জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়েছে তার উপর।

কোন চিকিৎসা এখানে ভাল হবে এটা নিয়ে নানামত রয়েছে। এইজন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দলের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। এই বিশেষজ্ঞ দলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা থাকেন, তারা সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নেন কোন চিকিৎসাটি এখানে ভাল হবে, তারা সেই অনুযায়ী পরামর্শ প্রদান করেন। তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনার।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের পরামর্শটি হয় নিম্নরূপ

  • ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে – অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ফেলে দেয়া বা রেডিওথেরাপি প্রদান করা অথবা পর্যায়ক্রমে দুটোই
  • ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের ক্ষেত্রে – রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি অথবা পর্যায়ক্রমে দুটোই। কখনো কখনো অপারেশনেরও প্রয়োজন হয়।

সঠিক চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ের জরায়ু মুখের ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। যত বেশি ছড়িয়ে পড়ে, ভাল হবার সম্ভবনা তত কমে যায়।

যেখানে ভাল হবার কোন সম্ভবনা নেই, সেখানে চিকিৎসার মাধ্যমে এর অগ্রগতিকে ধীর করার চেষ্টা করা হয়, যাতে বেচে থাকার সময়কাল যতটা সম্ভব বাড়ে। এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর বিভিন্ন লক্ষন যেমন অস্বাভাবিক রক্তস্রাব, ব্যথা ইত্যাদি কমিয়ে যে ক’টা দিন বেচে থাকবে, সে ক’টা দিন যেন কষ্টগুলো সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেই চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের চিকিৎসাকে বলা হয় প্যালিয়াটিভ কেয়ার (palliative care)।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসার বিভিন্ন বিকল্প নিচে আলোচনা করা হলো

  • অস্বাভাবিক কোষগুলোকে ফেলে দেয়া

যদি স্ক্রিনিং টেস্টে ক্যান্সার নয়, অস্বাভাবিক কোষের উপস্থিতি ধরা পড়ে যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসার বেশ কয়েকটি বিকল্প রয়েছে, যেমন

  1. ক্রাইওথেরাপি (cryotherapy) – সুক্ষ তার ও বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে কেটে বাদ দেয়া কোন বাইওপসি (cone biopsy)- যে স্থানে অস্বাভাবিক কোষ রয়েছে, সে স্থানটিকে কোন বাইওপসি এর মাধ্যমে কেটে বাদ দেয়া
  2. লেসার থেরাপি (laser therapy)- লেসার রশ্মি ব্যবহার করে পুড়িয়ে দিয়ে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া

 

  • অপারেশন
    জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় তিন ধরনের অপারেশন করা হয়:
  1. র‍্যাডিকাল ট্রাকিলেক্টোমি (radical trachelectomy)- এতে জরায়ু মুখ, তার চারপাশের টিস্যু এবং যোনিপথের উপরের অংশ অপারেশনের মাধ্যমে কেটে বাদ দেয়া হয়, জরায়ু রেখে দেয়া হয়।
  2. হিস্টেরেক্টোমি (hysterectomy) – এতে অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু মুখ এবং জরায়ু কেটে বাদ দেয়া হয়। ক্যান্সার বেশি বিস্তৃত হয়ে গেলে তার সঙ্গে ডিম্বনালী এবং ডিম্বাশয়ও কেটে বাদ দিতে হয়
  3. পেলভিক এক্সেনটেরেসন (pelvic exenteration) – বড় ধরনের অপারেশন, এতে জরায়ু মুখ, জরায়ু, ডিম্বনালী, ডিম্বাশয়, যোনিপথ, মুত্রথলি, মলাশয় – সব কেটে বাদ দেয়া হয়।

এই তিন ধরনের অপারেশনের বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেয়া হলো

র‍্যাডিকাল ট্রাকিলেক্টোমি (radical trachelectomy)

জরায়ু মুখের ক্যান্সার একদম প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে এই অপারেশনটি করা হয়। বিশেষত এই পর্যায়ের ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে সন্তান ধারন করতে চান, তাদের জরায়ু অক্ষত রেখে এই অপারেশনটি করা হয়।

