চোখ সংক্রান্ত সমস্যা চোখের প্রদাহ

চোখ ওঠা (কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)

চোখ ওঠা (কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)

সাধারন পরিচিতিঃ
কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ ওঠা একটি বহুল আক্রান্ত চোখের সমস্যা, যাতে কনজাঙ্কটিভা/Conjunctiva (চোখের সামনের দিকের সাদা অংশকে আবরণকারী পাতলা পর্দা) প্রদাহ সৃষ্টি হয় ফলে তা লাল হয়ে উঠে। এটি সকলের কাছে লাল চোখ বা চোখ ওঠা নামে পরিচিত।

এর অন্যান্য লক্ষনের মধ্যে রয়েছে চোখ চুলকানো, পানি পড়া, এবং চোখের পাপড়িতে একধরনের আঠালো আস্তরন। । চোখ ওঠার আরও উপসর্গ সম্পর্কে জানুন।

কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ ওঠা অসুখটি প্রথমে এক চোখে হতে পারে, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি দুই চোখেই ছড়িয়ে পড়ে।


চোখ ওঠা/কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস কেন হয়?
নিম্নোক্ত কারণে কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস হতে পারেঃ

  • ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে যা ইনফেকটিভ কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস নামে পরিচিত।
  • অ্যলার্জেন (পরাগ রেণু, ক্ষুদ্র পোকামাকড়) দ্বারা আক্রান্ত হলে যাকে অ্যালার্জিক কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস (allergic conjunctivitis) বলে।
  • কঞ্জাঙ্কটিভায় অস্বস্তি তৈরী করে এমন কোন কিছুর (যেমন ক্লোরিনযুক্ত পানি, শ্যাম্পু, চোখের খসে পড়া পাপড়ি)- এর সংস্পর্শে থাকলে। একে ইরিট্যান্ট কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস (irritant conjunctivitis) বলে।

কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের আরও কারন সম্পর্কে জানুন।


কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের চিকিৎসা
সাধারণত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের চিকিৎসার দরকার হয় না, কারন সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে এর উপসর্গগুলো আপনিই কমে যায়। চিকিৎসা নেয়া জরুরি হলে কী কারনে এটি হয়েছে তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসার ধরন ঠিক করা হয়। কারো চোখে এটি মারাত্মক আকারে দেখা দিলে সংক্রমণ থেকে আরোগ্য পেতে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা হতে পারে। ইরিট্যান্ট কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস যে জিনিসটির কারনে হয়েছে, সেটি সরিয়ে দিলেই তা ভাল হয়ে যায়।

অ্যালার্জিক কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের চিকিৎসায় সাধারণত অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ (যেমনঃ অ্যান্টিহিস্টামিন- antihistamines) ব্যবহার করা হয়। যে জিনিসটিতে অ্যালার্জি আছে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে।

কনজাঙ্কটিভাইটিসের উপসর্গ থাকা পর্যন্ত কন্টাক্ট লেন্স পরা থেকে বিরত থাকুন। চোখের পাতা বা পাপড়িতে কোন আস্তরন তৈরি হলে সেটি পানি ও তুলো দিয়ে পরিষ্কার করুন।

সঠিক ভাবে হাত ধোয়া, বালিশ ও তোয়ালে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা প্রভৃতির মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের চিকিৎসা সম্বন্ধে আরও জানুন।

নিচের সমস্যাগুলো হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান- 

  • চোখ ব্যাথা
  • আলোতে তাকাতে অসুবিধা হলে (photophobia)
  • দেখতে সমস্যা হলে (disturbed vision)
  • একটি বা দুই চোখ অতিরিক্ত লাল হয়ে গেলে
  • নবজাতকের কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস হলে

কর্মক্ষেত্র এবং স্কুল

  • কেউ খুব বেশি অসুস্থ বোধ না করলে, ডাক্তারেরা সাধারণত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের কারনে কাজ বা স্কুলে যাওয়া বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন না।
  • আপনার বাচ্চার স্কুলে একসাথে কয়েকজনের কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস দেখা দিলে তারা ভাল না হওয়া পর্যন্ত আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হতে পারে।
  • পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে যারা কাজের জায়গায় ফোন বা কম্পিউটারের মত যন্ত্রপাতি শেয়ার করেন বা যাদেরকে অন্যদের খুব কাছাকাছি আসতে হয় তাদেরকে অসুখটি ভাল না হওয়া পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়।


জটিলতা
কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস কারো কারো ক্ষেত্রে হতাশাজনক ব্যাপার হয়ে উঠে – বিশেষ করে যারা অ্যালার্জির কারনে এতে আক্রান্ত হয় – তবে এতে মৃত্যু ঘটার মত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। যদিও কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস থেকে বড় ধরনের জটিলতা খুব একটা তৈরি হয়না, তবু কখনো কখনো তা মারাত্মক হতে পারে। উদাহরণঃ

  • চোখে ক্ষত হয়ে স্থায়ী দাগ তৈরী করা (scarring in the eye) ।
  • চোখ থেকে শরীরের অন্যান্য যায়গায় ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে এমনকি, মারাত্মক ইনফেকশন যেমনঃ মেনিঞ্জাইটিস/meningitis (মগজের আবরনকারী পর্দার ইনফেকশন)’র ও কারন হতে পারে।

কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের জটিলতা সম্বন্ধে আরও জানুন।

About the author

Maya Expert Team