আপনার শিশুকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করুন বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শিশুর যত্ন

পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের নিরাপত্তা

বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের বাচ্চাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন। যুক্তরাজ্যে এক সমীক্ষা মতে প্রতি বছর প্রায় ৫০০,০০০ শিশু তাদের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যায়।

খেলাধুলা ও কৌতূহল শিশুদের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য। বাচ্চাদেরকে অতিরিক্ত আগলে থাকা ঠিক না। বাচ্চাদের ছোটখাট আঘাত পাওয়াটা এড়ানো যাবেনা, কিন্তু তাদেরকে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য কয়েকটা কাজ করতে পারেন।

ঘরে আগুন লাগলে

যদি আপনার বাড়িতে আগুন লাগে তাহলে আপনি ও আপনার শিশু বিষাক্ত ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস নিয়ে ফেলতে পারেন। বিশেষ করে রাত্রিবেলা, যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, আগুন লাগলে এটা আরও বিপদজনক হতে পারে।

রাত্রে যতগুলো সম্ভব বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করে শুতে যান, এবং সব দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান, যেন আগুল লাগলেও তা একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যদি আপনি ধূমপান করেন তাহলে সিগারেট ভাল করে নিভিয়ে ফেলুন।

সম্ভব হলে বাড়ির প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার অ্যালার্ম লাগিয়ে নিন।

আগুন লাগলে তা থেকে কিভাবে বাইরে বেরিয়ে আসবেন তা প্র্যাকটিস করুন, যেন অ্যালার্ম বাজলে কি করবেন সে বিষয়ে আপনার পরিস্কার ধারনা থাকে।

আপনার স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আপনাকে এ ব্যাপারে সঠিক উপদেশ দিতে পারবে।

গাড়িতে থাকার সময়

আপনার বাচ্চার জন্য উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী সঠিক মাপে তৈরি বিশেষ ধরনের কার সিট (child car seat) ব্যবহার করুন।

কার সিট কেনার আগে সেটি আপনার গাড়িতে লাগিয়ে পরিক্ষা করে নিন। সিটটি আপনার গাড়িতে ঠিকভাবে ফিট না হলে দুর্ঘটনা ঘটলে এটি বিশেষ কাজে আসবেনা।

সিটটি গাড়িতে ঠিকভাবে লাগিয়ে নিন এবং আপনার শিশুকে সেখানে বসিয়ে ভালোভাবে সিটের সঙ্গে বেঁধে দিন।

এয়ারব্যাগ আছে এমন গাড়ির সামনের সিটে পেছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে হয় এমন বেবি সিট ব্যবহার করা বিপদজনক, এবং সামনের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতে হয় এমন বেবি সিট বাচ্চাদের উপযুক্ত নয়। পাঁচ বছরের কম বয়েসি সব বাচ্চার জন্য গাড়ির পেছনের সিট ব্যবহার করুন।

সেকেন্ডহ্যান্ড বেবি সিট কিনবেন না। এগুলো কোন দুর্ঘটনায় আংশিক ভাবে নষ্ট হয়ে থাকতে পারে অথবা এর কোন কোন যন্ত্রাংশ এবং নির্দেশনা নাও থাকতে পারে।অনেক সময়ই এগুলো আপনার শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী হয় না, এবং গাড়িতে ঠিকভাবে লাগানো যায় না।

আপনার বাচ্চাকে কখনই গাড়িতে একা রেখে যাবেন না। গরমকালে গাড়ির ভেতর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বাচ্চারা গাড়ির জানালা বা দরজার বিভিন্ন সুইচ ও সিগারেট লাইটার নিয়ে খেলা করতে পারে। গাড়ির ইগনিশনে চাবি রেখে যাওয়া বিশেষ বিপদজনক।

গোসলের সময় পানিতে ছ্যাকা লাগা

গোসলের গরম পানিতে ছ্যাকা লেগে শিশু মারাত্মক জখম হতে পারে। এমনকি শিশু এতে মারাও যেতে পারে। এছাড়াও সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চারা গরম পানির ট্যাপ নিয়ে খেলা করতে গিয়ে নিজেকে ও তার সাথে গোসল করে এমন অন্য বাচ্চাকেও আহত করতে পারে।