এই অপারেশন পেট না কেটেও ল্যাপারস্কোপিক পদ্ধতিতে করা যায়। এই পদ্ধতিতে পেটের চামড়ায় কয়েকটি জায়গায় ছোট্ট করে কেটে তার মধ্য দিয়ে সরু নলের ভিতর দিয়ে যন্ত্রপাতি পেটের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়। সেই যন্ত্রপাতি দিয়ে জরায়ু মুখ এবং যোনিপথের উপরের অংশ কেটে বের করে আনা হয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের কিছু লিম্ফ গ্রন্থিও (lymph node) কেটে আনা হয়। তারপর যোনিপথের নিচের অংশের সাথে জরায়ুকে সংযুক্ত করে দেয়া হয়।

অন্য দুই পদ্ধতির অপারেশনের তুলনায় এই পদ্ধতির সুবিধা হলো এতে জরায়ু অক্ষত থাকে এবং চাইলে ভবিষ্যতে সন্তান ধারন করা যায়।

এই অপারেশনের পর সন্তান ধারন করলে, সেই সন্তানকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব করাতে হয়। একই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, এই অপারেশন হওয়ার অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বৎসর পর সন্তানধারণ করা উচিত, যাতে জরায়ু এবং যোনিপথ তাদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে যথেষ্ট সময় পায়।

র‍্যাডিকাল ট্রাকিলেক্টোমির জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এই অপারেশনটি বাংলাদেশে এখনো তেমন প্রচলিত নয়।

হিস্টেরেক্টোমি (hysterectomy)

এই অপারেশনটিও জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে করা হয়। কখনো কখনো এই অপারেশনের পর রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যাতে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে না আসে।

হিস্টেরেক্টোমিও দুই ধরনের হয়:

  1. সাধারন হিস্টেরেক্টোমি (simple hysterectomy) – এই পদ্ধতিতে জরায়ু মুখ এবং জরায়ু কেটে বাদ দেয়া হয়। কখনো কখনো ডিম্বনালী এবং ডিম্বাশয়ও কেটে বাদ দেয়া হয়। এটি শুধুমাত্র জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে করা হয়।
  2. র‍্যাডিকাল হিস্টেরেক্টোমি (radical hysterectomy) – এই পদ্ধতিতে জরায়ু মুখ, জরায়ু ডিম্বনালী, ডিম্বাশয় এবং আশপাশের লিম্ফ গ্রন্থিও কেটে বাদ দেয়া হয়। ১ম মাত্রার (stage-one) অগ্রসর পর্যায়ে এবং ২য় মাত্রার (stage-two) প্রাথমিক পর্যায়ের জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই অপারেশন করা হয়।

হিস্টেরেক্টোমির স্বল্পমেয়াদী জটিলতা হলো এর থেকে সংক্রমন হতে পারে, রক্তক্ষরন হতে পারে, রক্ত জমাট বেধে থাকতে পারে, তার সাথে অপারেশনের সময় দুর্ঘটনাবশত ইউরেটের, মুত্রথলি বা মলাশয় আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা যদিও কম, কিন্তু হলে সেটা বড় ধরনের সমস্যার কারন হয়ে দাড়ায় যেমন,

  • যোনিপথ ছোট এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়া, যার ফলে যৌনমিলন কষ্টকর হয়ে দাড়ায়
  • প্রস্রাবের উপর নিয়ন্ত্রন নষ্ট হয়ে যাওয়া
  • হাত-পা ফুলে যেতে পারে
  • অপারেশনের সময় দুর্ঘটনাবশত অন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে, সেখানে স্কার হয়ে অন্ত্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে আবার অপারেশনের প্রয়োজন হয়
  • জরায়ু ফেলে দিয়ে থাকলে সন্তান ধারনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া
  • ডিম্বাশয় ফেলে দিয়ে থাকলে হরমোন জনিত সমস্যার কারনে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া।

পেলভিক এক্সেনটেরেসন (pelvic exenteration)

