বাল্যরোগ চিকিৎসা শক্ত খাবার শিশুর যত্ন

শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা (weaning)

কখন শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করবেন?

শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর থেকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায় শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের পরিপাকতন্ত্র শক্ত খাবার ঠিকমত হজম করতে পারে না।

এই সময়ের আগে বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ালে তার ডায়রিয়া বা বমি হতে পারে। আপনার শিশু শক্ত খাবার খেতে সমর্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আপনার অনেক সময় বাঁচবে, কারন ছয় মাস পূর্ণ হলে তারা দ্রুত খেতে পারবে এবং ঠিকভাবে ঢোক গিলতে শিখবে, ফলে আপনার খাওয়াতে কম কষ্ট হবে।

শুরুতে বাচ্চা কি পরিমান খাচ্ছে সেটার চাইতে তাকে খাওয়ানোর প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বাচ্চা বেশিরভাগ পুষ্টি লাভ করবে বুকের দুধ বা ফর্মুলা মিল্ক থেকে। শিশুকে নিয়ম করে তিন বেলা খাওয়াতে হবে এমন কোন কথা নেই, আপনাদের দুজনেরই সুবিধা হয় এমন সময়ে তাকে খেতে দেয়া শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে আপনি খাবারের পরিমান বাড়াতে পারেন ও বিভিন্ন রকমের খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।

যদি আপনি বাচ্চাকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের খাওয়ান তাহলে সেটা আপনার বাচ্চাকে সংক্রমণ থেকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে। ছয় মাস বয়সের পর শক্ত খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়ালে যতদিন পর্যন্ত আপনি তা চালিয়ে যাবেন ততদিন সে একই রকম সুরক্ষিত থাকবে। যদি ফর্মুলা মিল্ক খাওয়ান তাহলে সেটা বাচ্চার ছয় মাস বয়সের পরও অন্যান্য খাবারের সাথে সাথে চালিয়ে যেতে হবে।

কখন বুঝবেন আপনার বাচ্চা প্রস্তুত

প্রতিটি শিশুই আলাদা, কিন্তু তিনটি বিশেষ লক্ষন রয়েছে যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে বুকের দুধের পাশাপাশি তাকে শক্ত খাবার দেয়ার সময় হয়েছেঃ

যদি দেখেন যে আপনার বাচ্চা খাবারের ব্যপারে চোখ, মুখ ও হাতের ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয় করতে পারছে এবং প্লেট থেকে খাবার তুলে মুখে দিতে পারছে।

যদি দেখেন যে বাচ্চা খাবার গিলতে পারছে। যে সব শিশু ঠিকভাবে গিলতে পারে না তারা খাবার ঠেলে মুখ থেকে বের করে দেবে, এবং যতটা খাবে তার চেয়ে অনেক বেশি তাদের মুখের চারপাশে লেগে থাকবে।

যদি দেখেন যে বাচ্চা বসতে পারে এবং মাথা স্থির করে তুলে রাখতে পারে।

বাচ্চার বয়স ছয়মাস হওয়ার আগে সাধারনত এই তিনটি লক্ষন একসাথে দেখা যায় না। কিছু কিছু জিনিস দেখে বাবা-মায়েরা ভুল করে ভাবেন যে তাকে শক্ত খাবার দেয়ার সময় হয়েছে, যেমন

বাচ্চাকে হাতের মুঠো চিবুতে দেখে

আগের মত রাতে ঘুমানোর বদলে মাঝরাতে জেগে উঠতে দেখলে

আগের চেয়ে বেশি পরিমানে দুধ খেতে চাইলে।

এগুলো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারন বিষয়, এবং এগুলো দেখে সে যে বেশি ক্ষুধার্ত এমনটা ভেবে নেয়ার কোন কারন নেই। শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করলেই বাচ্চা সারা রাত ঘুমাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। অন্যান্য খাবার খাওয়ানো শুরু করার আগে বেশি করে দুধ খাওয়ানোই যথেষ্ট।

খাওয়ানো শুরু করা

বাচ্চা পছন্দ করলে তাকে খাবার ধরতে দিন।

খাওয়ানোর পুরোটা সময় বাচ্চার সঙ্গে থাকুন, কারন খাবার তার গলায় আটকে যেতে পারে।

বাচ্চা নিজে নিজে হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করে খাওয়ার আগ্রহ দেখালে তাকে সেটা করতে দিন।

বাচ্চাকে জোর করবেন না – যদি তারা খেতে না চায় তাহলে পরে আরেকবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।

যদি চামচ দিয়ে খাওয়ান তাহলে আপনার শিশু মুখ খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আপনার শিশু নিজেও একটা চামচ হাতে নিতে চাইতে পারে।

প্রথমে দিনেরবেলা অল্প কয়েক চামচ করে খাবার খাওয়ানো শুরু করুন

যদি খাবার গরম হয় তাহলে সেটা ঠাণ্ডা করে নিন এবং বাচ্চার মুখে দেয়ার আগে তা কত গরম তা পরীক্ষা করে নিন।

চিনি, লবন এবং কিছু জমিয়ে রাখা খাবারের কিউব পাওয়া যায়, বাচ্চার খাবারে বা রান্নার পানিতে এই ধরনের কিউব মেশাবেন না।

বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন-)। কি ধরনের খাবার দিয়ে খাওয়ানো শুরু করবেন জানতে পড়ুন- “শিশুর প্রথম খাবার’()? বাচ্চার খাবার আরও সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর করার জন্য পড়ুন- ’’শিশুর খাবারে নতুনত্ব’)। বাচ্চার দাঁত উঠলে তার যত্ন নিবেন কীভাবে, তা জানতে দেখুন- ‘শিশুর দাত’ )?

About the author

Maya Expert Team