বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

শিশুদের ডায়রিয়া এবং বমি

শিশুর ঘনঘন পাতলা পায়খানা হওয়াকেই ডায়রিয়া বলে। সাধারনত এক প্রকার সংক্রমণের কারণে ডাইরিয়া হয় এবং তখন বমি হবারও সম্ভাবনা থাকে। এটিকে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (অন্ত্রের প্রদাহ) বলা হয়। এক প্রকার ভাইরাসের কারণে এটি হয়। বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের তুলনায় গুড়া দুধ খাওয়া শিশুদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

আপনার শিশু যদি গুড়া দুধ খায় তবে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ফিডারগুলো জীবাণুমুক্ত রাখুন। টয়লেট পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিত তোয়ালে ধুতে দিন। আপনার শিশুর পেটের সংক্রমনে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকলে তাদের অনুরোধ করুন ঘনঘন হাত ধুতে।

বয়সে বড় শিশুদের তুলনায় ছোট শিশুদের জন্য ডায়রিয়া এবং বমি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ওদের শরীর থেকে খুব সহজেই পানি বের হয়ে যায় যার ফলে ওরা পানিশূন্যতায় ভোগে। এর ফলে তাদের চেহারা ফ্যাকাসে বা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং অনেকেই খিটখিটে হয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুর চোখ এবং ফনটানেলি (মাথার তালুর নরম অংশ) গর্তে ঢুকে যেতে পারে। পানিশূন্যতার কারনে পর্যাপ্ত প্রস্রাব নাও হতে পারে, ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে এবং হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর পর্যাপ্ত প্রস্রাব হচ্ছে কিনা সেটা বোঝা মুশকিল ।আপনার শিশু যদি পানিশূন্যতায় ভোগে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওকে ওরস্যালাইন দিতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওরস্যালাইন পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনার শিশুর যদি ৬ বারের বেশি পাতলা পায়খানা হয় বা ৩ বারের বেশি বমি হয় তবে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে;

  • খাবার পর এবং প্রতিবার পাতলা পায়খানা হবার পর শিশুকে ওরস্যালাইন দিন।
  • আপনার শিশুকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। শিশুকে বুকের দুধ বা গুড়া দুধের পাশাপাশি অতিরিক্ত তরল হিসেবে ওরস্যালাইন খাওয়ান।
  • সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য খেয়াল রাখুন যাতে আপনার পারিবারের সবাই নিয়মিত সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়।
  • অন্যের তোয়ালে ব্যাবহার করবেন না।
  • যদি আপনার শিশুর সুইমিং পুলে যাবার অভ্যাস থাকে, সুস্থ্য হবার পরবর্তী ২ সপ্তাহ সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

অতিমাত্রায় ডায়রিয়া বা বমিসহ ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে;

  • বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। বুকের দুধের সাথে ওরস্যালাইন দিন।
  • গুড়া দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর অল্প পরিমানে ওরস্যালাইন দিন।
  • আপনার শিশু বমি করতে থাকলেও ওকে ওরস্যালাইন দিতে থাকুন। আপাতদৃষ্টিতে মনে না হলেও অধিকাংশ তরল ভেতরেই থাকবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ৩/৪ ঘণ্টা পর থেকে আবার ফিডারে দুধ খাওয়ানো শুরু করতে পারেন।
  • সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য খেয়াল রাখুন যাতে আপনার পারিবারের সবাই নিয়মিত সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়।
  • অন্যের তোয়ালে ব্যাবহার করবেন না।

আপনার শিশু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা এক দিনের বেশি সময় ধরে বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

এক থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে

 
এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী অনেক শিশুই ঘনঘন দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা করতে পারে যাতে গাজর, মটরশুঁটির মত খাবার দেখা যেতে পারে। এছাড়া সাধারনত এসব শিশুর অন্য কোন অসুস্থতা থাকে না। এবং ওরা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে। এ ধরণের ডায়রিয়াকে টডলার ডায়রিয়া বলা হয় এবং এখন পর্যন্ত চিকিৎসকেরা এর কোন কারণ বের করতে পারেন নি।

আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন যদি;

  • আপনার শিশুর একই সাথে পাতলা পায়খানা এবং বমি হয়।
  • ২/৩ দিনের বেশি সময় ধরে একেবারে পানির মত রক্তসহ ডায়রিয়া হয়।
  • আপনার শিশুর অতিমাত্রায় বা ক্রমাগত পেটব্যাথা হয়।

এছাড়া ডায়রিয়া নিয়ে তেমন একটা চিন্তার প্রয়োজন নেই। আপনার শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি খেতে দিন যাতে সে পানিশুন্যতায় আক্রান্ত না হয়। শিশু নিজে থেকে খেতে না চাইলে খাবার দেওয়ার দরকার নেই। শিশুকে ফলের জুস না দেয়াই ভাল কারণ এতে আরও ডাইরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসময় শিশুর জন্য ডায়রিয়া প্রতিরোধক ওষুধ অত্যন্ত ক্ষতিকর। শিশুকে এসব ওষুধ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এসময় ওরস্যালাইন শিশুর জন্য বেশ উপকারি হবে।

আপনি আপনার শিশুকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে ওর জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন এবং আপনার বাসার সবাইকে টয়লেট ব্যাবহারের পর এবং খাবার আগে হাত ধোয়ার কথা মনে করিয়ে দিন।.

আপনার শিশু সুস্থ হবার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে নিয়ে যাবেন না এবং পরবর্তী ২ সপ্তাহ ওকে পুকুর বা সুইমিং পুলে গোসল করতে দিবেন না।

 

About the author

Maya Expert Team