বাল্যরোগ চিকিৎসা শক্ত খাবার শিশুর যত্ন

পানীয় এবং কাপ

শক্ত খাবার ও দুধ

যখন দেখবেন আপনার বাচ্চা বেশী করে শক্ত খাবার খাচ্ছে, তখন তারা যে পরিমাণ দুধ খায় তা কমে যাবে।

একবার যখন আপনার বাচ্চা সারাদিন ধরে যথেষ্ট পরিমানে শক্ত খাবার খাবে, দেখবেন তারা দুধ কম খাবে এমনকি দিনে মাত্র কয়েকফোটা দুধ খাবে। আপনি বুকের দুধ খাওয়ানো চলিয়ে যেতে পারেন অথবা ১ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাকে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ মিলি কৌটার দুধ দিতে পারেন। যতদিন আপনি চান আপনার নিজের এবং বাচ্চার ভালোর জন্য বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন ।

কাপ এবং মগ

যদি বাচ্চা বোতলে খায়, বাচ্চাকে ৬ মাস থেকে বোতলের বদলে কাপ বা মগে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে বাচ্চা বোতল ও বোতলের চুষনী খাওয়া বন্ধ করবে, নাহয় বাচ্চার বোতল চোষার অভ্যাস বন্ধ করাটা আপনার জন্যে কঠিন হয়ে যাবে।

মুখ খোলা কাপ বা ঢাকনাবিহীন কাপে খাওয়ালে আপনার বাচ্চা চুষে খাওয়ার বদলে চুমুক দিয়ে খেতে শিখবে যা বাচ্চার দাতের জন্য ভালো। মিষ্টিজাতীয় পানীয় চুষে খাওয়া হলো দাত ক্ষয়ের প্রধান কারন। যদি আপনি বোতল বা ট্রেইনার কাপ ব্যবহার করেন তাহলে বুকের দুধ,পানি বা কৌটা খাবার ছাড়া আর কিছু এতে রাখবেন না।

কাপ না মগ?

সঠিক রকম কাপ বা মগ বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুষনীওয়ালা ফ্লাস্ক বা বোতলের চেয়ে ঢাকনা ছাড়া মগ ভালো। চুষনীর মধ্য দিয়ে পানীয় খুব আস্তে আসে, এর মানে হল বাচ্চা চুষনী অনেকটা সময় মুখে রেখে দিচ্ছে। এটা বাচ্চার দাত ক্ষয় করে এবং বাকশক্তি গঠনকে বিলম্বিত করে। সাধারনত মিষ্টিজাতীয় পানীয় খেলে এটা বেশী হয়। যতই তাড়াতাড়ি আপনার বাচ্চা প্রস্তুত হয়ে উঠতে থাকবে, ততই বাচ্চাকে চুষনীযুক্ত বোতল বাদ দিয়ে কাপে খেতে উৎসাহিত করুন।

পানীয়

সকল প্রকার পানীয় বাচ্চাদের উপযোগী নয়। নিচের তালিকা ব্যখ্যা করবে আপনি বাচ্চাকে কখন কি দিবেনঃ

বুকের দুধঃ প্রথম ৬ মাসের বাচ্চার জন্য সবচেয়ে আদর্শ খাবার হলো বুকের দুধ। ৬ মাস পরেও অন্যান্য খাবারের সাথে বুকের দুধ চালিয়ে যাবেন।

বাচ্চার কৌটা খাবার সাধারনত গরুর দুধ দিয়ে বানানো হয় এবং আপনার বাচ্চার প্রথম ১২ মাস বয়সের জন্য এটিই একমাত্র বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সাধারণত ১ বছর বয়স বা তার পর যখন বাচ্চাকে সরাসরি গরুর দুধ খাওয়াতে পারবেন তার আগ পর্যন্ত এ খাবার চালিয়ে যেতে পারেন।

গরুর দুধ ছাড়া কৌটা খাবারঃ যদি আপনার ডাক্তার উপদেশ দেয় তাহলে সয়া জাতীয় খাবার এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। যেসব বাচ্চার গরুর দুধে এলার্জী থাকে তাদের সয়া জাতীয় খাবারেও এলার্জী থাকতে পারে।

গরুর দুধঃ সম্পুর্ন গরুর দুধে আয়রন ও অন্যান্য ভিটামিন আপনার বাচ্চার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে থাকে না, তাই বয়স ১ বছরের নিচে এমন বাচ্চাদের এটা না দেওয়াই উচিত। বাচ্চার জন্যে অন্যান্য খাবার তৈরিতে গরুর দুধ ব্যবহার করতে পারেন। বাচ্চার বয়স ২ বছর হলে এবং যদি তার ভিন্ন স্বাদের খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকে তবে আধা ক্রীমজাতীয় দুধ দিতে পারেন। ৫ বছরের নিচে বাচ্চাদের প্যাকেটজাত দুধ উপযুক্ত নয়। ১ বছর বয়স থেকে বাচ্চার জন্যে রান্না করা খাবারে কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

ছাগল ও ভেড়ার দুধ এবং যবের তৈরী পানীয়ঃ ১ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত নয় কারন এতে বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় আয়রন ও ভিটামিন থাকে না। এই পানীয় পাস্তুরিত করে ১ বছরের বেশী বাচ্চাদের দেয়া যেতে পারে।

