বাল্যরোগ চিকিৎসা শক্ত খাবার শিশুর যত্ন

খাদ্য অ্যালার্জি বা খাবারের কারণে অ্যালার্জির সমস্যা

পরিবারের কোনো সদস্যের যদি অ্যাটপি (একজিমা, অ্যাজমা, অ্যালার্জি জনিত জ্বর অথবা খাদ্য অ্যালার্জি) আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে শিশুরও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যদি আপনার পরিবারে কারও এসব অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে শিশুকে প্রথম ৬ মাস কেবলমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেয়া হয়। যদি আপনি বুকের দুধ পান না করান, তাহলে বাচ্চাকে কোন ধরণের কৌটার দুধ খাওয়ানো উচিত সে ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শিশুর দাঁত উঠা শুরু হওয়ার পর যখন শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করবেন, তখন যে সব খাবারে সাধারণত অ্যালার্জি হয় সেসব খাবার, যেমন দুধ, ডিম, ময়দা, বাদাম, বীজ, মাছ ও খোলসওয়ালা মাছ (চিংড়ি, শামুক) এগুলো পর্যায়ক্রমে দিন। এতে কোন খাবারে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয় তা সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন। ৬ মাস বয়সের আগে এসব খাবার প্রদান করবেন না।

চীনাবাদামের অ্যালার্জি

মোট জনসংখ্যার শতকরা ১-২% ব্যক্তি বাদাম, বাদামজাত দ্রব্য এবং কয়েকটি বীজের কারনে গুরুতর অ্যালার্জির শিকার হয়ে থাকে। আপনার শিশু বাদাম সৃষ্ট অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে আছে যদিঃ

সে ইতিমধ্যে পরিচিত অ্যালার্জিতে (যেমন একজিমা বা কোনো খাদ্যে অ্যালার্জি) আক্রান্ত হয়ে থাকে, অথবা

পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যালার্জিতে (যেমন অ্যাজমা, একজিমা অথবা আ্যলার্জি জনিত জ্বর) আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে

যদি এরকম হয়ে থাকে, তাহলে আপনার শিশুকে প্রথমবার বাদাম অথবা বাদামজাত খাদ্য খাওয়ানোর পূর্বে স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন।

৬ মাস বয়সের পূর্বে আপনার শিশুকে বাদাম ও বাদাম রয়েছে এমন খাদ্য, যেমন বাদামের মাখন, চীনাবাদামের তেল, বাদাম সমৃদ্ধ হালকা খাবার ইত্যাদি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে পুরো চীনাবাদাম অথবা বাদাম খেতে দিবেন না, কারণ এটি শ্বাসরোধ করতে পারে।

খাবার লেবেল ভালোভাবে পড়ুন এবং কোনো খাবারে বাদাম আছে কিনা নিশ্চিত না হলে সে খাবার গ্রহণে বিরত থাকুন।

আমার শিশুর খাদ্যে অ্যালার্জি আছে কিনা তা কীভাবে বুঝতে পারব?

অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিম্নোক্ত এক বা একাধিক লক্ষণে বোঝা যেতে পারেঃ

ডায়রিয়া এবং/অথবা বমি করা

কাশি হওয়া

শ্বাসের সাথে শব্দ ও শ্বাসকষ্ট হওয়া

গলায় ও জিহ্বাতে চুলকানি হওয়া

ত্বক বা চামড়ায় চুলকানি হওয়া অথবা লাল দাগযুক্ত ফুসকুড়ি হওয়া

ঠোঁট ও গলা ফুলে যাওয়া

নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ বন্ধ ভাব, অথবা

চোখ চুলকানো, চোখ লাল হয়ে যাওয়া

অধিকাংশ শিশুই তাদের খাদ্য অ্যালার্জি থেকে সুস্থ হয়ে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে খাদ্য অ্যালার্জি খুবই তীব্র প্রতিক্রিয়ার (অ্যানাফাইলেক্সিস) সৃষ্টি করে এবং সেটি জীবনের প্রতি হুমকিস্বরূপও হতে পারে। যদি আপনার শিশু কোনো খাদ্যে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বলে মনে করেন, তাহলে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোনো প্রধান খাদ্য, যেমন দুধ খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কোনোরূপ পরীক্ষা করতে যাবেন না কারণ এটি আপনার শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রাপ্তি ব্যাহত করবে। আপনার স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন ।

খাদ্য সংরক্ষনের জন্য ব্যবহৃত উপাদান (food additives)

প্রক্রিয়াজাত, টিনজাত, প্যাকেটজাত খাদ্যকে তাজা রাখার জন্য, স্বাদ, গন্ধ, রঙ ও গঠন অপরিবর্তন রাখার জন্য, পচন রোধ করার জন্য নানা রকম উপাদান ব্যবহার করা হয়।

খাদ্য সংরক্ষনের কিছু উপাদান প্রাকৃতিক ও কিছু কৃত্রিম হয়ে থাকে। খাদ্যে যুক্ত এই উপাদান গুলো প্যাকেটের লেবেলে উল্লেখ করার জন্য আইনগত নির্দেশনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘ই’ (E) নাম্বারকৃত উপাদান ইইউ (ইউরোপিয়ান কমিশন) অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর জন্য ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হিসেবে পরীক্ষিত ও স্বীকৃত রয়েছে।

কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে খাদ্য সংরক্ষনের এই উপাদান বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে খাদ্যে অ্যালার্জির বিষয়টি সাধারনত বিভিন্ন সাধারণ খাদ্য যেমন দুধ, সয়াবিন প্রভৃতির ক্ষেত্রেই বেশি হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে শুধুমাত্র ‘খাদ্য সংরক্ষনের উপাদান’ ই বেশি মাত্রায় তা নয়, এতে উচ্চ মাত্রার লবণ, চিনি ও চর্বি থাকার সম্ভাবনাও থাকে। সেসব খাদ্যের বদলে ফল, শাকসবজি ও শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করুন।

About the author

Maya Expert Team