বাল্যরোগ চিকিৎসা শক্ত খাবার শিশুর যত্ন

শুরু করা বা প্রাথমিক প্রস্তুতি

Written by Maya Expert Team

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত যে, শিশুদেরকে শক্ত খাবার খাওয়ানো (ওয়েনিং) শুরু করার উত্তম সময় হলো ছয় মাস বয়সে। এ বয়সের পূর্বে, শিশুর পরিপাকতন্ত্র উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন থাকে। শক্ত খাবার খাওয়ানো খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু করলে তা ইনফেকশন (সংক্রমণ) এবং অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৬ মাস বয়সের পূর্বে শিশুকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করতে চাইলে কি কি খাবার খাওয়ানো এড়িয়ে চলতে হবে সে সম্পর্কে জানুন।

৬ মাস বয়সের পূর্বে শিশুকে যেকোনো সময়ে ক্ষুধার্ত মনে হলে, তাকে অতিরিক্ত দুধ খেতে দিন। সময়ের পূর্বে জন্ম নেয়া শিশুদেরকে শক্ত খাবার খাওয়ানো সময় ভিন্ন হতে পারে। শিশুর জন্য কোনটি উত্তম তা জানতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

একবার দুধ খাওয়ানোর পর অথবা সুবিধাজনক হলে দুধ খাওয়ানোর মাঝে, বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের সাথে চটকানো শাকসব্জি, ফল অথবা সিরিয়াল মিশিয়ে শক্ত খাবারের সাথে পরিচিত করে তুলতে পারেন। যদি শিশুকে বোতল দ্বারা খাওয়ানো হয়, তাহলে তার ফর্মুলা দুধে কোনো খাদ্য, যেমন সিরিয়াল ইত্যাদি মেশাতে যাবেন না।

নতুন খাদ্য খাওয়া শেখার ক্ষেত্রে কিছু কিছু শিশুর সময় লাগতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ও গঠন সম্পর্কে ও নতুন খাদ্য খাওয়া সম্পর্কে তারা জানতে থাকে এবং এ পদ্ধতিটি ধারাবাহিক নয়। এ ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে এবং এ সম্পর্কিত বিশৃংখলার জন্য আপনার প্রস্তুত থাকা উচিত।

শক্ত খাবার খাওয়ানো শেখাতে নিম্নোক্ত পন্থাসমূহ সহায়ক হতে পারেঃ

দিনের এমন একটি সময় বেছে নিন যখন আপনি ও শিশু উভয়ই কর্মমুক্ত বা বিশ্রামে থাকেন।

শিশুর দৌড়ানোর গতির সাথে দৌড়ান। খাওয়ানোর জন্য অনেক সময় প্রয়োজন তাই তাড়াহুড়ো করবেন না, বিশেষ করে প্রথম বার খাওয়ানোর সময় এরকম মোটেও করা উচিত নয়। খাবার গলধঃকরণের জন্য জিহবার অগ্রপ্রান্ত থেকে খাবার গলার পিছনে নেয়ার প্রক্রিয়া শিশুকে শিখতে হয়। দুধ থেকে এ জাতীয় খাবারের স্বাদ ও অনুভব খুবই ভিন্ন থাকে তাই এ জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হতে কিছু সময় লাগবেই। পর্যাপ্ত খাবার খেয়ে ফেলেছে এমন ইঙ্গিত পেলে খাওয়ানো থামিয়ে দিন। কিভাবে খেতে হয় তা শিশুকে দেখান এবং তাদের সাথে একসঙ্গেঁ খাবার গ্রহণ করুন। বাবা-মা ও অন্যান্য শিশুদেরকে শিশুরা অনুকরণ করে। তাই কিভাবে খেতে হয় তা আপনি তাকে দেখাতে পারেন। আপনার খাবার গ্রহণ তারা উপভোগ করে এবং পরিবারের সঙ্গে একসাথে বসে খাবার খেতে শিখে। যখন আপনি ও বাকি পরিবার বসে খাবার খাচ্ছেন, তখন যাতে তারা যোগ দিতে পারে সেজন্য কথা বলে এবং খাবার দিয়ে তাদের সাহায্য করুন। প্রতিদিন একই সময়ে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের এ বিষয়টি সহজে বোধগম্য হয় যে কখন খাবার খেতে হবে।

প্রথম দিকে খাবারের গঠন কোমল ও নরম হওয়া উচিত যাতে তা শিশুর গলায় আটকে না যায়। পরবর্তীতে, ভিন্ন গঠনের খাবারের সাথে পরিচিত করে তুলতে পারেন।