চালের দুধঃ ৫ বছরের নিচের বাচ্চাদের চালের দুধ দেওয়া যাবে না, কারন এতে আর্সেনিক থাকে। যদি বাচ্চা চালের দুধ ইতোমধ্যে খেয়েই থাকে, তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা এখনই কোন ক্ষতি করবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে এই জাতীয় পানীয় দেয়া যাবেনা।

“রাতে ঘুমাতে যাবার আগের দুধ” – রাতে ঘুমাতে যাবার আগে খাওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি কিছু কৌটার দুধ পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে এগুলো বাচ্চার ভাল ঘুমে সহায়তা করে। ৬ মাসের নিচের বাচ্চাদের উপযোগী নয়।৬ মাসের পর থেকে দিতে পারেন। না দিলেও সমস্যা নেই, কারন এতে স্বাস্থ্যগত কোন সুবিধা পাওয়া যায় এমন কোন প্রমান নেই।

পানিঃ শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চাদের পানির দরকার নেই,যতক্ষন না তারা ভারী ও শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করছে। যারা বোতলে খায় শুধুমাত্র গরমকালে তাদের অল্প পরিমাণ পানির দরকার হতে পারে। ৬ মাসের নিচের বাচ্চাদের সব ধরনের পানি এমনকি বোতলজাত পানিও ভালভাবে সেদ্ধ করার পর ঠান্ডা করে খাওয়ানো উচিত। সব বয়সী বাচ্চাদেরই পানি সেদ্ধ করে খাওয়ানো উচিত। যদি বোতলের পানি খাওয়ান তাহলে লেবেলে দেখে নিবেন যে তা শিশুদের খাওয়ানোর উপযুক্ত কি না কিংবা যেটায় ২০০মিগ্রা এর কম সোডিয়াম রয়েছে সেই পানি খাওয়াবেন।

ফলের জুসঃ ফলের জুস যেমন টোম্যাটো, আংগুর বা কমলার জুসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।এতে প্রাকৃতিক চিনি ও এসিড থাকে যা দাতের ক্ষয় করে। ৬ মাসের নিচের বাচ্চাদের তাই ফলের জুস দেওয়া উচিত না। ভিটামিন সি আপনার শিশুর দেহের আয়রন শোষন করতে সাহায্য করে। আপনার বাচ্চা যদি শুধু সবজি খায় তাহলে তাকে খাবারের সাথে পাতলা করা ফলের জুস দিতে পারেন (১ ভাগ জুসের সাথে ১০ ভাগ পানি মিশিয়ে)। তবে এক্ষেত্রে, বাচ্চার ৬ মাস পূর্ণ হতে হবে (খাবারের সময় অন্যান্য খাবারের সাথে দিবেন। এটি দাতের ক্ষয় রোধ করবে)

স্কোয়াশ,সুগন্ধী দুধ, ফলের জুস,কোমল পানীয় এগুলোতে চিনি থাকে যা দাঁতের ক্ষয় করে এমনকি তা পাতলা করে দিলেও। এগুলো ছোট বাচ্চাদের জন্যে মোটেও উপযোগী নয়। আরকটু বেশী বয়েসী বাচ্চাদের এবং হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে এমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এসব পানীয় ক্ষুধা মন্দা বা অপর্যাপ্ত ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে এমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এসব পানীয় ডায়রিয়াও করতে পারে। এমনকি কৃত্তিম চিনিযুক্ত খাবার বাচ্চাকে পরবর্তীতে মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত উৎসাহিত করতে পারে।যদি বাচ্চাকে স্কোয়াশ,সুগন্ধি দুধ,বা জুস দিতে চান, তাহলে তা বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানোর সময় অন্যান্য খাবারের সাথে দিন, পানি মিশিয়ে পাতলা করে দিন এবং বোতলের বদলে কাপে করে দিন। কোমল পানীয়তে অম্ল থাকে, যা বাচ্চার দাতের এনামেলকে নষ্ট করে। তাই, শিশু এবং হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে এমন বাচ্চাদেরকে এগুলো দেয়া উচিত নয়। ডায়েট বা কম চিনিযুক্ত পানীয়ও শিশুদের এবং হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে এমন বাচ্চাদের জন্যে উপযুক্ত নয়। যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে স্যাকারিনযুক্ত ঘন পানীয় দিতে চান তবে তা ভালভাবে পানির সাথে মিশিয়ে পাতলা করে দিন (কমপক্ষে ১০ ভাগ পানির সাথে ১ভাগ মিষ্টিজাতীয় পানীয় – এই অনুপাতে)

হার্বাল পানীয়ঃ এতে চিনি থাকে এবং খাওয়ানো অনুচিত।

গরম পানীয়ঃ শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য চা বা কফি উপযুক্ত নয়। খাবারের সাথে খাওয়ানো হলে এটি আয়রনের শোষন কমিয়ে দেয়। এর সাথে চিনি মেশানো হলে তা দাতের ক্ষয় করতে পারে।

About the author

Maya Expert Team