অনকোলজি স্তন ক্যান্সার

স্ক্রিনিং করে কি স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব?

হ্যাঁ, গবেষণায় দেখা গেছে,যে সকল মহিলা নিয়মিত ম্যামো গ্রাফি স্ক্রিনিং করেছে, তাদের স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি অরধেকে নেমে এসেছে। এর মাধ্যমে স্তন এ ক্যান্সারযুক্ত চাকা তারাতারি শনাক্ত্য করা ও তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়

ম্যামোগ্রাম কি স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?

ম্যামোগ্রাম হলো স্তনের এক্সরে। এতে খুব কম মাত্রায় রেডিয়েশন দেওয়া হয় এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয় বলেই ধারণা করা হয়। যাই হোক, রেডিয়েশন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কিনা তা জানার জন্য এক্টি গবেষণা করা হয়েছিলো কিছু মহিলার উপর যাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী জেনেটিক মিউটেশন( স্থায়ী পরিবর্তন) ছিলো। দেখা গেল যে, ৩০ বছর বয়শের আগেই রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসায় এদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পেলো। ম্যামোগ্রাফির কথা বলা হয় স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর জন্য। রেডিয়েশনের কারণে বেড়ে যাওয়া কিছুটা ঝুঁকি সময়ের পূর্বে স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের সাথে তুলনায় নগণ্য। তারপরও আপনি যদি রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকতে চান, আল্ট্রাসাউন্ড বা এম আর আই করাতে পারেন

এমন কোনো রক্ত পরীক্ষা কি আছে যা দিয়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব?

না। এমন কোন রক্ত পরীক্ষা নেই যা দিয়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়। ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার যেমন রক্তের টিউমার ্মার্কার( শনাক্তকারী) সিএ-১২৫ দিয়ে শনাক্ত করা যায়, স্তনের ক্যান্সারের এমন কোন মার্কার নেই। স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি ম্যামোগ্রাম। যদি ম্যামোগ্রামে স্তনে চাকা ধরা পরে তবে সেখান থেকে এক্টি সূঁচের মাধ্যমে রস নিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, এটি বিনাইন ( ক্যান্সার মুক্ত) না মালিগ্ন্যান্ট ( ক্যান্সার যুক্ত)।

কী কী কারণে স্তন ক্যান্সার হয়?

স্তন ক্যান্সারের কারণসমূহ এখনো ঠিক মত বোঝা যায়নি, কিছু বিষয় শনাক্ত করা গেছে যা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।কিছু বিষয় এমন যা পরিবর্তনের কোন উপায় নেই, কিন্তু কিছু ব্যাপার আপনার হাতেও আছে। এর মধ্যে আছে ——১.অতিরিক্ত মেদ ২.বাড়তি বয়স ৩.পরিবারে অন্য কারো স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস ৪.আগে নির্ণয় হওয়া স্তন ক্যান্সার ৫.ভরাট স্তন ৬.স্ট্রোজেন হরমোনের ব্যবহার ৭. মদ্যপান ৯.রেডিয়েশনের প্রভাব

অতিরিক্ত মেদ কি স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?

যে সকল মহিলার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে এবং যাদের ওজন বেশি অথবা যাদের শরীর মেদবহুল, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। ধারণা করা হয় শরীরে স্ট্রোজেনের পরিমাণের সাথে স্তন ক্যান্সারের সম্পরক রয়েছে, কারণ মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শরীরে জমে যাওয়া অতিরিক্ত মেদ বেশি স্ট্রোজেন তৈরি করে। অতিরিক্ত স্ট্রোজেন ক্যান্সার তৈরি করে।

ম্যামোগ্রাফি কি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে?

ম্যামোগ্রাফি স্তন ক্যান্সার সৃষ্টি প্রতিরোধ করে না। এটি একটি রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষা যা স্তনের যে কোন অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে।নিয়মিত ম্যামোগ্রাম স্তনে চাকা থাকলে তা চিন্‌হিত করে এবং তাড়াতাড়ি শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা করালে এটি সম্পূর্ণরুপে ভাল হয়ে যায়।

স্তন ক্যান্সারের উপর অ্যালকোহলের প্রভাব কী?

