খাদ্য এবং পুষ্টি বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন

আপনার শিশুর জন্য ভিটামিন

বাড়ন্ত শিশুদের মধ্যে যারা সুষম খাবার খায় না, তাদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ স্বল্পতা দেখা দেয়। সব ভিটামিনও আবার খাদ্যের মাধ্যমে পাওয়া যায় না, যেমন ভিটামিন ‘ডি’।

সেইজন্যে, স্বাস্থ্য বিভাগ ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বাড়তি ভিটামিন এ, সি ও ডি খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়।

শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় এই বাড়তি ভিটামিন সম্পর্কিত তথ্য এবং এগুলো কোথায় আপনি পেতে পারেন সে সম্পর্কে জানতে আপনার স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। ভিটামিন ও অন্যান্য আরো পুষ্টিকর উপাদান সহ তৈরি ‘সাপ্লিমেন্ট’(supplements) প্রেসক্রিপশান ছাড়াই ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়, তাই আপনার শিশুর জন্য কোন ‘সাপ্লিমেন্ট’ সবচেয়ে উপযুক্ত হবে সে সম্পর্কে জানতে নিকটস্থ ফার্মেসীতে যোগাযোগ করুন।

পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ না করা এবং অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ করা দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একই সময়ে দুইটি ‘সাপ্লিমেন্ট’ শিশুকে যাতে না দেয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। উদাহরণস্বরূপ একইসাথে কড লিভার তেল ও ভিটামিন ড্রপ দিবেন না। একই জাতীয় যেকোন একটি ‘সাপ্লিমেন্ট’ই শিশুর জন্যে যথেষ্ট।

ভিটামিন ডি

প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি শুধুমাত্র কয়েকটি খাদ্যেই, যেমন তেলযুক্ত মাছ, দুগ্ধজাত খাবার (দই) ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। সূর্যালোকে উন্মুক্ত চামড়া বা ত্বকেও এটি তৈরি হয়ে থাকে। তবে আপনার শিশুর ত্বক সূর্যরশ্মিতে সুরক্ষিত রাখাই উত্তম। গরম আবহাওয়াতে শিশুদের বেশিক্ষণ বাইরে রোদে রাখা ঠিক না এবং ত্বক যাতে পুড়ে বা লাল হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

বুকের দুধ গ্রহণকারী শিশুদেরকে ৬ মাস বয়স থেকে প্রতিদিন ভিটামিন ডি এর ‘সাপ্লিমেন্ট দেয়া উচিত। কৌটার দুধ গ্রহণকারী শিশু যদি প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটারের কম দুধ গ্রহণ করে তাহলে তাকে ভিটামিন ডি এর ‘সাপ্লিমেন্ট’ দিতে হবে। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত এই ‘সাপ্লিমেন্ট’ চালিয়ে যেতে হবে।

মা যদি গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ পান করানোর সময়ে ভিটামিন ডি ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহন করে তবে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত শিশুর পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ এর নিশ্চয়তা থাকে। যদি এমন হয় যে, আপনি শিশুকে বুকের দুধ পান করান কিন্তু, গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ডি ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করেননি, তাহলে চিকিৎসক হয়তো আপনাকে পরামর্শ দিবেন যাতে আপনি আপনার শিশুকে তার ১ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ভিটামিন ডি ‘সাপ্লিমেন্ট’ প্রদান করেন।

ভিটামিন এ

শিশু ও ছোট বাচ্চাদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং বিভিন্ন কারনে এর স্বল্পতা হতে পারে। ভিটামিন এ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং চামড়া বা ত্বকের গুনগত মান বজায় রাখে।

ভিটামিন এ এর ভালো উৎস হল দুগ্ধজাত দ্রব্য, চর্বি, গাজর এবং গাঢ় সবুজ সবজি (যেমন পালংশাক, বাঁধাকপি, ইত্যাদি)

নিয়মিত টিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের সকল শিশু এবং প্রসুতি মায়েদের ভিটামিন-এ খাওয়ান হয়

প্র্রসূতি মায়েদের জন্য ভিটামিন-এর ডোজ ও সময়সূচি

অন্ধত্ব ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর জন্য ৬-১১ মাস এবং ১ থেকে ৫ বৎসর বয়সী শিশুকে বছরে ২ বার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সময়:

প্রথম বার: এপ্রিল/মে (বৈশাখ/ জ্যৈষ্ঠ) মাসে

দ্বিতীয় বার: অক্টোবর/নভেম্বর (কার্তিক/অগ্রাহায়ণ) মাসে

ভিটামিন সি

শিশুকে সুস্থ রাখা ও তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য ভিটামিন সি অপরিহার্য। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন অন্ত্র থেকে শোষণে সাহায্য করে।

ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস হল কমলালেবু, লেবু, টম্যাটো, আমলকী, লিচু, ফুলকপি, এবং মরিচ।

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রণালী

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার প্রদান সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে দেখুনঃ

শিশুর জন্যে শক্ত খাবারঃ প্রথম পদক্ষেপ

শিশুর প্রথম খাদ্য

খাদ্য প্রকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণঃ সাধারণ প্রশ্নাবলী

খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কিত সমস্যাবলী

About the author

Maya Expert Team