চিত করুন। এভাবে গোসল করলে আপনি পানিতে নামার সময় ও পানি থেকে ওঠার সময় কেউ আপনার বাচ্চাকে ধরে থাকলে ভাল হয়।

About the author

Maya Expert Team