পাঁচ বছরের কম বয়সি বাচ্চাকে গোসলখানায় বা গোসল করানোর গামলায় একা রেখে এক মুহূর্তের জন্যও কোথাও যাবেন না।

পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাথরুমের গরম পানির কলে থার্মস্ট্যাটিক মিক্সিং ভাল্ভ (thermostatic mixing valve) লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে বাচ্চাকে অতিরিক্ত গরম পানির তাপ থেকে বাঁচাতে পারবেন।

বাথটাবে প্রথমে ঠাণ্ডাপানি ঢালুন, তারপর গরম পানি মেশান। বাচ্চাকে পানিতে নামানোর আগে সবসময় আপনার কনুই ডুবিয়ে পানি কতটা গরম তা দেখে নিন। গোসলের পানি বেশি গরম বা ঠাণ্ডা কোনটাই হওয়া উচিত নয়।

পুড়ে যাওয়া বা ছ্যাকা লাগা

ঘর উষ্ণ করার জন্য যদি হিটার ব্যবহার করে থাকেন তবে হিটারের উপর ফায়ার গার্ড লাগিয়ে নিন।

বাচ্চাদের হাতের নাগালের মধ্যে গরম পানীয় রাখবেন না। বাচ্চারা নিচু জায়গায় বা মেঝেতে রাখা কাপ বা বা মগ হাতে নিয়ে তার ভেতরে রাখা গরম জিনিস নিজের গায়ে ফেলে দিতে পারে।

শ্বাসরোধ হওয়া

যে কোন ধরনের খেলনার সাথে থাকা ফিতা যেন বেশি বড় না হয়, তা নিশ্চিত করুন, এবং আপনার বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়লে সেগুলো তার কাছ থেকে সরিয়ে রাখুন।

বাচ্চার খাটের পাশে লম্বা ফিতা বা কর্ডযুক্ত কোনকিছু (যেমনঃ ব্যাগ) ঝুলিয়ে রাখবেন না।

জানালার পর্দা বা ব্লাইন্ডের কর্ড কেটে ছোট করে ফেলুন অথবা এমনভাবে বেঁধে রাখুন যেন আপনার নবজাতক বা সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চা তার নাগাল না পায়।

বিষক্রিয়া

ঘরের ভেতর খোলা আগুন বা গ্যাসের চুলার মত কোন কিছু থাকলে সেখানে কার্বনমনোক্সাইড গ্যাস তৈরি হতে পারে। কার্বনমনোক্সাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস। আপনি এটি দেখতে পাবেন না, এটির কোন স্বাদ পাবেন না, এবং এর কোন গন্ধ নেই। আপনার ঘরের কাজে ব্যবহৃত জিনিসগুলো মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করান এবং ঘরের ভেন্টিলেশন ঠিক মত কাজ করছে কিনা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে অ্যালার্ম লাগিয়ে নিন।

কিছু জিনিস যেমন কয়েক ধরনের বোতলের মুখ, ট্যাবলেটের পাতা এবং সিগারেট লাইটার, যেগুলো বাচ্চাদের ব্যবহার করতে পারার কথা না। কিন্তু কিন্তু কিছু বাচ্চা ব্যবহার করতে পারে।এগু্লো থেকে যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরের ধোয়ামোছার কাজে ব্যবহৃত ক্লিনিং প্রোডাক্ট (যেমনঃ ফিনাইল)-সহ সব ধরনের রাসায়নিক জিনিসপত্র শিশুর দৃষ্টিসীমা ও নাগালের বাইরে রাখুন অথবা তালাবদ্ধ করে রাখুন।

ঘরের নিরাপত্তা

যদি আপনি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং সেখানে কোন কারনে আপনার বাচ্চার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন তাহলে আপনার বাড়িওয়ালা বা হাউজিং এসোসিয়েশনের লোকজনের সাথে কথা বলুন।

আরও তথ্য জানতে

নবজাতক শিশুর নিরাপত্তা

সদ্য হাঁটতে শেখা ও বড় শিশুদের নিরাপত্তা

কি করে নিরাপদে থাকতে হয় শিশুকে তা শিখিয়ে দিন

About the author

Maya Expert Team