শিশুর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যস্ত হতে পারে এমন সব খাবার তারা পছন্দ করে তাই যতটুকু পারেন ভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার তাদের দিন – এ পদ্ধতিতে বড় হওয়ার সাথে সাথে এই ধরনের খাবার তারা খেতে থাকবে। চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় অথবা লবণাক্ত কিংবা ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবার তাদেরকে খেতে দেবেন না, কেননা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সেই ধরনের খাবারগুলোই তারা বেশি খেতে চাইবে।

বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন খাবার অল্প পরিমাণে খেতে দিন। শিশুরা নিজের জন্য কোনো কিছু পছন্দ করতে ভালোবাসে এবং ভিন্ন ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হতে কখনো কখনো তারা সময় নেয়, তাই অল্প পরিমাণ খাবার অনেক বারে খেতে দিন যাতে তারা নতুন খাবারের সাথে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়।

শিশুদেরকে তাদের আঙুল দ্বারা নিজে নিজে খাবার খেতে দিন। এভাবে তারা কতটুকু খেতে চায় তা আপনাকে দেখাতে পারবে এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে তারা পরিচিত হতে পারে। সেই সাথে এভাবে খাবার গ্রহণ উপভোগ্য হয়ে উঠে।

সোজাসোজি ও সামনের দিকে মুখ দিয়ে শিশুর বসা উচিত। খাবার সম্পর্কে জানতে এটি সাহায্য করে এবং এতে করে খাবার গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। একটি উঁচু চেয়ার খাবার খাওয়ানোর জন্য উত্তম।

শিশুকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত সব ধরনের প্রয়োজনীয় পাত্র, উপাদান খুবই পরিষ্কার থাকা উচিত।

বেশি পরিমাণ খাবার গরম করে অপচয় করার চেয়ে শিশু যে পরিমাণ খাবে সে পরিমাণ খাবার চামচ দিয়ে মেপে গরম করে নেয়া ভালো। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে পরবর্তীতে আবার খাবার গরম করে নিতে পারবেন। গরম করা হয়নি এমন খাবার খেতেও অনেক শিশু পছন্দ করে থাকে।

যদি খাবার গরম থাকে, তাহলে তা ঠান্ডা করে নিন, নাড়ুন এবং শিশুকে প্রদানের পূর্বে এর তাপমাত্রা দেখে নিন।

ঘরের মেঝে খবরের কাগজ অথবা সংরক্ষণশীল ম্যাট বা মাদুর দ্বারা ঢেকে নিন এবং মুখ থেকে পতিত খাদ্য ধরে রাখার জন্য বিব (শিশুদের এক ধরনের কাপড় যা গলায় বাঁধা হয়) ব্যবহার করুন।

খাদ্য গ্রহণ অবস্থায় শিশুদের কখনো একা ফেলে যাবেন না কেননা তাদের গলায় খাবার আটকে যেতে পারে।

শিশুরা চাইলে তাদেরকে খাবার স্পর্শ করতে দিন। এতে তারা কি ধরনের খাবার খাচ্ছে সে সম্পর্কে জানতে পারে।

খাবার খাওয়ানো হচ্ছে শিশুদের সাথে যোগাযোগের একটি সুবর্ণ সুযোগ, তাই খাদ্য গ্রহণের সময় তার সাথে কথা বলুন। এটি খাওয়ার সময় আরামবোধ করতে তাদেরকে সাহায্য করবে।

সাধারণত তাদের দিকে মুখ করে আপনি বসবেন, ফলে আপনি কি বলছেন সেদিকে তারা মনযোগ দিতে পারবে। প্রাথমিক পর্যায়ে, আপনার কথাগুলো ছোট হতে পারে, যেমন, “আরো লাগবে?” শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে পছন্দের তালিকা এবং কথা দীর্ঘ করতে পারেন, যেমন তখন বলতে পারেন “তুমি কি দুধ বা ফলের রস খেতে চাও?”

শিশু শক্ত খাবারে অভ্যস্ত হওয়ার সাথে সাথে বুকের দুধ বা খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। অধিকাংশ শিশুই ক্ষুধা কমে গেলে তা বুঝতে পারে, তাই তারা যদি খাবারের কোনো অংশ খেতে না চায় তাহলে জোরাজুরি করবেন না। অল্প পরিমাণে অনেক বারে খাবার ও নাস্তা প্রদান অল্প বয়সকালের জন্য উত্তম। যদি কোনো বেলায় শিশু বেশি পরিমাণে না খায় কিংবা একদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ না খায় তবে চিন্তা করবেন না, তারা পুরো সপ্তাহে কি পরিমাণ খাচ্ছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

About the author

Maya Expert Team