অনকোলজি স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার- প্রকারভেদ

মহিলাদের স্তন চর্বি, যোজক কলা (কানেকটিভ টিস্যু) ও কয়েক হাজার ছোট ছোট গ্রন্থি নিয়ে তৈরি। এ গ্রন্থিগুচ্ছকে লোবিউল বলা হয়, যা দুধ তৈরি করে। যদি কোন মহিলার বাচ্চা থাকে, বুকের দুধ কিছু ছোট টিউবের মাধ্যমে স্তনবৃন্তে আসে, ফলে মা দুধ খাওয়াতে পারেন।

আমাদের শরীর কয়েক বিলিয়ন ছোট ছোট কোষের সমন্বয়ে গঠিত। স্বাভাবিক অবস্থায় কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বড় হয় ও বিভাজিত হয়। যখন কোথাও কোন কোষের দরকার হয়, শুধু তখনই নতুন কোষ তৈরি হয়। ক্যান্সারে এ ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটে আর নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোষ বিভাজন শুরু হয়।

স্তন ক্যান্সার বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ নিয়ে দেখা দিতে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা প্রথমে স্তনে একটি চাকা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন। সব চাকাই ক্যান্সারযুক্ত নয় এবং প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে তা শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণরূপে ভাল হয়ে যায়। জেনে নিন।

স্তন ক্যান্সারের প্রকারভেদ

অনেক ধরণের স্তন ক্যান্সার আছে এবং তা স্তনের যে কোন স্থানেই হতে পারে, তার মধ্যে স্তনের উপরের বাইরের দিকের চতুর্থাংশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রায়ই স্তন ক্যান্সারকে ইনভেসিভ(যা ছড়িয়ে পড়ে) এবং ননইনভেসিভ( যা ছড়ায় না)- এ দু’ভাগে ভাগ করা হয়।

  • নন-ইনভেসিভ স্তন ক্যান্সার (Non-invasive breast cancer)

এটি প্রাক-ক্যান্সার পর্যায় যেখানে স্তনের ডাক্ট (দুগ্ধনালী)-গুলোতে ক্যান্সার হয়েছে কিন্তু তার বাইরে ছড়ায়নি। একে বলে কারসিনোমা-ইন-সিটু (carcinoma in situ)। এ ধরণের ক্যান্সারে স্তনে চাকা হয় না, সাধারণত ম্যামোগ্রাম করার সময় ধরা পড়ে। ডাক্টাল কারসিনোমা ইন সিটু (ductal carcinoma in situ – DCIS) – এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

  • ইনভেসিভ স্তন ক্যান্সার

এই ধরণের ক্যান্সার ছড়িয়ে যেতে পারে তবে তার মানে এই না যে এটি অবশ্যই ছড়াবে। মহিলাদের মাঝে যে প্রকারের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হলো ইনভেসিভ ডাক্টাল স্তন ক্যান্সার (invasive ductal breast cancer), যা স্তনের দুগ্ধনালীগুলো যে কোষ দিয়ে তৈরি তার মধ্যে হয়। ধরা পড়া স্তন ক্যান্সারের শতকরা ৮০ ভাগই ইনভেসিভ ডাক্টাল স্তন ক্যান্সার (invasive ductal breast cancer) এবং একে ‘নো স্পেশ্যাল টাইপ’ (no special type) বলা হয়।

বিবিধ স্তন ক্যান্সার

আরও কিছু প্রকারের স্তন ক্যান্সার আছে যেগুলো কম দেখা যায়, এর মধ্যে আছে- ইনভেসিভ লোবিউলার স্তন ক্যান্সার (invasive lobular breast cancer), যা দুগ্ধ উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুচ্ছের মধ্যে হয়, ইনফ্ল্যামেটরী (প্রদাহ যুক্ত) স্তন ক্যান্সার এবং স্তনের প্যাজেট’স ডিজিজ (Paget’s disease)। স্তন ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে, সাধারণত লসিকা গ্রন্থির মাধ্যমে (ছোট ছোট গ্রন্থি যা শরীরের জীবাণু ছাকনির মত কাজ করে) বা রক্তের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। যদি তা হয় তখন একে সেকন্ডারী বা মেটাস্টেটিক স্তন ক্যান্সার বলা হয়।

আপনার কি আছে ?পরীক্ষা করুন এবং জেনে নিন।

About the author

Maya Apa Expert Team