বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

উকুন

উকুন হল ধূসর খয়েরি রঙের খুবই ছোট পাখাবিহিন পোকা। ডিম ফুটে বের হবার সময় এগুলো সুঁইয়ের মাথার সমান থাকে এবং পূর্ণবয়স্ক উকুন ৩ মিলিমিটার লম্বা হয়।

আক্রান্ত ব্যাক্তির মাথার সাথে সংস্পর্শে আসলে উকুন হবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া সাধারণত সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা থাকে না কারন উকুন উড়তে, সাঁতার কাটতে বা লাফ দিতে পারে না।

উকুনের জীবনচক্রঃ

ডিম পাড়ার সময় স্ত্রী উকুন ডিমগুলো সাধারণত চুলের গোঁড়ার সাথে আটকে দেয়। এর ফলে ডিমগুলো মাথার তালু থেকে তাপ পায়। ডিমগুলো খালি চোখে দেখা খুবই কঠিন কারন এগুলো খুবই ছোট (সুঁইয়ের মাথার সমান)।

৭/৮ দিনের মধ্যে ডিম ফুঁটে উকুনের বাচ্চা বের হয়। তবে ডিমের খোসাগুলো (নিট) চুলের গোঁড়ার সাথেই আটকে থাকে। এগুলো চকচকে এবং সাদা রঙের হয়ে থাকে। চুল বড় হলে এগুলো তালু থেকে বাইরের দিকে চলে আসায় সহজে চোখে পড়ে। ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উকুন পুরোপুরি বড় হয়ে যায়। এগুলো মাথার তালু কামড়ে রক্ত শুষে নেয়। এভাবেই এরা পুষ্টি পায়। একটি পূর্ণবয়স্ক উকুন আক্রান্ত ব্যাক্তির মাথা থেকে অন্যের মাথায় সংক্রমিত হতে পারে।

স্ত্রী উকুন খুবই দ্রুত (ডিম ফুটে বের হওয়ার সপ্তম দিনের মাথায়) ডিম পাড়ার উপযোগী হয়ে যায়। একারনেই উকুনের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য ডিম ফুটে বের হবার ষষ্ঠ দিনের আগেই এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।

উকুন হবার সম্ভাবনাঃ

যদিও চুল আছে এরকম যেকারোরই উকুন হতে পারে তবে বাচ্চারাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। স্কুলে বা খেলার সময় সাধারণত শিশুরা সংক্রমণের শিকার হয়। ৪ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

 

উকুনের চিকিৎসাঃ

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট লোশান ব্যবহার করে বা ভেজা চুল আঁচড়ানোর মাধ্যমে খুব ভাল ভাবেই উকুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

উকুন নিয়ে চিন্তিত থাকলে বা এর প্রতিকার বিষয়ে আরও জানতে চাইলে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করুন।

About the author

Maya Expert Team