অনকোলজি স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার- ঝুকিপূর্ণ বিষয়সমূহ

ঝুকিপূর্ণ বিষয়সমূহ:

আমাদের শরীর কোটি কোটি অতি ক্ষুদ্র কোষ দ্বারা তৈরি। সাধারণত, একটি সুশৃংখল পদ্ধতিতে কোষের আকারে বৃদ্ধি এবং সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে। যখন যেখানে প্রয়োজন  শুধুমাত্র তখনই সেখানে নতুন কোষ তৈরী হয়। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, এই সুশৃংখল নিয়ম বিপর্যস্ত হয় এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষের বৃ্দ্ধি ও সংখ্যাবৃ্দ্ধি ঘটতে থাকে। কোন বিশেষ উদ্দীপনার কারনে যদি কোষের স্বাভাবিক বৃ্দ্ধিতে পরিবর্তন ঘটে বা কোষ ক্ষতিগ্রস্হ হয় বা কোষের রূপান্তর ঘটে, তা থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।

কোষের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো ঠিক কি কারনে ঘটে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে স্তন ক্যান্সারের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ঝুকিপুর্ণ বিষয় রয়েছে।

বয়স

৫০উর্দ্ধ মহিলা, যাদের মেনোপজ (মাসিক বন্ধ) হয়ে গিয়েছে তাদের জন্য স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি বেশি । প্রতি ১০টির মধ্যে ৮টি স্তন ক্যান্সারের ঘটনা ৫০ উর্দ্ধ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘটে। ৫০-৭০ বছর বয়সী সব মহিলাদের অবশ্যই প্রতি ৩ বছরে একবার স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের পরীক্ষা করানো উচিত।

বয়সের সাথে ঝুকি বৃদ্ধি পাওয়া

বয়স ৩০থেকে ৩৯ এর মধ্যে            ০.৪৪%(২২৭ এর মধ্যে ১জন)

বয়স ৪০থেকে ৪৯ এর মধ্যে            ১.৪৯%(৬৭ এর মধ্যে ১ জন)

বয়স ৫০থেকে ৫৯ এর মধ্যে            ২.৭৯%(৩৬ এর মধ্যে ১ জন)

বয়স ৬০থেকে ৬৯ এর মধ্যে           ৩.৩৮%(২৬ এর মধ্যে ১জন)

পারিবারিক ইতিহাস

অধিকাংশ স্তন ক্যান্সারই বংশগত নয়। তবে BRCA1 এবং BRCA2 নামে পরিচিত নির্দিষ্ট জিনসমূহ আপনার স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্তন ক্যান্সার আছে এরকম একজন নিকট আত্মীয় (মা, বোন বা মেয়ে) থাকলে, মেয়েদের ঝুঁকির মাত্রা আনুমানিক দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং এরকম দুইজন থাকলে ঝুকির মাত্রা ৫ গুণ বেড়ে যায়।

পূর্বে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে থাকলে

যদি পূর্বে কখন আপনার স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে বা আপনার স্তনের ভিতরের নালিকার মধ্যে ক্যান্সার কোষ থেকে থাকে, যা সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিল, আশেপাশে ছড়ায়নি – তাহলে আপনি পুনরায় স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, হয় অন্য স্তনে অথবা আবার একই স্তনে।

পূর্বের স্তনের নিরীহ (Benign) টিউমার বা পিন্ড

স্তনের সাধারন নিরীহ (Benign) টিউমার বা পিন্ড যদি দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিহীন থাকে, তবে তাদের মধ্যে কিছু কিছু পরিবর্তিত হতে পারে এবং একসময়ে ক্যান্সারে (Malignant) পরিণত হতে পারে। স্মড়িতি

স্তনের ঘনত্ব

যেসব মেয়েদের স্তনের টিস্যু খুব ঘন, তাদের স্তন ক্যান্সারের উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে, কারণ ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার জন্য সেখানে বেশি পরিমানে কোষ রয়েছে।

ইস্ট্রোজেন থেরাপি বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)

মেয়েদের শরীরের ইস্ট্রোজেন হরমোন স্তন ক্যান্সার কোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করতে পারে। এই উদ্দীপনা অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ও সংখ্যাবৃ্দ্ধি ঘটাতে পারে। HRT ও ইস্ট্রোজেন একত্রে অথবা শুধুমাত্র HRT উভয়ই আপনার স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে যতক্ষণ আপনি HRT নিতে থাকবেন ঝুঁকি সামান্য মাত্রায় বাড়তে থাকবে, তবে যখন আপনি HRT নেওয়া বন্ধ করে দিবেন তখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

মাত্রাতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

যদি আপনার মেনোপেজ হয়ে যেয়ে থাকে এবং সেইসঙ্গে যদি আপনি অতিরিক্ত মোটা হয়ে পড়েন, তাহলে আপনি স্তন ক্যান্সার হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। মেনোপেজের পর অতিরিক্ত ওজন বৃ্দ্ধি বা মোটা হওয়ার কারণে অধিক পরিমাণে ইস্ট্রোজেন উৎপন্ন হয়, আপনার শরীরের ইস্ট্রোজেনের পরিমানের সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।

কম বয়সে মাসিক শুরু হওয়া বা মেনোপেজ দেরীতে শুরু হওয়া

যদি আপনার মাসিক সময়ের আগেই শুরু হয় বা মেনোপেজ বিল্বম্বিত হয়, অথবা লম্বা সময় ধরে ইস্ট্রোজেন থেরাপি নিয়ে থাকেন তবে তা স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

লম্বা হওয়া

আপনি যদি গড় দৈর্ঘের চেয়ে লম্বা হন, তাহলে আপনার স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা গড় দৈর্ঘের থেকে খাটো লোকের চেয়ে বেশি। এটা হয়তো জিন, পুষ্টি ও হরমোনের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়ার কারণে হতে পারে, যদিও কারনটা পুরোপুরি বোঝা যায়নি।

মদ্যপান

গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রতি ২০০জন মহিলা যারা প্রতিদিন নিয়মিত দুই গ্লাস মদ্যপান করে থাকেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা যারা মোটেও মদ্যপান করেন না এমন নারীদের তুলনায় বেশী এবং এক্ষেত্রে তিন জন নারী বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

রঞ্জনরশ্মির (রেডিয়েশন) প্রভাব

বেশী বেশী এক্স রে কিংবা সিটি স্ক্যান করালে, অতিরিক্ত রঞ্জন রশ্মির প্রভাবে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। এগুলো শরীরে স্বাভাবিক কোষসমূহের ক্ষতি ও অস্বাভাবিক কোষ বিস্তারের সূচনা করে।

বিলম্বিত প্রথম সন্তান

কেউ যদি ৩০ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তানের জন্ম দেন, অথবা তিনি যদি সন্তানহীন হন, তবে তিনি স্তন ক্যান্সারের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

এই বিষয়গুলো স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। স্তন ক্যান্সারের জন্যে ঝুকির এই বিষয় গুলোকে, স্বাস্হ্যকর খাদ্যাভাস, শারীরিক ব্যায়াম, মদ্যপান না করা, অতিরিক্ত ওজন ও স্হূ্লতা নিয়ন্ত্রন ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।

নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করা, গোড়াতেই যেকোনো উপসর্গ বা লক্ষণ সণাক্ত করা, বিশেষ করে স্তনে কোন চাকা সণাক্ত করা, মেমোগ্রাফী ইত্যাদি স্তন ক্যান্সারকে প্রারম্ভিক স্তরেই সণাক্ত করতে পারে এবং বেচে থাকার হার বাড়িয়ে দেয়।

About the author

Maya Expert Team