বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

কাওয়াসাকি রোগ

এই রোগটি mucocutaneous lymph node syndrome নামেও পরিচিত। খুবই বিরল এ রোগে সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং দেখা যায় যে কোন ওষুধেই জ্বর নামতে চায় না। এছাড়াও, চুলকানি, গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং শুকনো, ফাটা ঠোঁটের মত নানারকম ভাইরাস জনিত সমস্যা দেখা যায়।

১৯৬৭ সালে এই রোগটি সর্বপ্রথম নির্ণয় করেন ডঃ টোমিসাকু কাওয়াসাকি নামক একজন জাপানি চিকিৎসক। কাওয়াসাকি রোগের কারন এখনো অজানা এবং রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করার জন্যও কোন একক পরীক্ষা বা পদ্ধতি নেই।

কাওয়াসাকি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

উত্তর এশিয়ায় বংশোদ্ভূত শিশুদের মাঝে এ রোগ বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে কোরিয়ান ও জাপানি শিশুদের এবং চীনা শিশুদেরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণসরূপ, জাপানে বছরে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮৪ টি শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। আবার যুক্তরাজ্যে প্রতি লক্ষে আক্রান্ত শিশুর এ সংখ্যাটি ৮।

রোগের লক্ষণ

এ রোগের লক্ষণগুলো কখনো কখনো অন্য রোগের সাথে মিলে যায়। এ কারনে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। যদিও এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না তবে দ্রুত কার্যকরী চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুরা সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠে।

কাওয়াসাকি রোগের কারনে ধমনীতে প্রদাহ হয়ে থাকে যা করনারি ধমনীতে (যে ধমনী হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ করে) জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের ৫% হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে পারে যার প্রায় ১% মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।এ রোগের কারনে যখন হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হয় তখন ই এসব জটিলতা দেখা দেয়।

About the author

Maya Expert Team