বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

ব্রংকিওলাইটিস

ব্রংকিওলাইটিস নিম্ন শ্বাসনালীর একটি সাধারণ সংক্রমণ যা শিশুদেরকে আক্রমণ করে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডা জ্বরের মতই হয়, যেমন, সর্দি ও কাশি।

ব্রংকিওলাইটিস বৃদ্ধির সাথে সাথে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো সৃষ্টি করে থাকেঃ

  • সামান্য জ্বর (শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি)
  • শুকনো ও ক্রমাগত কাশি
  • খাওয়ায় অসুবিধা

রেসপাইরেটরি সিন্‌সাইটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) নামক একটি বায়ুবাহিত ভাইরাস ব্রংকিওলাইটিস সৃষ্টি করার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। ফুসফুসে বায়ু বহনকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখাগুলোকে (ব্রংকিওল) এ ভাইরাস সংক্রমিত করে প্রদাহের (স্ফীত) সৃষ্টি করে। প্রদাহের কারনে সরু শ্বাসনালীর ভিতরের বাতাস চলাচলের ফাঁকা জায়গা আরো সংকুচিত হয়ে পরে ফলে ফুসফুসে প্রবেশকারী বাতাসের পরিমাণ কমে যায় যার কারণে শিশু শ্বাসকষ্টে ভোগে।

ব্রংকিওলাইটিসে কী সবাই আক্রান্ত হতে পারে?

৩-৬ মাস বয়সী শিশুর মধ্যে ব্রংকিওলাইটিস সবচেয়ে বেশি হয়। ২ বছর বয়সের মধ্যে অধিকাংশ শিশুই আরএসভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয় এবং তাদের মধ্যে ৪০-৫০% শিশু ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত হয়। শীতকালে (নভেম্বর থেকে মার্চ) শিশুরা ব্রংকিওলাইটিসে বেশি আক্রান্ত হয়, কেননা তখন ব্রংকিওলাইটিস সৃষ্টিকারী ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। একই শীতকালে কেউ কেউ একাধিকবার ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসা

ব্রংকিওলাইটিস সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে নির্মূল করার মতো কোনো ঔষধ এখনো পর্যন্ত নেই, তবে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সাধারণত ২ সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ দূর হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল খাবার ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু বাড়িতে চিকিৎসার ফলে সুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রায় ৩% শিশু, যাদের বয়স ১ বছরের কম এবং ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। কারণ ব্রংকিওলাইটিসের দরুণ তারা আরো জটিল সমস্যা, যেমন শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, এ সমস্যাগুলো সাধারণত অকালে (গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্বে) জন্ম নেয়া ও হৃদপিন্ড, কিডনি জনিত সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

About the author

Maya Expert Team