দাঁতের যত্নবিধি বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন

শিশুর নিয়মিত পরীক্ষা ও যত্ন

Written by Maya Expert Team

জন্মের পরপরই জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন এমন কোন অসুখ শিশুর আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরো বিশদভাবে অনুরূপ একটি পরীক্ষা করা হয়। এতে আপনার শিশুর হৃৎপিণ্ড, কোমর, চোখ (এবং ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ) পরীক্ষা বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়। পাশাপাশি সার্বিক একটি সাধারণ শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়। সাধারণত একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্রসবোত্তর সেবায় প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত কোন নার্স এই পরীক্ষাগুলো করে থাকেন। হাসপাতাল ছাড়ার আগেই এগুলো করাতে হবে এমন নয়।

ভিটামিন ‘কে’

সহজে রক্তপাতের ঝুঁকি কমাতে, রক্ত জমাট বাঁধার সুবিধার জন্য আমাদের শরীরের ভিটামিন ‘কে’-এর প্রয়োজন হয়। কোন কোন নবজাতকের দেহে ভিটামিন ‘কে’ খুব সামান্য থাকে, ফলে তাদের খুব বিরল এক ধরনের রক্তপাতজনিত রোগ দেখা যায় যার ফলে তাদের মস্তিষ্কে বিপদজনক রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে। এটা প্রতিরোধ করার জন্য আপনার শিশুকে ভিটামিন ‘কে’-ইঞ্জেকশান দেয়া হতে পারে। শিশুকে ইঞ্জেকশান দেয়াতে না চাইলে মুখে খাওয়ার উপযোগী ভিটামিন ‘কে’- ও পাওয়া যায়।

নবজাতকের শ্রবণশক্তির পরীক্ষা

কিছু শিশু শ্রবণশক্তির ঘাটতি নিয়ে জন্মায়। আপনার শিশুর শ্রবণশক্তি যাচাইয়ের জন্য একটি দ্রুত এবং সহজ পরীক্ষা করা হবে। শিশুর শ্রবণশক্তির সমস্যা আগে থেকেই জানা থাকলে শিশু এবং তাদের বাবা-মার প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রথম থেকেই পাবার সুযোগ থাকে যা শিশুর ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

বজাতকের গোড়ালিতে পিন ফুটিয়ে রক্ত পরীক্ষা (Heel prick test)

শিশুর বয়স যখন পাঁচ থেকে আট দিন তখন ডাক্তার বা নার্স আপনার শিশুর পায়ের গোড়ালি থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন। খুব বিরল কিন্তু গুরুতর কিছু রোগের পরীক্ষার জন্য তা ব্যবহার করা হয়। এই রোগ গুলো হলো – বিপাকক্রিয়ার রোগ ফেনাইলকেটোনুরিয়া (phenylketonuria -PKU); সিস্টিক ফাইব্রোসিস (cystic fibrosis); সিকল সেল ডিসর্ডার (sickle cell disorders); এবং জন্মগত থাইরয়েড হরমোন ঘাটতি (congenital hypothyroidism)। কোন কোন শিশুর বংশগত বিপাকজনিক জটিলতা ‘মিডিয়াম চেইন এসাইল ডিহাইড্রোজেনিস ডেফিসিয়েন্সি’ (MCADD)-এর পরীক্ষাও করা হয়। উন্নত দেশে এই পরীক্ষা গুলো নিয়মিত হলেও আমাদের দেশে এখনও সেভাবে প্রচলিত নয়।

হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’

কেউ কেউ কোন রকম লক্ষণ ছাড়াই শরীরে হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস বয়ে বেড়াতে পারে। গর্ভবতি মা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্ত হলে তার থেকে সন্তানের শরীরেও এটা আসতে পারে। শিশু হয়ত অসুস্থ হবে না কিন্তু তার এই জীবানুর বাহক হবার এবং ভবিষ্যতে লিভারের অসুখে আক্রান্ত হবার জোরালো সম্ভাবনা থাকবে।

হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়েদের শিশুরা যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সে জন্য তাদেরকে প্রতিষেধক টিকার একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।

আপনার হেপাটাইটিস বি থাকলে জন্মের পরপর, এক মাস বয়সে এবং ১২ মাস বয়সে আপনার শিশুকে হেপাটাইটিস বি এর টিকা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হবে। ১২ মাসের মাথায় পরীক্ষা করে দেখতে হবে আপনার শিশুর উপর প্রতিষেধক টিকা ঠিকভাবে কাজ করেছে কি না। হেপাটাইটিস ‘বি’এর টিকা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানুন। আপনার হেপাটাইটিস ‘সি’ থাকলে সন্তানের দেহেও এর সংক্রমনের কিছুটা সম্ভাবনা আছে। এই জন্য উপযুক্ত সময়ে আপনার শিশুকে পরীক্ষা করতে হবে।

শিশুর বেড়ে ওঠার সময়টাতে কীভাবে তার যত্ন নেবেন সে সম্পর্কে জানুন, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে বিশদ জানুন এবং জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তার বেড়ে ওঠা সম্পর্কেও জানুন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment