এসটিআই এসটিডিএস জেনিটাল ওয়ার্টস

যৌনাঙ্গের আঁচিল এর চিকিৎসা

যৌনাঙ্গের আঁচিল (Genital wart) এর ধরন ও অবস্থানের উপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হয় এবং যা একমাত্র দৃশ্যমান কোন আঁচিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যৌনাঙ্গের আঁচিলের চিকিৎসা দুই ধরনের হয়ঃ

আঁচিলে ক্রিম, লোশন বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে (টপিকাল ট্রিটমেন্ট, topical treatment)

নির্দিষ্ট মাত্রার ঠাণ্ডা বা তাপ প্রয়োগে আঁচিল পুড়িয়ে বা কেটে ফেলে (সার্জারি করে কেটে ফেলা বা physical ablation)

নরম ধরনের আঁচিলগুলোতে টপিকাল ট্রিটমেন্ট আর শক্ত বা অমসৃণ ধরনের গুলোতে সার্জারি করে সরিয়ে ফেলার পদ্ধতি ভাল কাজ করে। কখনো কখনো কয়েক ধরনের টপিকাল ট্রিটমেন্ট একসাথে প্রয়োগ করা হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে আঁচিলগুলো পুরোপুরি দূর করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এসময় সুগন্ধি সাবান, ফেনিল বাথটাব ও লোশন ব্যবহারে বিরত থাকতে হবে।

টপিকাল ট্রিটমেন্ট (Topical treatment)

যৌনাঙ্গের আঁচিলের চিকিৎসায় কয়েক ধরনের টপিকাল ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ক্রিমের কারনে ল্যাটেক্স কনডম (latex condoms), ডায়াফ্রাম (diaphragms) বা ক্যাপ দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যা এদের গর্ভনিরোধক হিসেবে অকার্যকর করতে পারে তাই এগুলো ব্যবহারের আগে ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। নিচে টপিকাল ট্রিটমেন্ট গুলোর বিবরণ দেয়া হলঃ

পোডোফিলোটক্সিনঃ পোডোফিলোটক্সিন ছোট ছোট আঁচিল গুচ্ছের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি লিকুইড হিসেবে পাওয়া যায় এবং আঁচিলের কোষের উপর বিষক্রিয়া ঘটানোর মাধ্যমে কাজ করে। এই ক্রিম বা লিকুইড আঁচিলে লাগালে আপনার সামান্য যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি হতে পারে। যেখানে লিকুইড প্রয়োগ করা কঠিন সেখানে ক্রিম লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়। গর্ভবস্থায় পোডোফিলোটক্সিন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

ইমিকুইমড/ইমিকিমড (Imiquimod) বড় ধরনের আঁচিলের জন্য ইমিকুইমড ব্যবহার করতে বলা হয়। এটি রোগ প্রতি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আঁচিলগুলোকে আক্রমন করতে উদ্দিপিত করার মাধ্যমে কাজ করে। এটি ব্যাবহার করে ফল পাওয়া শুরু করতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয় না।

ট্রাইক্লোরো অ্যাসেটিক অ্যাসিড (Trichloroacetic acid) ট্রাইক্লোরো অ্যাসেটিক অ্যাসিড বা TCA খুব বেশি শক্ত আঁচিলগুলোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি আঁচিলের ভেতরের প্রোটিন ধ্বংস করে দেয়। তবে এটি ঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হলে, TCA সুস্থ ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে TCA ব্যবহার করা নিরাপদ মনে করা হয়।

কোন রাসায়নিক ব্যাবহার না করে সরিয়ে ফেলা (Physical ablation)

যৌনাঙ্গের আঁচিল সরিয়ে ফেলার চারটি পদ্ধতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছেঃ

ক্রায়োথেরাপি (cryotherapy)

এক্সিশন (excision)

ইলেক্ট্রো সার্জারি (electrosurgery)

লেজার সার্জারি (laser surgery)

এগুলো প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ডাক্তারেরা করে থাকেন।

ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy)

ক্রায়োথেরাপিতে লিকুইড নাইট্রোজেন ব্যবহার করে আঁচিলটি পুড়িয়ে দেয়া হয় যা কিছুদিন পর শুকিয়ে ঝরে পরে যা সাধারণত পুরুষাঙ্গের গায়ে বা মেয়েদের যোনিমুখের (vulva) কাছাকাছি দেখা দেয়া ছোট ছোট আঁচিলের চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়। ক্রায়োথেরাপি দেয়ার সময় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের জ্বলুনি অনুভুত হতে পারে। ক্রায়োথেরাপির পর আঁচিলের জায়গাটিতে জ্বলুনি, ফোস্কা, বা ব্যাথা হতে পারে। ওই জায়গার ত্বক ভাল হতে এক থেকে তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। আঁচিলের আশেপাশের জায়গাটুকু পুরোপুরি ভাল হয়ে যাওয়ার আগে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকুন।

