বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

মারাত্মক অসুস্থতার লক্ষণ সনাক্তকরণ

শিশু গুরুতর অসুস্থতায় ভোগলে তাকে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা গেলে গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা করতে হবেঃ

  • উচ্চস্বরে বা দুর্বলকন্ঠে একটানা কাঁদতে থাকলে
  • ডাকলে বা কোন কিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, সক্রিয়তা কমে যাওয়া, কোলে নিলে হাত পা ছেড়ে দেয়া
  • ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, ফন্টানালি (৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মাথার মধ্যখানের নরম জায়গা) স্ফীত হয়ে যাওয়া
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া (শিশুদের ক্ষেত্রে)
  • ৮ ঘন্টার অধিক সময় ধরে পানি পান না করা (শক্ত খাবার গ্রহণ না করা গুরুত্বপূর্ণ নয়)
  • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ৩৮˚ ও ৩ থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ৩৯˚ অতিক্রম করা
  • শরীরে জ্বর থাকা সত্ত্বেও হাত, পা শীতল থাকা
  • অতিরিক্ত জ্বরের কারনে শিশু নিস্তেজ হয়ে যাওয়া
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিচুঁনি হওয়া
  • শরীর নীল হয়ে যাওয়া, খুব বিবর্ণ কিংবা পাংশুবর্ণ ধারণ করা, শরীরে বিভিন্ন রঙের দাগ থাকা
  • শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা জোরে জোরে শ্বাস নেয়া, শ্বাস নেয়ার সময় ঘোঁত ঘোঁত শব্দ হওয়া, কিংবা শ্বাস নেয়ার জন্য শিশুর অনেক কষ্ট হলে, শ্বাস নেয়ার সময় পাঁজরের মাঝের স্থান গুলো ভিতরে ডেবে গেলে
  • অস্বাভাবিকভাবে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে, ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়ে দাঁড়ালে অথবা আপনাকে দেখে চিনতে না পারলে
  • জাগিয়ে দিলেও শিশু জাগ্রত থাকতে কষ্ট হলে
  • শরীরের যেকোন অংশে দাগযুক্ত, বেগুনাভ লাল র‍্যাশ দেখা গেলে (এটি মেনিনজাইটিসের লক্ষণ হতে পারে)
  • বারবার বমি করা অথবা পিত্ত মিশ্রিত (সবুজ রঙের) বমি করা

যদি নিম্নোক্ত লক্ষণসমূহ দেখা যায় তবে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনুন

  • শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে
  • শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হলে (শ্বাস নেয়ার সময় পাঁজরের মাঝের স্থান গুলো ভিতরে ডেবে গেলে)
  • অচেতন হয়ে পড়া কিংবা কি হচ্ছে তা বুঝতে না পারা
  • ঘুম থেকে সহজে না জাগা
  • সুস্থ হচ্ছে এমন মনে হলেও প্রথমবার অজ্ঞান হয়ে পড়া
  • শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতালের দূর্ঘটনা ও জরুরী বিভাগে নিয়ে যান যদি নিম্নের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়
  • জ্বর থাকা ও প্যারাসিটামল, আইবোপ্রোফেন জাতীয় ঔষধ গ্রহণের পরও নিরবচ্ছিন্নভাবে অবসন্ন থাকলে
  • শ্বাসকষ্ট থাকলে (জোরে জোরে শ্বাস নিলে, হাঁপানো অথবা শ্বাস নেয়ার সময় শব্দ হলে)
  • তলপেটে তীব্র ব্যাথা থাকা
  • শরীরের কোনো জায়গা কেটে গেলে রক্ত পড়া না থামলে বা কেটে যাওয়া জায়গা খোলা থাকলে
  • হাত, পা-তে আঘাত পাওয়ার কারণে হাত, পা ব্যবহার করতে না পারা
  • বিষ অথবা ট্যাবলেট গিলে ফেললে

সর্বোপরি আপনার সহজাত প্রবৃত্তির উপর বিশ্বাস করুন। আপনার শিশু কী ধরণের আচরণ করে সে সম্পর্কে আপনি ভালো জানবেন, তাই কোন দিকটি উদ্বেগজনক আর কোনটি নয় তা আপনি ভালো বুঝতে পারবেন।

র‍্যাশ হলে যেভাবে বুঝবেন

বিভিন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে র‍্যাশ ভিন্ন ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। র‍্যাশের রঙ ব্যক্তিক্ষেত্রে পরিবর্তিত হতে পারে এবং গাঢ় বা কালো চামড়াতে র‍্যাশ দেখতে পারা কঠিন হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়ে থাকে, তাহলে ডাক্তার, নার্সের সাথে কথা বলুন।

 

About the author

Maya Expert Team