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অ্যালকোহলের পরিমাণের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে,যারা প্রতিদিন দুইটি অয়াল্কোহলযুক্ত পানীয় পান করেন,তাদের প্রতি ২০০ মহিলার মদ্ধে অন্যদের( যারা একদমই অ্যালকোহল পান করেন না) তুলনায় ৩জন করে বেশি মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে।যে সকল মহিলা নির্দিষ্ট সীমার মাঝে পান করেন তাঁরাও ঝুঁকির বাইরে নন।

এটা কি ঠিক যে বড় আর ভরাট স্তনে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

হাজারখানেক ছোট ছোট গ্রন্থি (লোবিউল) নিয়ে স্তন তৈরি, যেগুলো দুধ উৎপন্ন করে। স্তনে কোষের ঘ্নত্ব বেশি হলে এ গ্রন্থিকলা ভরাট হয়ে উঠে।ভরাট স্তনের মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ,কারণ তাদের ক্যান্সার তৈরি করার মত কোষের সংখ্যাও বেশি। ভরাট স্তন স্ক্যান (ম্যামোগ্রাম) বোঝা কঠিন, কারণ এতে চাকা বা কোন অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা কঠিন, এক্ষেত্রে, আল্ট্রাসাউন্ড এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। অল্প বয়সের মেয়েদের ভরাট স্তন থাকে।বয়সের সাথে সাথে স্তনে গ্রন্থির সংখ্যা কমে আসে,আর চর্বির পরিমাণ বাড়ে, তাই স্তন কম ভরাট হয়ে আসে।

স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসা করার পর তা কি আবার হতে পারে?

এটা মূলত ক্যান্সারের ধরণের উপর নির্ভর করে, কোন স্টেজে (স্তরে) তা ধরা পড়েছিলো এবং তার চিকিৎসা করা হয়েছিলো। অনেকে আক্রান্ত স্তনটি কেটে না ফেলে রেখে দেয়। এ সকল ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কোষগুলো থেকে যেতে পারে এবং পুনরায় ক্যান্সার হতে পারে। কিছু স্টেজে অপারেশনের পর কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি বা দুটোই দরকার হতে পারে। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হলে আবার ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। মূল চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও নিয়মিত আপনার অনকোলজিস্ট ( ডাক্তার) এর সাথে দেখা করা (ফলো আপ) জরুরী। আপনার ডাক্তার আপনাকে জানিয়ে দিবেন আপনাকে কতবার দেখা করতে হবে।

যদি আমার পরিবারে স্তন ক্যান্সার এর পূর্ব ইতিহাস থাকে , তবে আমার কী করণীয়?

যদি আপনার ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজনের স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে তবে আপনারও হওয়ার ঝুঁকি আছে। কিছু জিন (বংশগতির একক) পাওয়া গেছে যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে, আর তাই ক্যান্সার একই পরিবারের মাঝে চলতে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল উপায় জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তন ও উন্নত করা এবং ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী অন্যান্য কারণগুলো কমিয়ে আনা, যেমন, শরীরের ওজন ঠিক রাখা, নিয়মিত স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করানো, হরমোন থেরাপি ও রেডিয়েশন এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।

আমি কিভাবে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি?

