খাদ্য এবং পুষ্টি বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন

নিরামিষভোজী ও মাংস খায় না এমন শিশু

যদি আপনি আপনার শিশুকে আমিষমুক্ত খাদ্য (নিরামিষ) প্রদান করে থাকেন অথবা প্রানী থেকে প্রাপ্ত কোন প্রকার খাদ্য দ্রব্য (যেমন, মাংস, দুধ) গ্রহণ না করতে অভ্যস্ত করে তোলেন, তাহলে সে যাতে যথাযথ পরিমাণ প্রোটিন ও আয়রন পায় সেটি নিশ্চিত করতে তাকে প্রতিদিন দুই বা তিন অংশ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বা বাদাম খাওয়াতে হবে।

৫ বছরের কম বয়সী শিশুকে বাদামের পুরো অংশ দিবেন না, নতুবা বাদাম গলায় আটকে শ্বাসরোধ হতে পারে। বাদামকে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন অথবা বাদামের নরম মাখন ব্যবহার করুন।

বাদামের অ্যালার্জি সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে ‘খাদ্যে অ্যালার্জি’ আর্টিকেল পড়ুন।

শক্ত খাবার প্রদান শুরু করার ক্ষেত্রে নিরামিষভোজী ও মাংস খায় উভয় ধরণের শিশুর জন্য একই ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে বাচ্চার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার খাবারে আয়রন ও অন্যান্য শক্তি প্রদানকারী খাদ্য উপাদানের পরিমাণ কমে যাওয়া ও আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রয়োজনীয় সকল ধরণের পুষ্টি প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য আপনার শিশুকে প্রধান খাবারগুলো ছোট ছোট ভাগে ঘনঘন দিতে থাকুন, সেইসাথে মাঝে মাঝে হালকা খাবার দিন। শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি পাচ্ছে কিনা সেটিও নিশ্চিত করুন। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ভিটামিন ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো জানতে ‘শিশুর জন্য ভিটামিন’ আর্টিকেল পড়ুন।

মাংস ছাড়া খাদ্য

আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ পান করান ও মাংস না খান, তাহলে আপনার জন্য ভিটামিন ডি এর ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিটামিন বি১২ গ্রহণের প্রয়োজন ও দেখা দিতে পারে।

শিশুকে মাংস ছাড়া খাদ্য গ্রহনে অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে যত্নবান হোন। বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও ভিটামিন আছে এমন বিভিন্ন ধরণের খাদ্য গ্রহণ শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মাংস ছাড়া অন্য খাবার খেলে পর্যাপ্ত ক্যালোরির জন্য শিশুদের পরিমানে বেশি খাবার খেতে হয় এবং সে খাবার অতিরিক্ত আঁশপূর্ণ হতে পারে, যার ফলে পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণের পূর্বেই শিশুর ক্ষিদা মিটে যেতে পারে। এই কারণে তাদেরকে ‘সাপ্লিমেন্ট’ প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য শিশুকে শক্ত খাদ্য প্রদান শুরুর পূর্বে একজন খাদ্য বিশেষজ্ঞ (ডায়েটেশিয়ান) বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শক্তি

মাংস খায় না এমন শিশুদের শক্তির জন্য উচ্চ-ক্যালরি সম্পন্ন খাবার খাওয়া প্রয়োজন। উচ্চ-ক্যালরি এর জন্য টফু (সয়াসস দুধ ও দই দ্বারা তৈরি এক ধরণের খাবার), কলা, নরম বাদাম ও শস্যদানা থেকে উৎপন্ন মাখন, যেমন তাহিনি (তিলের বীজ থেকে তৈরি মাখন), কাজুবাদাম বা বাদাম থেকে তৈরি মাখন প্রভৃতি খেতে দিতে পারেন। এরপরও তাদের কিছু শর্করা জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন থাকতে পারে কিন্তু এই শর্করা পরিমিত পরিমানে দিতে হবে।অতিরিক্ত শক্তির জন্য খাবারে উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণীজাত চর্বি যোগ করতে পারেন।

প্রোটিন

ডাল এবং ডাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। দুই বা তারচেয়ে কিছু বেশি বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ এবং সয়াবিন ভিত্তিক কৌটার দুধ শিশুর প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে। সয়াবিন ভিত্তিক কৌটার দুধ দেয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বাদাম ও বীজজাত মাখনও প্রোটিনের ভালো উৎস (এক্ষেত্রে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য সবসবময় নরম মাখন ব্যবহার করুন)।

ক্যালসিয়াম

সয়াবিন ভিত্তিক দুধ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ থাকে, সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম থাকে এবং কোনো কোলেস্টেরল থাকে না। অন্যান্য কিছু খাদ্যও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ থাকে, তাই সবসময় লেবেল যাচাই করে দেখুন।

ভিটামিন বি১২

সকালের নাস্তার সিরিয়াল (শস্য জাতীয় খাদ্য) ও কিছু ঈস্ট নির্যাসে ভিটামিন বি১২ থাকে। খাবারে পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়া না গেলে আপনার শিশুর জন্য ‘সাপ্লিমেন্টের’ প্রয়োজন হতে পারে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন তিসি, অতসী, আখরোট ও রাইসরিষাতে কিছু ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। তবে, মাছে প্রাপ্ত ফ্যাটি অ্যাসিড যেভাবে হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, উদ্ভিজ্জ তেল থেকে প্রাপ্ত এসব ফ্যাটি অ্যাসিড সেভাবে তা পারে না ।

About the author

Maya Expert Team