ক্যান্সার সণাক্তকরনের পর তার সাথে মানিয়ে নেওয়া

কান্সার শব্দটি সবাইকে আতংকিত করে তোলে। বেশিরভাগ মানুষের জন্যই ক্যান্সার হওয়াটা এক নম্বর ভয়ের কারণ বলে মনে করা হয়। সেই কারনেই ক্যান্সার নির্ণয়ের পরীক্ষায় যদি ক্যান্সার ধরা পড়ে, এই সত্য গ্রহণ করা অত্যান্ত ভয়ানক ব্যপার।

শুরুতে অধিকাংশ মানুষই প্রচন্ড আঘাত পান এবং ডাক্তার কি বলেছেন তা ঠিকমত বুঝতে পারেন না, কিছুটা সময় লাগে। এর সাথে এমন সব বিষয় জড়িত আছে যা পুরো সত্ত্বাকে নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এটাই স্বাভাবিক। এই বাস্তবতাকে আত্মস্থ করতে এবং পরিস্হি্তির সাথে বোঝাপড়া করতে সবারই কিছুটা সময় লাগে।

ক্যান্সার নির্ণয়ের পরীক্ষা প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। তাই আপনি কি অনুভব করবেন অথবা কিভাবে আপনার আবেগের সাথে বোঝাপড়া করা উচিত তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে এক্ষেত্রে সাধারনত যে ধরনের অভিজ্ঞতা হয় তা নিম্নরুপঃ

বিমর্ষতা,

ভবিষ্যত নিয়ে ভয়,

রাগ,

অপরাধবোধ,

অসুস্থতাকে অস্বীকার করা,

দ্বিধা,

মানসিক চাপ,

উদ্বেগ,

বিষন্নতা,

পরীক্ষার মাধ্যমে যখন আপনার ক্যান্সার হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে, তখন ডাক্তার বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাইবেন। এর অর্থ হলো এরকম একটা মানসিক অবস্থায় আপনাকে কিছু জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আপনার জন্য সিদ্ধান্তগুলো জটিল ও বিভ্রান্তিকর হয়, তাহলে আপনার ডাক্তার, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে কথা বলুন। তারা সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে পথ দেখাতে সক্ষম হবেন এবং আপনার চিকিৎসা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে সাহায্য করবেন। পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব ক্যান্সার সণাক্ত হবার পর এই পরিবর্তিত পরস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে আপনাকে সাহায্য করবেন।

পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেওয়া

পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে এই নিয়ে আলাপ করাটা আপনার জন্য কঠিন মনে হতে পারে, কারন আপনার মনে হবে এতে তাদের মন খারাপ হয়ে যাবে, কিন্তু মনে রাখবেন তারা আপনাকে সহায়তা করতে চায়। কখনো কখনো আপনার কাছের লোকেরা জানেনা কিভাবে সাড়া দেবে। তাদেরকে সব কিছু জানালে আপনার লাভই হবে, কারন কখনো এমনটা মনে হতে পারে কেঊ একজন আপনার কথা শুনুক, বা আপনাকে জড়িয়ে ধরুক,বা ঘরে থেকে সাহায্য করে আপনাকে কিছুটা চাপমুক্ত রাখুক।

কারো কারো ক্ষেত্রে ডাক্তারের কাছে যাবার সময় বা চিকিৎসা নেবার সময় আপনজন কেউ পাশে থাকলে ভালো বোধ করেন। আপনার পরিবারের সদস্যদের নিজেদের জন্যও কিছুটা সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। আপনি কিভাবে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আপনার রোগের বিষয়ে কথা বলবেন তা ভেবে দেখুন।

নিজেকে সাহায্য করা

যখন প্রথমবার আপনি জানতে পারেন যা আপনার ক্যান্সার হয়েছে, আপনার মনে হাজারটা অপ্রতিরোধ্য প্রশ্ন তৈরি হবে। এটা আমার পরিবারকে কিভাবে প্রভাবিত করবে? চিকিৎসার সাথে আমি কিভাবে মানিয়ে নিব? শরীরের একটা অংশ হারিয়ে ফেলাটা আমি কিভাবে মানিয়ে নিব? আমি কি মারা যাচ্ছি?

এখানে অনেক কিছুই অজানা, এবং এটা মনে করাটাই স্বাভাবিক যে আপনি আপনার জীবনের উপর থেকে কিছু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সামর্থ্য আপনাকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে এবং নিয়ন্ত্রনবোধ ফিরে পেতে সাহায্য করবে। যদি আপনার এমনটা মনে হয়, তাহলে আপনার প্রশ্নগুলো লিখে রাখার চেষ্টা করুন,তারপর যখন আপনি তৈরী হবেন আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন। আপনার চিন্তাগুলো আমাদের সাথে Maya voice এ শেয়ার করার চেষ্টা করুন।আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তবে আপনি আমাদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ Maya Apa কেও প্রশ্ন করতে পারেন।

নিজের যত্ন নেওয়া

নিজেই নিজের খেয়াল রাখাটা আপনাকে এ পরিস্থিতিতে মানসিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে সাহায্য করবে। এ সময় যা আপনাকে সাহায্য করবে

কিছুটা বিশ্রাম এবং উদ্বেগ্মুক্ত সময় কাটানো,

কিছু হালকা ব্যায়াম,

স্বাস্হ্যকর সুষম খাবার,

রাতে ভালো ঘুম,

মদ্যপান ত্যাগ,

যদি আপনি অসুস্হবোধ করেন এবং/অথবা ক্যান্সার চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়, তাহলে এর সবগুলো মেনে চলা আপনার জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে।

ইতিবাচক থাকুন

এই পরিস্হিতিতে এটা কঠিন হতে পারে কিন্তু ইতিবাচক হওয়ার চেষ্টা আপনাকে আসলেই মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ইতিবাচক বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করুন যা আপনি জানেন, বুঝেন এবং নেতিবাচক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলুন যা হয়তো সত্যিও না। আপনার ডাক্তার ও আত্মীয়দের সাথে আপনার দুঃশ্চিন্তাগুলো নিয়ে আলোচনা করুন-তারা অধিকাংশ সময়ই আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারবেন।

যখনই সম্ভব নিজেকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং আপনার শক্তি ও সাহস নিয়ে গর্বিত হোন। যে সময়টাতে আপনি ভালো বোধ করছেন তা উপভোগ করুন এবং আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে মজা করুন। নতুন বন্ধু তৈরী করার চেষ্টা করুন, জীবনযাপনে বৈচিত্র্য আনুন এবং জীবনকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরুন।

0 comments

Leave a Reply