এমন কোন উপায় নেই যাতে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন যে আপনার স্তন ক্যান্সার হবে না । কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপনার জীবন যাপন পদ্ধতি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। এর মাঝে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোঃ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাতে প্রাণিজ চর্বির পরিমাণ কম আর শস্যদানা, ফল ও সবজির পরিমাণ বেশি; ওজন কমানো (যদি আপনার ওজন বেশি হয়ে থাকে); মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওজন বাড়তে না দেওয়া; নিয়মিত ব্যায়াম করা; এবং হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি যথাসম্ভব কম ব্যবহার করা। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে আপনি আর যা করতে পারেন তা হলোঃ একটি করে মাল্টিভিটামিন প্রতিদিন খাওয়া যাতে যথেষ্ট পরিমাণ ফলিক এসিড আছে; ৩৫ বছর বয়সের আগেই বাচ্চা নিন; বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান; বিনা প্রয়োজনে এক্সরে করা থেকে বিরত থাকুন; অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুন এবং যখনই পান করবেন ফলিক এসিড খেতে ভুলবেন না; স্তনে যে কোন ধরণের লক্ষণ বা পরিবর্তন দেখা গেলে পরীক্ষা করান; যখন দরকার ম্যামোগ্রাম করান।

আমি প্রতিদিন নিজের স্তন পরীক্ষা করি, আমার কি এখনো ম্যামোগ্রাম করানো দরকার?

হ্যাঁ। স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো ম্যামোগ্রাম। তবে প্রতিমাসে নিজে নিজে পরীক্ষা করে দেখতে বলাহয় যেন স্তনের যে কোন ধরণের অস্বাভাবিকতা শুরুতেই আপনার চখে পড়ে।

এতা কি ঠিক যে সুগন্ধি(ডিওডোরেন্ট) ক্যান্সার সৃষ্টি করে?

এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সুগন্ধি স্প্রে ক্যান্সার সৃষ্টি করে, তবে অপারেশন (ম্যাসটেকটোমি) করা ক্যান্সারযুক্ত স্তনের নমুনায় সুগন্ধিতে ব্যবহার করা হয় এমন কেমিক্যাল উচ্চ মাত্রায় পাওয়া গেছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে যে, এ দুটির মধ্যে কোন সম্পর্ক আছে, তবে এখনো কিছু প্রমাণ করা যায়নি।

আমাকে কতদিন ট্যামোক্সিফেন নিতে হবে?

ট্যামোক্সিফেন একটি হরমোন থেরাপি যা হরমোন সংবেদনশীল স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি কোষের উপর হরমোনের কার্যকারিতা বন্ধ করে এবং কোষগুলোর বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। ফলো আপ (চিকিৎসা পরবর্তী পর্যবেক্ষণ) এর পরীক্ষাসমূহের ফমাফল অনুযায়ী বেশিরভাগক্ষেত্রেই এসব থেরাপি ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত চালাতে হয়। ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়া জরুরী। এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যেমন হট ফ্ল্যাশ ( হঠাৎ করে গরম লেগে গা জ্বালা করা), দুর্বলতা, যোনিপথ ও যৌনাঙ্গের আশপাশের স্থান রুক্ষ হয়ে আসা। যে কোন নতুন উপসর্গ দেখা দিলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

ট্যামোক্সিফেন এর কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

বিভিন্ন মানুষের উপর ওষুধের প্রভাব বিভিন্ন ধরণের। কিছু রোগীর উপর এ ওষুধ অনেক বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখায়, আবার কারো উপর হয়ত শুধু আকাঙ্ক্ষিত প্রভাব দেখায়। যে সকল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, সেগুলো হলোঃ হট ফ্ল্যাশ ( হঠাৎ করে গরম লেগে গা জ্বালা করা), যোনিপথ ও তার আশপাশের স্থান রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুলকানি ও রক্তক্ষরণ, হাড়ে ব্যাথা, চোখের ও দেখার সমস্যা, গায়ে পানি জমে যাওয়া, চুল পড়া।

স্তন ক্যান্সার এর কী কোন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি আছে?

না। স্তন ক্যান্সার বা অন্য কোন ক্যান্সারের হোমিওপ্যাথিক কোন চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা শুরুর আগে অনেক হোমিওপ্যাথী বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন যে, টিউমার ছোট হয়ে আসার আগে কিছুটা বড় হতে পারে। তাই যখন অসুখের প্রক্রিয়ায় যখন টিউমার বড় হতে থাকে, রোগী ভাবে যে ওষুধ কাজ করছে এবং তা শীঘ্রই ছোট হয়ে আসবে। কিন্তু তার পরিবর্তে অসুখ বাড়তে থাকে এবং যতদিনে তারা অনকোলজিস্টের ( ক্যান্সারের ডাক্তারের) কাছে যায় , ততদিনে রোগ নিরাময় করার মত স্তরে থাকে না।

টাইট(কষে বাঁধা) অন্তরবাস(ব্রা) পরলে কি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে?