এক্সিশন (Excision)

ছোট শক্ত আঁচিল, বিশেষত যেগুলো কয়েকটি একসাথে লেগে গিয়ে ফুলকপির আকার ধারন করে, সেগুলোর চিকিৎসায় এক্সিশন প্রয়োগ করা হয়। এতে আঁচিলটি কেটে ফেলা হয়। এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে আঁচিলের আশেপাশের জায়গাটুকু অবশ করে দেয়া হয়।এরপর আঁচিলটি একটি স্ক্যালপেল(ডাক্তারি ছুরি) দিয়ে কেটে জায়গাটা সেলাই করে দেয়া হবে। এক্সিশন করলে দাগ থেকে যায়, তাই খুব বড় আঁচিলের চিকিৎসার জন্য এটি উপযুক্ত নয়। আঁচিল সরিয়ে ফেলার পর ওই জায়গাটিতে এক থেকে তিন সপ্তাহ ক্ষত ও ব্যাথা থাকে। ওই স্থানটি সম্পূর্ণ ভাল না হওয়া পর্যন্ত যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা উচিত।

ইলেক্ট্রো সার্জারি (Electrosurgery)

ইলেক্ট্রো সার্জারি একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা (specialist treatment) পদ্ধতি। অনেক সময় পায়ু বা যোনিমুখের আশেপাশে হওয়া কোন আঁচিল যদি টপিকাল চিকিৎসায় ভাল না হয় তাহলে এই চিকিৎসা এক্সিশনের সঙ্গে একসাথে প্রয়োগ করা হয়। এক্সিশনের মাধ্যমে আঁচিলটির উপরের অংশটি কেটে ফেলা হয়। এরপর একটি ধাতব তারের কুন্ডলি দিয়ে আঁচিলটি জড়িয়ে দেয়া হয় এবং তারের কুন্ডলির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে আঁচিলটির অবশিষ্ট অংশটুকু পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই উপায়ে অনেকগুলো আঁচিল সরাতে হলে বিষয়টি বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তাই হয়ত এনেস্থেসিয়া দিয়ে কোমরের নিচের সম্পূর্ণ জায়গাটি অবশ করে ফেলা হয় বা পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়।

লেজার সার্জারি (Laser surgery)

লেজার সার্জারিও একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পায়ু বা ইউরেথ্রার (urethra; যে টিউবটি দিয়ে মূত্রাশয় যোনিমুখ অথবা পুরুষাঙ্গ’র সাথে যুক্ত থাকে) ভেতরে থাকা বড় আঁচিল যেগুলো অন্যান্য পদ্ধতিতে কেটে ফেলা সম্ভব নয় সেগুলোর জন্য প্রয়োগ করা হতে পারে। এই পদ্ধতিতে একজন সার্জন লেজার ব্যবহার করে আঁচিলটি পুড়িয়ে ফেলেন। আঁচিলের সংখ্যা বা আকার বিবেচনা করে এসময় আংশিক অবশ বা পুরোপুরি অজ্ঞান করা হতে পারে। কেটে ফেলার অন্যান্য পদ্ধতির মত এটিতেও আপনার আঁচিল সরিয়ে ফেলার পর ওই জায়গাটিতে ব্যাথা বা জ্বলুনি হতে পারে, তবে তা দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ভাল হয়ে যায়।

যৌনাঙ্গের আঁচিল ও যৌন মিলন

যৌনাঙ্গের আঁচিল সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের যৌন মিলন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। এতে আপনার কাছ থেকে আর কারো দেহে সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। এতে আপনার ভাল হয়ে উঠতেও কম কম সময় লাগবে কারন ঘর্ষণের ফলে চিকিৎসা করা জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আঁচিলগুলো দূর হয়ে যাওয়ার পরও আপনার ত্বকের কোষে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV কিছুটা রয়ে যেতে পারে। এ কারনে আঁচিল মিলিয়ে যাওয়ার পরও তিন মাস পর্যন্ত যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

ধূমপান

উপরের চিকিৎসাগুলো ধূমপায়ীদের চাইতে অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে বেশি ভাল কাজ করে যার সঠিক কারন জানা যায়না। কেউ ধূমপায়ী হলে ধূমপান ছেড়ে দেয়ার পর যৌনাঙ্গের আঁচিলের নিরাময় দ্রুত হয়। ধূমপান ত্যাগ করলে ফুসফুসের ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাসহ নানাবিধ শারীরিক উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

About the author

Maya Expert Team