বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

মাম্পস

মাম্পস এক ধরণের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ যা উচ্চ মাত্রায় ছোঁয়াচে। প্রধানত শিশুরা মাম্পসে আক্রান্ত হয়, তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও মাম্পস হতে পারে।

যেভাবে ছড়ায়

মাম্পস একটি বায়ুবাহিত রোগ যা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে ছড়ায়ঃ

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে জীবাণুযুক্ত লালা বাতাসে মিশে যায়, যা সুস্থ ব্যক্তি্র শরীরে শ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে।

আক্রান্ত ব্যক্তি হাত দিয়ে মুখ অথবা নাকে স্পর্শ করে এবং পরে ঐ হাত দিয়ে দরজার হাতল, কাজ করার জায়গা প্রভৃতিতে স্পর্শ করতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরেই যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি উক্ত জায়গার সংস্পর্শে আসে তাহলে সেসব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।

আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত আসবাবপত্র, যেমন কাপ, চামচ কিংবা প্লেট সুস্থ ব্যক্তি ব্যবহার করলে।

লক্ষণসমূহ

সংক্রামিত হওয়ার ১৪-২৫ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশিত হতে থাকে। কানের নিচে গলার (প্যারোটিড গ্রন্থি) একদিক বা উভয়দিক ফুলে যাওয়ার মাধ্যমে মাম্পস হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। অন্যান্য লক্ষণগুলো হলোঃ

  • মাথা ব্যথা
  • অস্থি সন্ধিতে ব্যথা
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • তলপেটে হালকা ব্যাথা
  • ক্ষুধামন্দা
  • উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর

চিকিৎসা

মাম্পস সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময় পর নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। মাম্পসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত শরীর রোগ প্রতিরোধের জন্য তৈরি না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত লক্ষন অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। মাম্পস সংক্রমিত স্থানে অন্য জীবানু দ্বারা সংক্রমন প্রতিরোধে জন্য কিছু ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বাড়ীতে চিকিৎসার জন্য আপনি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেনঃ

  • লক্ষণ হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন।
  • তরল জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন, কিন্তু সাইট্রাস জাতীয় জুস এড়িয়ে চলুন কেননা এটি গ্রন্থিতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
  • ব্যাথা কমানোর জন্য ফুলে যাওয়া জায়গায় ঠান্ডা পানি দিয়ে চাপ দিন।
  • অর্ধ শক্ত খাবার গ্রহণ করুন যেগুলোতে বেশি চিবানোর প্রয়োজন পড়ে না।
  • ব্যাথার জন্য ব্যাথানাশক ঔষধ গ্রহণ করুন।
  • যদি ৭ দিনের মধ্যে লক্ষণ হ্রাস না পায়, তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

জটিলতা

যদিও মাম্পস জটিল রোগ না, তবে এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

বেশি সৃষ্ট জটিলতাগুলো হলোঃ

  • অর্কাইটিসঃ শুক্রাশয় ও অন্ডকোষ ফুলে যাওয়া ও ব্যাথা, বয়ঃসন্ধির পর পুরুষদের মাম্পস হলে এ জটিলতা দেখা দেয়।
  • অফোরাইটিসঃ ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়া ও ব্যাথা, বয়ঃসন্ধির পর মহিলাদের মাম্পস হলে এ জটিলতা দেখা দেয়।
  • প্যানক্রিয়াটাইটিসঃ অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ
  • ভাইরাল মেনিনজাইটিসঃ বিরল

গর্ভাবস্থায় মাম্পস আক্রান্ত হওয়া

গর্ভাবস্থার প্রথম ১২-১৬ সপ্তাহের মধ্যে কোনো মহিলা মাম্পস আক্রান্ত হলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মাম্পসের কারণে জন্মগত ত্রুটি হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 প্রতিকার

মাম্পস প্রতিরোধের সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হল এমএমআর টিকা গ্রহণ করা। ভবিষ্যতে যদি মাম্পসের ভাইরাস শরীরের সংস্পর্শে আসে তাহলে টিকা গ্রহণের ফলে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি ভাইরাসকে প্রতিহত করবে।

যদি আপনি বা আপনার শিশু মাম্পসে আক্রান্ত হয়, তাহলে সুস্থ ব্যক্তিরা যাতে আপনাদের মাধ্যমে সংক্রামিত না হোন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতিগুলো হলোঃ

লক্ষণ প্রকাশিত হওয়ার ৫ দিন পর্যন্ত বিদ্যালয়, কলেজ বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

পানি ও সাবান দিয়ে আপনার হাত ভালোভাবে ধুয়ে রাখুন।

হাঁচি, কাশি দেওয়ার সময় আপনার নাক, মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন। ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে দিন।

About the author

Maya Expert Team