বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

অসুস্থ বাচ্চার দেখাশোনা

আপনার বাচ্চা অসুস্থ থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার কথা শোনা। যদি সে বলে যে বিছানায় শুতে তার ভাল লাগছে না, তাহলে তাকে জোর করবেন না। হয়ত সোফায় একটা কম্বল বা লেপ নিয়ে শুয়ে থাকলে তার বেশি ভাল লাগবে। বাচ্চা বিছানায় থাকুক বা সোফায়, নিচের উপদেশগুলো মেনে চললে তার বেশি আরাম হবে।

ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, কিন্তু সেটা যেন কখনই অনেক বেশি বা দমকা হাওয়ার মত ঘরে ঢুকতে না পারে।

শিশুকে প্রচুর তরল জিনিস খেতে দিন। অসুস্থতার প্রথম দিন বা প্রথম দিকে না খেতে চাইলে জোর করবেন না। এরপর তাদেরকে অল্প করে খাওয়ার কিছু দিন এবং দুধের মত পুষ্টিকর পানীয় খেতে উৎসাহ দিন।

নিরিবিলি খেলা করা, বই পড়ে শোনানো, সঙ্গ দেয়া এবং শুশ্রূষার জন্য শিশুকে সময় দিন।

অসুস্থ বাচ্চারা খুব কাহিল হয়ে থাকে এবং এসময় তাদের প্রচুর বিশ্রাম দরকার। যখন তার ঘুম পায় তখনই তাকে গল্প বা রেকর্ড প্লেয়ার বা সিডিতে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিন।

কখনই অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়বেন না, এমন কি দুজনই খুব ক্লান্ত থাকলেও না। এতে শিশুর কট ডেথে মৃত্যু বরন করার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অসুস্থ শিশুর দেখাশোনা করা, এমনকি তা অল্প কয়েকদিনের জন্য হলেও, ক্লান্তিকর। যতটা সম্ভব সবকিছু আপনার সুবিধামত করার চেষ্টা করুন। যখনই সম্ভব বিশ্রাম বা ঘুমিয়ে নিন, এবং মাঝে মধ্যে আপনি বিরতি নেয়ার জন্য অন্য কারও সাহায্য চান।

বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

আপনার শিশুকে অসুস্থ মনে হলে আপনার কাছের ফার্মেসিতে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি সেখানকার ফার্মাসিস্ট সাহায্য করতে না পারে তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। আপনার শিশুকে গুরুতর অসুস্থ মনে হলে ডাক্তারের কাছে বা স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

বেশিরভাগ ডাক্তারই ছোট শিশুদের বাবা-মায়েদের প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল হন। অনেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই বা অন্যান্য রোগীর আগে শিশুকে দেখে দিতে রাজি হন। অনেক ডাক্তার টেলিফোনেও ওষুধ বলে দিতে পারেন।

আপনার ডাক্তার, নার্স, এবং ফার্মাসিস্ট আপনার শিশুর দেখাশোনার বিষয়ে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন। আপনার ডাক্তার শিশুর রোগ নির্ণয় করে ওষুধ লিখে দিতে পারেন। অনেক নার্স বা ফার্মাসিস্টও শিশুর রোগ নির্ণয় করে ওষুধ বলে দিতে পারেন।

ছোটখাট আঘাত পেলে কী করবেন

অনেক ডাক্তারের চেম্বারেই কেটে যাওয়া বা নাকে অথবা কানে কোন কিছু আঁটকে যাওয়ার মত ছোটখাট আঘাত বা ইনজুরির চিকিৎসা করার মত সরঞ্জাম থাকে। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাকে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে যাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন।

About the author

Maya Expert Team