বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

ক্রুপ (croup) রোগ

এটি একটি শৈশবকালীন অসুস্থতা, যেটি শ্বাসনালী (ট্রাকিয়া) এবং এর প্রধান দুটি শাখাকে (যা ফুসফুস পর্যন্ত যায়) আক্রান্ত করে। ক্রুপ আক্রান্ত শিশুকে তার কাশির শব্দ ( বারকিং কাফ নামে পরিচিত) এবং নিশ্বাস নেওয়ার সময়ের কর্কশ আওয়াজ (স্ট্রাইডর) দিয়ে সনাক্ত করা যায়। বন্ধ শ্বাসনালীর কারনে গলার স্বর কর্কশ হয় এবং এর ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ক্রুপ এর প্রকারভেদ

ক্রুপ দুই প্রকার,

  • ভাইরাল ক্রুপ (trachelaryngoitis) – ভাইরাস সংক্রমণ এর কারনে হয় এবং হতে কয়েকদিন সময় লাগে।
  • শ্বাসনালীর সংকোচন জনিত ক্রুপ (spasmodic croup) – এটা সংক্রমণের কারনে হয় না। এতে আক্রান্ত হলে কিছু সময় পর পর ক্ষণস্থায়ীভাবে ক্রুপ এর উপসর্গগুলো দেখা যায়।

দুই ধরনের ক্রুপের চিকিৎসা একই।

ক্রুপ হবার সম্ভাবনা কতটুকু?

ক্রুপ সচরাচর কম দেখা যায়। এতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে ৮ হাজারের বেশি শিশু ক্রুপ এবং এপিগ্লট্টাইটিস এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়,যার মধ্যে অধিকাংশই জরুরী বিভাগে। আলজিহবার (এপিগ্লটিস) প্রদাহ কে এপিগ্লট্টাইটিস বলে।

একেবারে ছোট শিশুরা (৬ মাস থেকে ৩ বছর) সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হয়। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত আক্রান্ত হবারও নজির আছে।

একই শিশুর একাধিকবার ক্রুপ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫% শিশুর একাধিকবার ক্রুপ হবার সম্ভাবনা থাকে।

রোগের লক্ষণ

অধিকাংশ সময় ক্রুপ নিজে থেকেই সেরে যায়। ক্রুপ আক্রান্ত ৬০% শিশুই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রুপ এর উপসর্গগুলো এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

তবে শ্বাসনালী রুদ্ধ হয়ে গেলে শিশুর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে হাস্পাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে।

কোন শিশুর ক্রুপ আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার সম্ভাবনা খুব কম। ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে ৭ জন ক্রুপ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

About the author

Maya Expert Team