না। এমন কিছু গুজব আছে যে টাইট ব্রা পরলে রক্ত চলাচল ও লসিকারস প্রবাহ আটকে যায় এবং স্তন ক্যান্সার তৈরি করে।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল মহিলা ব্রা ব্যবহার করেন তাদের মাঝে স্তন ক্যান্সারের হার যাঁরা ব্রা পরেন না

তাদের চেয়ে বেশি। তবে গবেষকদের মতে, ব্রা এর কারণ না। বেশিরভাগ মহিলা যারা ব্রা পরেন না, তারা বেশ হালকা পাতলা ও ছোট স্তনের অধিকারী। আর যে সকল মহিলার স্তন বড় বা ওজন বেশি তারাই সাপোর্ট ও আরামের জন্য ব্রা পরেন। শরীরের ওজন বেশি হওয়া বা বেশি স্তন টিস্যু স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্সার তৈরি হয় কোষের মধ্যে কিছু পরিবর্তনের জন্য যার প্রক্রিয়াটি বৈজ্ঞানিকভাবে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না। আমরা বাইরের উৎসগুলোকে দোষ দিতে চাই, যাতে আমরা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেরা স্বস্তি পেতে পারি। এজন্যই আমরা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি থেকে শুরু করে হরমোন থেরাপি, সুগন্ধি, ব্রা- এসব কিছুকে দোষারোপ করি।

আমার বয়স ২০ বছর , আমার স্তনে একটি বিনাইন( ক্যান্সার যুক্ত নয়) টিউমার আছে, আমি যদি এটি অপারেশন করে ফেলে দিই, তবে কি আমি বুকের দুধ খাওয়াতে পারবো?

বিনাইন টিউমার ক্ষতিকর নয় এবং সাধারণত নিজে নিজেই ছোট হয়ে যায়। যদি আপনি দেখেন যে, চাকাটি ছোট হচ্ছে না বা বড় হয়ে যাচ্ছে, তবে অপারেশন করিয়ে ফেলাই ভালো। ‘লাম্পেক্টোমি’ আপারেশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র টিউমারটি, যা কিনা একটি অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা অপ্রয়োজনীয় অংশ, তা কেটে ফেলা হয়। স্তনে দুধ তৈরির উপর এর কোন প্রভাব নেই। যদি আর অন্য কোন সমস্যা না থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আপনার দুধ তৈরি হবে এবং আপনি তা বাচ্চাকে খাওয়াতে পারবেন।

আমার বয়স ২০ এর উপর, আমার স্তনে একটি চাকা আছে যা হাত দিয়ে নাড়ালে সরে যায়,আমি এখন কী করব?

প্রথমেই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।এই বয়সে আপনার স্তনের চাকাটির ক্যান্সারযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তারপরও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল। ৩৫ বছরের কম বয়সে স্তনের চাকা যা সহজেই নাড়ানো যায়, সাধারণত ‘ফাইব্রোএডিনোমা’ হয়ে থাকে- যা স্তনের এক প্রকার বিনাইন টিউমার। এটি নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায় এবং সাধারণত চিকিৎসা দরকার হয় না। যদি আপনি বেশি চিন্তিত হন, তাহলে আপনি যে কোন সময়ই অপারেশনের মাধ্যমে এটি সরিয়ে ফেলতে পারেন এবং নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার দুধ খাওয়ানোতে কোন সমস্যা হবে না।

বিনাইন (ক্যান্সার যুক্ত নয়) সিস্ট এ কি পরে ক্যান্সার হতে পারে?