এটি একটি বড় ধরনের অপারেশন। পূর্বে অন্য অপারেশন বা যাবতীয় চিকিৎসার পরও যদি আবার ক্যান্সার ফিরে আসে, তখন এই অপারেশনটি করা হয়। তবে ফিরে আসা ক্যান্সার যদি শুধু শ্রোণিদেশেই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলেই এই অপারেশনটি করা যায়।

এই অপারেশনের দুইটি ধাপ রয়েছে-

  1. প্রথম ধাপ – এতে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ এবং মুত্রথলি, মলাশয় ও অন্ত্রের নিচের অংশ কেটে বাদ দেয়া হয়
  2. দ্বিতীয় অংশ – এতে পেটের মধ্যে দূইটি ফুটো করা হয়। একটি দিয়ে পেট থেকে মল এনং অন্যটি দিয়ে মুত্র বের করে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এই ফুটো দুইটির স্থানে বাইরে থেকে দুটি ব্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়, যাতে মল এবং মুত্র আলাদা আলাদা ভাবে ঐ দুইটি ব্যাগে জমা হতে পারে। এই ব্যাগগুলোর নাম কলস্টোমি ব্যাগ।

এই অপারেশনের পর অনেকের ক্ষেত্রে তাদের যোনিপথ পূর্ণগঠন করে দেয়া হয়। শরীরের অন্য স্থান থেকে ত্বক এবং টিস্যু এনে তা দিয়ে যোনিপথ পূর্ণগঠন করা হয়। যার মাধ্যমে কয়েকমাস বিরতির পর একজন তার স্বাভাবিক যৌনজীবন ফিরে পেতে পারে। এই পূর্ণগঠনের অপারেশনটি এখনো বাংলাদেশে তেমন প্রচিলিত নয়।

  • রেডিওথেরাপি

প্রাথমিক পর্যায়ের জরায়ু মুখের কান্সারের চিকিৎসায় কখনো শুধু রেডিওথেরাপি এবং কখনো অপারেশনের সংগে রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সার জটিল পর্যায়ে চলে গেলে কখনো কখনো এটি কেমোথেরাপির সঙ্গেও ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে এটি রক্তপাত বন্ধ করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

দুই ভাবে এটি দেয়া হয়-

  1. বাইরে থেকে – মেশিনের মাধ্যমে বাইরে থেকে শক্তিশালী তেজস্ক্রিয় রশ্মি তলপেটে ফেলা হয় যাতে ভিতরের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়
  2. ভিতর থেকে – যোনিপথে এবং জরায়ু মুখে একটি সক্রিয় তেজস্ক্রিয় উপাদান (radioactive implant) বসিয়ে দেয়া হয়, যার থেকে তেজস্ক্রিয়তা বিকীর্ণ হয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে

সাধারনত বাইরে থেকে দেয়া রেডিওথেরাপিটিই বেশি ব্যবহার করা হয়। রেডিওথেরাপির কোর্স সম্পন্ন হতে শেষ হতে ৫ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে।

ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি রেডিওথেরাপি অনেক সময় সুস্থ কোষও ধ্বংস করে ফেলে, ফলে অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কয়েকমাস এমনকি কয়েক বৎসরও থেকে যেতে পারে।

রেডিওথেরাপির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো-

  • ডায়রিয়া
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা
  • যোনিপথে বা পায়ুপথে রক্তক্ষরন
  • খুব ক্লান্ত বোধ করা
  • বমি বমি ভাব
  • তলপেটের চামড়া, যেখানে রেডিওথেরাপি দেয়া হয়েছে রোদে পোড়ার মত পুড়ে যাওয়া
  • যোনিপথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ার কারনে যৌনমিলনে ব্যথা বোধ করা
  • বন্ধ্যাত্ব
  • ডিম্বাশয় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারনে সময়ের পূর্বে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মুত্রথলি ও মলাশয় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারনে প্রস্রাব পায়খানার উপর নিয়ন্ত্রন নষ্ট হয়ে যাওয়া

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো রেডিওথেরাপি শেষ হওয়ার ৮ সপ্তাহের মধ্যে দূর হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কয়েক মাস মাস এমনকি কয়েক বৎসর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে।

