অনকোলজি স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার- রোগ নির্ণয়

আপনার স্তন ক্যান্সার ধরা পড়তে পারে নিয়মিত স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে অথবা আপনার কিছু উপসর্গ বা লক্ষন থাকতে পারে যা আপনি আপনার চিকিৎসককে দেখিয়েছেন তার মাধ্যমে।

যদি আপনি কোন ধরণের স্তন ক্যান্সারের লক্ষন লক্ষ্য করে থাকেন, যেমন- আপনার স্তনে কোন অস্বাভাবিক চাকা অথবা আপনার স্তনের আকার, আকৃতি বা অনুভূতির কোনো ধরণের পরিবর্তন, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।

যদি নিয়মিত ম্যামোগ্রাফীর (Mammography) সময় আপনার স্তনে কোন চাকা বা পিন্ড আছে বলে সণাক্ত হয়, সেক্ষেত্রে এটি নিরীহ (ক্ষতিকর নয়) না বিপদজনক তা নির্ণয়ের জন্য আপনার আরও পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

ম্যামোগ্রাম ও আল্ট্রাসাউন্ড

যদি আপনার মধ্যে কোন লক্ষন থেকে থাকে তাহলে আপনার ম্যামোগ্রাম করা হবে, ম্যামোগ্রাম হলো একধরনের স্তনের এক্স-রে। আপনার আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করারও প্রয়োজন হতে পারে।

যদি আপনার বয়স ৩৫ এর কম হয় তাহলে আপনার ডাক্তার হয়তো আপনাকে শুধু বুকের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিবেন। অল্পবয়সী মহিলাদের স্তন অধিক ঘণত্ব বিশিষ্ট হয়ে থাকে যার ফলে ক্যান্সার সণাক্ত করার জন্য ম্যামোগ্রাফী, আলট্রাসাউন্ডের মতো কার্যকরী হয় না।

আলট্রাসাউন্ড আপনার স্তনের ভেতরের প্রতিচ্ছবি তৈরী করার জন্য উচ্চমাত্রার শব্দ তরঙ্গ উৎপাদন করে। আপনার স্তনে কোন চাকা বা অস্বাভাবিকতার উপস্থিতি রয়েছে কিনা সৃষ্ট ছবিটি তা দেখাবে। আপনার চিকিৎসকও আপনার স্তনের আলট্রাসাউন্ড করানোর পরামর্শ দিবেন যদি তাদের জানার প্রয়োজন হয় যে আপনার স্তনের ভেতরের পিন্ডটি নিরেট নাকি তরলপূর্ণ।

বায়োপসি / ফাইন নিডল অ্যসপারেশন (Fine Niddle Aspiration)

টিউমার বা আক্রান্ত অংশের টিস্যুর প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য বায়োপসির মাধ্যমে এর থেকে নমুনা কোষ বের করে নেয়। তারপর এই বের করে নেওয়া টিস্যুকে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়- এগুলো কি স্বাভাবিক বা নিরীহ  কোষ নাকি অস্বাভাবিক যা ক্ষতিকর কোষ।

ফাইন নিডল অ্যসপারেশন হলো এক ধরণের পদ্ধতি যেখানে সূক্ষ্ম সূচের মাধ্যমে ত্বকের ভেতরের টিউমার বা চাকা থেকে কোষ বা তরল বের করে আনা হয়। এই পদ্ধতিতে সিটি স্ক্যান বা আলট্রাসাউন্ডের তত্ত্বাবধানে একটি সূচের সাহায্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্তনের অঞ্চলের লসিকা গ্রন্থি (lymph node) থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এইসব পরীক্ষা থেকে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা নির্দেশ করেঃ

টিউমারের বা পিন্ডের ভিতরকার পদার্থগুলো- কঠিন নাকি তরল,

টিউমারের প্রকৃ্তি- নিরীহ না বিপদজনক,

রোগের মাত্রা ও স্তর- ক্ষতিকর হলে এটি কোন স্তরে আছে  এবং সেই অনুসারে চিকিৎসা পদ্ধতির বিকল্পসমূহ নির্ধারণ করা।

About the author

Maya Expert Team