টিকা বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন

হেপাটাইটিস বি টিকা

যা প্রতিরোধ করেঃ হেপাটাইটিস বি

কাদের এই টিকা গ্রহণ প্রয়োজনঃ হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হওয়ার উচ ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও আক্রান্ত মা থেকে জন্ম নেয়া শিশু।

যখন টিকা দিতে হয়ঃ যেকোন বয়সে এই টিকা গ্রহণ করা যায়। ১২ মাসের মধ্যে ৪টি ডোজ দেয়া হয়।  আক্রান্ত মা থেকে জন্ম নেয়া শিশুকে জন্মের সময়, ২ মাস ও ১ বছর বয়সে টিকা প্রদান করা হয়।

হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসাঃ

যদি আপনি তীব্র (স্বল্প-মেয়াদী) হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। শরীরে প্রকাশিত লক্ষণ অনুযায়ী আপনাকে কিছু ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হতে পারে। সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম, ভালোভাবে ও নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও মদ্যপান পরিহারের পরামর্শও দেয়া হতে পারে।

অধিকাংশ মানুষই কয়েক মাসের মধ্যে উপসর্গ বা লক্ষণমুক্ত হয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং সেক্ষেত্রে ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদী) হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

পরীক্ষাতে যদি আপনার হেপাটাইটিস বি-তে সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ মেলে, তাহলে আপনাকে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও শারীরিক চেক-আপের পরামর্শ দেয়া হতে পারে।

ক্রনিক (দীর্ঘ মেয়াদী) হেপাটাইটিস

ক্রনিক হেপাটাইটিস সংক্রমণ নিরাময়ের জন্য ২ ধরনের চিকিৎসা আছেঃ

ইন্টারফেরন ও

অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগস

ইন্টারফেরন

ইন্টারফেরন এক ধরণের প্রোটিন যা ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়। কোষের ভেতর বৃদ্ধি হয় এমন ভাইরাসকে এই প্রোটিন প্রতিরোধ করে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস এর কারণে যকৃতের অধিকতর ক্ষতি ব্যাহত করার জন্য ইন্টারফেরন ইনেজকশন প্রদান করা হয়।

পেগিলেটেড ইন্টারফেরন (সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধরণ) সপ্তাহে একবার প্রদান করা হয়

ইন্টারফেরন আলফা সপ্তাহে ৩ বার প্রদান করা হয়।

কীভাবে নিজে ইনজেকশন দিতে পারবেন তা আপনার ডাক্তার দেখিয়ে দিবেন।

ইন্টারফেরন ইনজেকশন প্রায়ই ফ্লু এর মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং এটি বিশেষ করে চিকিৎসা গ্রহনের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা দেয়। এ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সমূহ জটিল আকার ধারণ করতে পারে, তাই এ চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সম্ভাব্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার জন্য আপনার ডাক্তার নিয়মিত আপনাকে পর্যবেক্ষণ করবেন।

অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগস

অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগসও শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বৃদ্ধি প্রতিহত করে। অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগগুলো নিম্নে দেয়া হলঃ

ল্যামিভুডিন

টেনোফভির

ইন্টেকভির ও

এডেফভির

এই ড্রাগগুলো কখনো কখনো সংযুক্তভাবে (যেমন টেনোফভির ও ল্যামিভুডিন একসাথে করে) প্রদান করা হয়। দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার প্রধান সমস্যা হলো শরীরের ভাইরাস ড্রাগ প্রতিরোধী (resistant) হয়ে পড়ে। ৬০% কেস বা ঘটনায় ৩ বছর চিকিৎসা গ্রহণের পর ভাইরাস ল্যামিভুডিন প্রতিরোধী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই কারণে চিকিৎসা ধারা সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কেননা চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ঔষধ গ্রহণ বন্ধ করে দিলে তা ভাইরাসের অনুকূলে চলে যায়। কখন ঔষধ গ্রহণ বন্ধ করবেন এ সম্পর্কে সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এ ড্রাগগুলো দ্বারা সৃষ্ট পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো হল মাথা ব্যথা, অবসাদ (ক্লান্তি), মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও পেট ফাঁপা ইত্যাদি।

About the author

Maya Expert Team