সন্তান ধারন ক্ষমতা নিয়ে যদি আপনার উদ্বেগ থাকে, তবে রেডিওথেরাপি শুরু করার আগে, ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু বের করে নিয়ে সংরক্ষন করা যায়। রেডিওথেরাপি শেষ হয়ে যাবার পর পরবর্তীতে এই সংরক্ষিত ডিম্বানুর মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে গর্ভধারণ করা যায়। এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে এখনো তেমন প্রচলিত নয়।

ডিম্বাশয় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারনে সময়ের পূর্বে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়াও প্রতিহত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি শুরু করার আগে, অপারেশনের মাধ্যমে ডিম্বাশয় দুইটি কে কেটে সরিয়ে নিয়ে, রেডিওথেরাপির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না এমন জায়গায় প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিও বাংলাদেশে এখনো তেমন প্রচলিত নয়।

  • কেমোথেরাপি

জরায়ু মুখের ক্যান্সার নিরাময় করার জন্য রেডিওথেরাপির সাথে সমন্বিত ভাবে কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। আর ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, এর বিস্তার ধীর করার জন্য এবং কষ্ট কমানোর জন্য শুধু কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়।

ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করার জন্য কেমোথেরাপিতে কখনো কখনো একটি মাত্র ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যার নাম সিসপ্লাটিন (cisplatin)। আর কখনো কখনো একাধিক ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।

কেমোথেরাপি শিরাপথে স্যলাইনের মাধ্যমে ফোঁটায় ফোঁটায় দেয়া হয়। এর জন্য সাধারনত হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়না, হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেয়া হয় এবং শেষ হলে বাসায় ফিরে যাওয়া যায়।

রেডিওথেরাপির মতো কেমোথেরাপিও ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি অনেক সুস্থ কোষও ধ্বংস করে ফেলে, ফলে অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এক্ষেত্রে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো

  • অবসাদ এবং ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব এবং বমি
  • চুল পড়ে যাওয়া
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারনে সংক্রমনের ঝুকি বেড়ে যাওয়া
  • রক্ত স্বল্পতা, রক্ত কনিকা উৎপাদন কমে যাওয়ার কারনে এমনটা হয়
  • অল্পতেই রক্তক্ষরণ বা ত্বকের নিচে রক্ত জমাট বাঁধা
  • মুখে ঘা
  • ক্ষুদা মন্দা
  • শুকনো ত্বক, ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত, ভঙ্গুর নখ
  • সাময়িক স্মৃতি বিভ্রাট
  • ঘুমের সমস্যা
  • সাময়িক অথবা স্থায়ী ভাবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া
  • যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
  • ডায়রিয়া অথবা কোস্ট কাঠিন্য
  • বিষণ্ণতা
  • কেমোথেরাপি কখন কখনো কিডনির ক্ষতি করে। যার কারনে কেমোথেরাপি নেয়ার সময় নিয়মিত ভাবে কিডনির পরীক্ষা করাতে হয়।

ফলোআপ

চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থাৎ শরীরের সমস্থ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হওয়ার পর, নিয়মিতভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, পরীক্ষা করাতে হবে। ডাক্তার শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত আপনার জরায়ু মুখ এবং যোনিপথ পরীক্ষা করে দেখবেন, সেখানে কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা (যদি এগুলো ফেলে দেয়া না হয়ে থাকে)।

জরায়ু মুখের ক্যান্সার ফিরে আসার একটা সম্ভবনা থেকেই যায়। সে কারনে ফলোআপের সময় ডাক্তার তার চিহ্নগুলো খুজে দেখবেন। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে আবার বাইওপসি করাতে বলবেন।

যাদের ক্যান্সার ফিরে আসে, সেটা সাধারনত চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই ফিরে আসে।

সে কারনে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম ২ বৎসর ৪ মাস পর পর এবং পরবর্তী ৩ বৎসর ৬ মাস থেকে ১ বৎসর পর পর ফলোআপের জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।