সচরাচর স্তনে সিস্ট হয়ে থাকে এবং তা সাধারণত ক্যান্সারযুক্ত হয়না। সিস্ট তরল পদার্থ ভর্তি থলের মত যা স্তনের বয়স বৃদ্ধির ফলে হয়ে থাকে এবং এটি ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হয়। কিছু মহিলার চাক্রিকভাবে চাকা হয়ে থাকে- মাসিক শুরু হওয়ার আগে সিস্ট দেখা দেয়, পরে ছোট হয়ে আসে বা একদমই চলে যায়। এগুলো সাধারণত ক্ষতিকর না। তবে এটি বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, চাকাটি আসলেই সিস্ট না অন্যকিছু। যদি আপনার স্তনে কোন চাকা থাকে আর আপনি না জানেন এটা কী, অবশ্যই ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করান। আর আপনার স্তনে চাকা থাকলে আপনার একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিৎ। যদি আগে আপনার একবার সিস্ট হয়ে থাকে এবং পরে আবার স্তনে চাকা দেখা যায় , এমনটি ভেবে নিবেন না যে, এটিও সিস্ট।যদি কোন চাকা নিজে নিজে চলে না যায় বা বড় হতে থাকে, তবে তার পরবর্তী পরীক্ষা করানো জরুরী। আল্ট্রাসাউন্ড সিস্ট শনাক্ত করা ও তার পরবর্তী নিরীক্ষণের সবচেয়ে ভাল উপায়।

স্তন ঘা হলে কি তাতে পরে ক্যান্সার হতে পারে?

স্তনের ঘা (অ্যাবসেস) হল স্তনের চামড়ার নিচে জমে ওঠা পুঁজ যা বেশ ব্যাথাযুক্ত। এর কারণে জ্বর আসতে পারে, লাল হয়ে যেতে পারে বা ফুলে উঠতে পারে। এটি সচরাচর যেসব মা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের হয় , তবে অন্যদেরও হতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশনের কারণে হয় এবং চিকিৎসা করলে সেরে যায়। এর থেকে ক্যান্সার হয় না। যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অ্যাবসেস হয়, তবে আপনার অবশ্যই পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ যে এটি ক্যান্সার নয়।

আমার যদি আগে স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে, তবে কি আমার এইচ আর টি(হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি) নেওয়া কি ঝুঁকিহীন হবে?

স্তন ক্যান্সারে হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি (এইচ আর টি) নেওয়া নিষেধ, বিশেষভাবে যেসব টিউমার হরমোনে সংবেদনশীল। এইচ আর টি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সমন্বিত এইচ আর টি এবং শুধু ইস্ট্রোজেন এইচ আর টি- দুটোই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, যদিও সমন্বিত এইচ আর টি কিছুটা বেশি বাড়ায়। আপনি যতদিন এইচ আর টি নেবেন, তার চেয়ে কিছুদিন বেশি এই ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন, তবে আপনি বন্ধ করার কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন।

বুকের দুধ খাওয়ালে কি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়?

বুকের দুধ খাওয়ালে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে আসে। বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে মহিলাদের মাসিকের সময় কমে আসে,ফলে কম ইস্টোজেন তৈরি হয়, ঝুঁকি কমিয়ে আনে। স্তন ক্যান্সার সৃষ্টির অনেক কারণের মধ্যে ইস্ট্রোজেন একটি।

আমার স্তনে চাক্রিক ( নির্দিষ্ট সময় পরপর) ব্যাথা হয়, এটা কি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ?

যদি নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনার মাসিকপূর্ব ব্যাথার সাথে সাথে স্তনে চাকা দেখা যায়, তবে বিনাইন সিস্টের লক্ষণ। এতি সাধারণত ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মাঝে হয়ে থাকে, এতে প্রায় কখনোই ক্যান্সার তৈরি হয় না। যাই হোক, আপনার স্তনে কোন চাকা থাকলে, তা অবশ্যই পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। যদি দেখেন এটি ক্ষতিকর না, তবে এর প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন, যাতে যে কোন পরিবর্তন সহজেই চোখে পড়ে।

About the author

Maya Expert Team