বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

বাচ্চার জ্বর খুব বেশি হলে কী করবেন

Written by Maya Expert Team

শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৫° সে. (৯৯.৫ ফারেনহাইট) হলে তাকে জ্বর বলা হয়। শিশুদের জ্বর হওয়া সাধারন একটি ব্যাপার এবং এটি খুব বেশি তীব্র হয় না।

যদি আপনার শিশুর কপালে বা গালে হাত দিলে গরম লাগে এবং তাদের চেহারা লাল হয়ে থাকে তাহলে হয়ত তার জ্বর এসেছে। আপনি থার্মোমিটার দিয়েও শিশুর শরীরের তাপমাত্রা মাপতে পারেন। বগলে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপলে ৩৬.৪° সে. (৯৮.৪° ফারেনহাইট) হচ্ছে স্বাভাবিক তাপমাত্রা। এটি সামান্য কমবেশি হতে পারে।

আপনার দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। আপনি মায়া ভয়েসে  গিয়ে অন্যান্য মায়েদের কাছে থেকেও পরামর্শ চাইতে পারেন। যদি এতেও আপনার দুশ্চিন্তা না কমে, বা যদি আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন তাহলে বাচ্চাকে দ্রুত কাছের হাসপাতালের ইমারজেন্সি রুমে নিয়ে যান।

নিচের অবস্থাগুলোতে আপনার ডাক্তার বা নার্সের সাথে যোগাযোগ করুন।

  • উচ্চ তপমাত্রার সাথে সাথে যদি আপনার শিশুর অন্য কোন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
  • আপনার শিশুর (বয়স তিন মাসের কম হলে) তাপমাত্রা ৩৮° সে. (১০১° ফারেনহাইট) বা তার বেশি হলে।
  • আপনার শিশুর (বয়স তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে হলে) তাপমাত্রা ৩৯° সে. (১০২° ফারেনহাইট) বা তার বেশি হলে।

ডাক্তার আপনার শিশুর জ্বরের কারন নির্ণয় করতে না পারলে, পরীক্ষার জন্য শিশুর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করতে বলতে পারেন।

জ্বরের চিকিৎসা কীভাবে করবেন

আপনার শিশুর শরীরে পানির পরিমান ঠিক রাখাটা জরুরি। আপনার শিশুর তেষ্টা না পেলেও তাকে মাঝে মধ্যে অল্প করে হলেও তরল কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করুন যেন তাদের শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

জ্বর এবং ব্যাথার জন্য প্যারাসিটামল (paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) খেতে দিন। ওষুধের ডোজের নির্দেশনা সতর্কতার সাথে মেনে চলুন।

আপনার শিশুর কষ্ট কমানোর জন্য নিচের নির্দেশনাগুলো মেনে চলুনঃ

  • বাচ্চাকে প্রচুর পরিমানে স্বচ্ছ তরল খাবার খেতে দিন (cool clear fluids)
  • বাচ্চার ন্যাপি বা ভেস্ট এবং প্যান্ট ছাড়া সব জামাকাপড় খুলে দিন।
  • প্রয়োজনে বাচ্চাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিন।
  • জানালা খুলে বা বন্ধ করে দিয়ে এবং এ.সি. বা হিটিং অ্যাডজাস্ট করে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং ঘরে আরামদায়ক তাপমাত্রা (১৮° সে. বা ৬৫° ফারেনহাইট) বজায় রাখুন।

যদি শিশুকে কাহিল মনে হয় বা তার কষ্ট হচ্ছে মনে হয় তাহলে তাকে প্যারাসিটামল (paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) খেতে দিন। তাকে এ দুটি এক সাথে দেয়া যাবে না, কিন্তু একটি ওষুধ খাইয়ে কাজ না হলে তাকে অন্য ওষুধ খাইয়ে দেখুন। অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশনা দেখে বাচ্চার বয়স অনুযায়ী ওষুধটি কি পরিমাণে কতক্ষণ পর পর খাওয়াতে হবে তা ঠিক করুন।

ঘরে থার্মোমিটার থাকলে সেটি শিশুর বগলে দিয়ে তার তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন। যদি তা ৪০°-৪১° সে. (১০৪°-১০৫° ফারেনহাইট) হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

বিভিন্ন ধরনের থার্মোমিটার

  1. ডিজিটাল থার্মোমিটারঃ ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করা সুবিধাজনক, এতে সঠিক তাপমাত্রা পাওয়া যায় এবং বগলে দিয়ে ব্যবহার করা যায় (৫ বছরের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা সবসময় তার বগলে থার্মোমিটার দিয়ে মাপুন)। থার্মোমিটারটি বাচ্চার বগলে দিয়ে সেটি ব্যবহার করার নির্দেশনায় বলে দেয়া সময় অনুযায়ী তার বাহু তার শরীরের সাথে চেপে ধরে থাকুন।
  2. কান বা টিম্পানিক (tympanic) থার্মোমিটারঃ কানে ব্যবহার করার থার্মোমিটার শিশুর কানে দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হয়। এগুলো এক সেকেন্ডে বাচ্চার তাপমাত্রা নির্ণয় করতে পারে এবং এতে বাচ্চার কোন অসুবিধা হয় না, তবে এগুলোর দাম অনেক বেশি। কানে ব্যবহার করার থার্মোমিটার কানের মধ্যে ঠিক মত রাখতে না পারলে রিডিং যা হওয়ার কথা তার চেয়ে কম হতে পারে, তাই এটি শিশুর ওপর ব্যবহার করার আগে এর সাথে দেয়া নির্দেশনা ভালভাবে পড়ে নিন এবং কয়েকবার অন্য কোথাও ব্যবহার করে অভ্যস্ত হয়ে নিন (এই সাবধানতা যেকোনো থার্মোমিটারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)।
  3. স্ট্রিপ টাইপ (Strip-type) থার্মোমিটারঃ এটি আপনার শিশুর কপালে ধরে রেখে তাপমাত্রা মাপা যায়, তবে শিশুর তাপমাত্রা মাপার জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। এতে ত্বকের তাপমাত্রা মাপা যায়, শরীরের নয়।
  4. কাচের সরু নলের ভেতর রাখা মার্কারি দিয়ে তৈরি থার্মোমিটার Mercury-in-glass thermometers: কাচের সরু নলের ভেতর রাখা মার্কারি দিয়ে তৈরি থার্মোমিটার কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো ভেঙ্গে গিয়ে কাচের গুঁড়ো এবং এর ভেতরে রাখা তীব্র বিষাক্ত মার্কারি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপনার শিশু যদি মার্কারির সংস্পর্শে চলে আসে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

About the author

Maya Expert Team