বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

শিশুর পা ও পায়ের পাতার সমস্যাসমূহ

শিশু যখন প্রথম হাঁটতে শিখে তখন পা ছড়িয়ে হেলে দুলে হাঁটবে এটাই স্বাভাবিক। প্রথম দিকে কারো কারো পা ধনুকের মত বাঁকা থাকতে পারে বা দুই হাটু লেগে থাকতে পারে। কোন কোন শিশু দেখা যায় পায়ের আঙ্গুলের উপর হাটছে, কারো কারো পায়ের আঙ্গুল হাঁটার সময় বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকছে বা ভিতরের দিকে বেঁকে থাকছে – এর সব কিছুই শিশুর জন্য স্বাভাবিক। শিশুর পায়ের এই ধরনের গৌণ সমস্যাগুলো সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়। তবে আপনার শিশুর মধ্যে যদি নিম্নে বর্ণিত কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করে থাকেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

  • বাঁকা পা বা বক্রপদঃ ২ বছর বয়সের পূর্বে অধিকাংশ শিশু দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে তাদের দুই হাঁটু ও দুই গোড়ালির মধ্যে কিছুটা ফাঁক থাকে। যদি এই ফাঁকটি বেশি হয় ও নিজে নিজে ঠিক না হয়, তাহলে নার্স বা ডাক্তারের মাধ্যমে পরিক্ষা করিয়ে দেখুন। এটি রিকেট্‌সের (হাড় বক্রতা) একটি লক্ষণ হতে পারে, যদিও তা খুবই বিরল।
  • ভিতরের দিকে বেঁকে যাওয়া হাঁটুঃ শিশু যখন দুই হাঁটু জোড়া লাগিয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের গোড়ালিদ্বয়ের মধ্যে একটি ছোট ফাঁক থাকে। ২-৪ বছর বয়সের মধ্যে এই ফাঁকের দূরত্ব ৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ২.৫০ ইঞ্চি) পর্যন্ত হওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। যদি এই ফাঁক বেশি হয় এবং ৬ বছর বয়সের মধ্যে এই সমস্যা দূর না হয়ে যায়, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • আঙ্গুল ভিতরের দিকে থাকাঃ এই সমস্যাকে ‘কবুতরের মত আঙ্গুল’ হিসেবে ডাকা হয়। শিশুর পায়ের পাতা বেশি ভিতরের দিকে বাকানো থাকলে এই সমস্যা হয়ে থাকে। ৮-৯ বছর বয়সের মধ্যে এই সমস্যা নিজ থেকে দূর হয়ে যায় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না।
  • আঙ্গুল অস্বাভাবিকভাবে বাইরে থাকাঃ এক্ষেত্রে পায়ের আঙ্গুল বাইরের দিকে বেশি ছড়িয়ে থাকে। এই সমস্যাও নিজ থেকে দূর হয়ে যায় এবং চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজন পড়ে না।
  • সমতল পায়ের পাতাঃ যদি শিশুর পায়ের পাতা সমতল হয় অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় শিশু দাড়ালে পায়ের পাতার ভিতরের দিকের মাঝামঝিতে পাতা এবং মেঝের মধ্যে যে ফাঁকটি থাকে, সেটি যদি না থাকে তাহলে উদ্বিগ্ন হবেন না। যদি আঙ্গুলে খাড়া থাকা অবস্থায় পায়ের পাতা ধনুকের মত বাকা হয় তাতেও কোন সমস্যা নেই।
  • আঙ্গুলের উপর ভর করে হাঁটাঃ যদি আপনার শিশু অধিকাংশ সময়ে আঙ্গুলের উপর ভর করে হাঁটে, তাহলে ডাক্তার বা নার্সের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন।

প্রথম জুতো

৫ বছরের কম বয়সী শিশুর পা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে হাড় সোজা হয়ে বেড়ে উঠাও অত্যন্ত জরুরী। জন্মকালীন সময়ে শিশুর হাড় নরম থাকে। যদি আঁটসাঁট জুতা বা মোজার কারণে হাড় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে হাড় সোজা হয়ে সঠিকভাবে বৃদ্ধি পাবে না।

নিজে নিজে হাঁটা শুরু না করা পর্যন্ত শিশুকে জুতো দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজে নিজে হাঁটা শুরু করলেও প্রথমদিকে শুধুমাত্র বাইরে হাঁটার জন্য জুতো রাখতে হবে। জুতো ও মোজার সাইজ যেন সঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেস, ফিতা বা ভেলক্রো ফাস্টেইনার (এক ধরণের ফেব্রিক হুক) যুক্ত জুতো শিশুদের জন্য উপযুক্ত কেননা এগুলো পায়ের গোড়ালিকে ঠিক জায়গায় ধরে রাখে এবং পা কে সামনের দিকে পিছলে যাওয়া ও হাঁটুতে ব্যাথা পাওয়া থেকে নিরাপদ রাখে। আঙ্গুলের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় যদি জুতার গোড়ালি পিছলে যায় তাহলে বুঝতে হবে জুতোটি শিশুর পায়ের সাইজ থেকে বড়।

যদি সম্ভব হয়, শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক উপাদান যেমন চামড়া, তুলো কিংবা ক্যানভাস থেকে তৈরি জুতো ক্রয় করুন। কেননা এইসব উপাদানে তৈরি জুতোয় বাতাস ঢুকতে পারে। প্লাস্টিকের তৈরি জুতো পা কে ঘামযুক্ত করে তোলে এবং ঘষার ফলে পায়ে ছত্রাক সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। সুতির মোজা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

পা ও নখের যত্ন 

শিশুর পা ধোয়ার পরে আঙ্গুলের মাঝের ফাক সহ দুই পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। পায়ের নখ কাটার সময় সোজাসুজি ভাবে কাটুন। অন্যথায় নখ ভিতরের দিকে বেশি কেটে যেতে পারে।

 

About the author

Maya Expert Team