বাল্যরোগ চিকিৎসা শক্ত খাবার শিশুর যত্ন

শিশুর প্রথম খাদ্য

৬ মাস বয়স থেকে

শিশুর প্রথম শক্ত খাবার নরম হওয়া উচিত, যাতে তা সহজেই হজম হয়ে যায়। শাকসবজি, ফল অথবা ভাত সহজ শক্ত খাবারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আপনি নিম্নোক্ত খাদ্যগুলি শিশুকে খাওয়াতে পারেনঃ

চাল, ডাল, তেল ও সবজি দিয়ে খিচুড়ি

দুধ ও চিনি দিয়ে সুজি

চটকানো কিংবা ভর্তা করা ভাত বা শিশুদের ভাত (ভাত এবং বাচ্চার জন্যে উপযুক্ত দুধের মিশ্রন)

চটকানো বা ভর্তা করে রান্না করা আলু, রাঙা আলু, মিষ্টি আলু ও গাজর

চটকানো বা ভর্তা করা কলা, সিদ্ধ আপেল বা নাশপাতি

নরম ফল ও সবজির ছোট টুকরা যা শিশু সহজে ধরতে পারে

আপনার শিশু ফল ও শাকসবজি খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, আপনি অন্যান্য খাবার খাওয়ানো শুরু করতে পারেন, যেমনঃ

চটকানো কিংবা ভর্তা করা মাংস, মাছ ও মুরগীর মাংস

ডাল

পূর্ণ ননীযুক্ত দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য, যেমন দই অথবা কাস্টার্ড (কম চিনিযুক্ত খাদ্যকে অগ্রাধিকার দিন)

টোস্টের ছোট টুকরা

বেশীর ভাগ বাচ্চাই দাত না থাকা সত্যেও ছোট ছোট লোকমায় দেয়া কচলানো কলা,সবজি,পনির চাবাতে এবং খেতে পারে। আপনার বাচ্চার খাবারের ধরন আপনার বাচ্চাকে খাবার চিবাতে সহায়তা করবে এবং মুখের মাংসপেশীকে কথা বলার উপযোগী করে তুলবে।

আপনার বাচ্চাকে বিভিন্ন স্বাদ ও ধরনের খাবার দিয়ে তার প্রতিক্রিয়া দেখুন। কতটুকু খাচ্ছে এর থেকে জরুরী হলো, দুধ ছাড়াও অন্যান্য খাবারের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

ফিঙ্গার ফুড বা আঙুলে ধরে খাবার খাদ্য

আপনার শিশুর যদি দাঁত নাও উঠে, আপনি তাকে আঙুলে ধরে খাবার খাদ্য দিয়ে, খাবার চিবানোর আগ্রহ গড়ে তুলতে পারেন। আঙুল খাদ্য হলো ছোট খাদ্যর টুকরা যা শিশু হাতে তুলতে ও ধরতে পারে। ফিঙ্গার ফুড প্রদানে শিশু নিজে নিজে খাওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। আদর্শ ফিঙ্গার ফুড হলোঃ

সিদ্ধ ও শীতলকৃত ব্রকলি, ফুলকপি, সবুজ শিম, গাজর, লাউ প্রভৃতির টুকরা

পনিরের খন্ড

পিঠা

খোসা ছাড়ানো কাঁচা আপেল, নাশপাতি, তরমুজের টুকরো (শিশু যাতে কামড়াতে পারে সে অনুযায়ী টুকরো দিন

চিনিযুক্ত ও মিষ্টিজাতীয় বিস্কুট ও রুটি দেয়া পরিহার করুন যাতে শিশু চিনিযুক্ত খাবার খেতে অভ্যস্ত না হয়ে পরে।

আপনার বাচ্চা যদি নোংরা করে বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে খায় তবে চিন্তা করবেন না,এটা স্বাভাবিক যে প্রথম প্রথম বাচ্চারা খাবার নিয়ে খেলা করবে। এভাবে খেতে খেতেই তারা শিখবে। দরকার হলে প্লাষ্টিকের টেবিল ক্লথ, চাদর বা কাগজ বিছিয়ে দিন যাতে পরে আপনার পরিস্কার করতে সুবিধা হয়।

বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশু খাদ্য

আপনি সংগ্রহে কিছু পাত্র, টিন বা প্যাকেটজাত বিকল্প শিশু খাদ্য রাখতে পারেন, কিন্তু এসব খাদ্য শিশুদের সবসময় খাওয়াবেন না। এজাতীয় শিশু খাদ্য ক্রয়ের পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখুনঃ

উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীর্নের তারিখ

ক্যান ও জারে পণ্যের সিল অবিকৃত আছে কিনা

খাদ্য প্রস্তুতির নিয়মাবলী ভালোভাবে পড়ুন এবং

চিনি বা চিনির বিকল্প মুক্ত খাবার নির্বাচন করুন

কিছু শিশু খাদ্যের লেবেলে উল্লেখ থাকে ‘৪ মাসের শিশুর জন্য প্রযোজ্য’। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে শক্ত খাদ্য খাওয়ানো ৬ মাস বয়স থেকে শুরু করাই উত্তম।

পরিবারের সদস্যদের জন্য ক্রয়কৃত সকল খাদ্য পণ্যের লেবেল দেখে নিন। অনেক সস, স্যুপ, সিরিয়াল ও বাণিজ্যিকভাবে তৈরি খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি থাকে। সেগুলো পরিহার করুন এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি খাবার নির্বাচন করুন।

খাবার গলায় আটকে যাওয়া

কাঁচা গাজর, আপেলের বড় টুকরো, ছোট গোলাকার ফল ( যেমনঃ আঙুর, চেরী, টমেটো), খোসাযুক্ত খাবার ( যেমনঃ সসেজ), হাঁড় ( যেমনঃ মাছের কাঁটা) প্রভৃতি শক্ত খাদ্য শিশুর গলায় আটকে যেতে পারে।

ফল, শাকসবজীর খোসা ভালোভাবে ছাড়িয়ে নিন এবং মাছের কাঁটা বেছে দিন। খাবার ছোট ছোট টুকরো করে নিন এবং শিশুকে খাওয়ানোর পূর্বে হালকা সিদ্ধ করে নিন। খাবার খাওয়ার সময় শিশুকে একা ফেলে যাবেন না।

৮-৯ মাস বয়স থেকে

এ সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে আপনার শিশু তিনবেলা খাদ্য গ্রহণ শুরু করে দিবে। এ খাবারে থাকবে নরম ফিঙ্গার ফুড, চটকানো ও টুকরো করা খাদ্য।

শিশুর খাদ্য তালিকায় নিম্নোক্ত খাদ্য প্রকরণগুলো থাকা উচিতঃ

ফল ও শাকসবজি

ব্রেড

চাল

পাস্তা

আলু

অন্যান্য শর্করা জাতীয় খাদ্য, যেমন মাছ, মাংস, ডিম, মটরশুটি

অদুগ্ধজাত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য

দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য

শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা ও বিকাশের জন্য “বিভিন্ন খাদ্যের প্রকরণ” নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বয়স ১২ মাস থাকাবস্থায়

এই সময়ে আপনার শিশু ৩ বেলা খাবার খাবে। এ খাদ্য প্রয়োজনভেদে টুকরো করা থাকতে পারে, সেইসাথে খাদ্য তালিকায় বুকের দুধ অথবা গরুর দুধ, স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার যেমন ফল, শাকসবজি, টোস্ট ও পিঠা থাকতে পারে।

শিশু এই সময়ে সম্পূর্ণ গরুর দুধ পান করতে পারবে। পুর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য নির্বাচন করুন কেননা ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি ও ভিটামিন প্রয়োজন। যদি শিশু ভালোভাবে খেতে পারে এবং বয়স অনুসারে বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়ে থাকে, তাহলে তাকে অর্ধ-ননীযুক্ত দুধ খাওয়াতে পারেন। ৫ বছর বয়স থেকে ১% ফ্যাট ও অর্ধ-ননীযুক্ত দুধ গ্রহণ উত্তম।

আপনার শিশুকে নিম্নোক্ত পরিমাণ অনুযায়ী খাবার খাওয়াতে পারেনঃ

আলু, ব্রেড, ভাত প্রভৃতি শর্করা জাতীয় খাদ্য দৈনিক ৩-৪ বার

ফল ও শাকসবজি দৈনিক ৩-৪ বার

মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, শিম প্রভৃতি দৈনিক ২ বার

About the author

Maya Expert Team