অনকোলজি জরায়ুমুখ ক্যান্সার

জরায়ু মুখের ক্যান্সার – রোগ নির্ণয়

Written by Maya Expert Team

জরায়ু মুখের ক্যান্সার – রোগ নির্ণয়

যদি সন্দেহ করা হয় আপনার জরায়ু মুখের ক্যান্সার হতে পারে, তবে আপনাকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (gynaecologist) অথবা একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের (oncologist) কাছে পাঠানো হবে।

আপনার জরায়ু মুখের স্ক্রিনিং টেস্টের (cervical screening test) ফলাফলে যদি জরায়ু মুখের কোষের কোন অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তাহলেই কেবল আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হবে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা ক্যান্সার নাও হতে পারে।

আর যদি আপনার অস্বাভাবিক রক্তস্রাব জনিত সমস্যা থাকে বা শারীরিক পরীক্ষায় জরায়ু মুখে কোন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার পাওয়া যায়, তাহলে প্রথমে আপনাকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (gynaecologist) এর কাছে পাঠানো হবে।

নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো যে সব পরীক্ষা করা হয়

  • কল্পস্কোপি (Colposcopy)

জরায়ু মুখের স্ক্রিনিং টেস্টের (cervical screening test) ফলাফলে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে কল্পস্কোপি করানো হয়। এই পদ্ধতিতে একটি ক্ষুদ্র মাইক্রোস্কোপ একটি সরু নলের সাহায্যে জরায়ু মুখে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেই নলের মাথায় আলোরও ব্যবস্থা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তখন ঐ ক্ষুদ্র মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে জরায়ু মুখের কোষ পর্যবেক্ষণ করেন, কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা খুজে দেখেন। প্রয়োজনে সেখান থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন, যা পরবর্তীতে ল্যাব্রেটোরিতে পরীক্ষা করে দেখা হয়।

  • কোন বাইওপসি (cone biopsy)

কখনো কখনো একটি ছোট অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু মুখ থেকে বাইওপসি এর জন্য টিস্যু নেয়া হয়। কোণাকৃতির টিস্যু কেটে নেয়া হয় বলে এর নাম কোন বাইওপসি। সাধারনত এটি স্থানীয় ভাবে অবশ করে (local anaesthesia) হাসপাতালে করা হয়। তারপর সে টিস্যু ল্যাব্রেটোরিতে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা হয় তাতে কোন ক্যান্সার কোষ আছে কিনা।

কোন বাইওপসি নেয়া হলে, পরবর্তী ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত যোনিপথে অল্প অল্প রক্তপাত হতে পারে, মাসিকের সময় যেমন ব্যথা হয় তেমন ব্যথা হতে পারে।

পরবর্তী পরীক্ষা সমূহ

বাইওপসি পরীক্ষায় যদি ক্যান্সার সনাক্ত হয়, তবে সেটি কি পর্যায়ে আছে, ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, তা বুঝার জন্য নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করা হয় :

  • হাসপাতালে অজ্ঞান করে আপনার শ্রোণিদেশের সব অঙ্গগুলো যেমন, যোনিপথ, জরায়ু, মলাশয় এবং মুত্রথলি পরীক্ষা করে দেখা হবে, এর কোনটাতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে কিনা
  • রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে লিভার, কিডনি এবং অস্থিমজ্জার (bone marrow) অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হবে
  • সিটি স্ক্যান (CT Scan)- এর মাধ্যমে আক্রান্ত অঙ্গের ত্রিমাত্রিক ছবি নেয়া হয়, যা দেখে বুঝা যায় অঙ্গটিতে ক্যান্সার কি অবস্থায় আছে এবং ক্যান্সার তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা।
  • এমআরআই স্ক্যান (MRI scan)- শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং রঞ্জন রশ্মির মাধ্য্যমে আক্রান্ত অঙ্গ এবং তার চারপাশের বিস্তারিত ছবি নেয়া হয়, মূলত ক্যান্সারের বিস্তৃতি নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়
  • বুকের এক্সরে – ক্যান্সার ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা জানার জন্য করা হয়
  • প্যাট স্ক্যান (PET scan)- এটি একটি বিশেষ ধরনের স্ক্যান, যাতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মৃদু মাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং তারপর সিটি স্ক্যান করা হয়। এতে ক্যান্সার আক্রান্ত টিস্যু আরো পরিস্কার ভাবে দেখা যায় এবং চিকিৎসায় কেমন ফলাফল পাওয়া যাবে সে সম্পর্কেও ধারনা পাওয়া যায়।

ক্যান্সারের মাত্রা নির্ণয়

সমস্থ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর কান্সার কোন পর্যায়ে আছে তার মাত্রা নির্ণয় করা হয়। এই মাত্রাটি হিসাব করা হয় ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়েছে তার উপর ভিত্তি করে। ক্যান্সার যত বেশি ছড়িয়েছে মাত্রা তত বেশি হয়। নিন্মে তার বর্ণনা দেয়া হলো

শুন্য মাত্রা (stage zero)- কোন ক্যান্সার কোষ নেই, কিন্তু কোষে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন রয়েছে যেখান থেকে ভবিষ্যতে ক্যান্সার হতে পারে, এটিকে ক্যান্সার পূর্ববর্তী অবস্থাও বলা হয়

১ম মাত্রা (stage-one)- ক্যান্সার শুধুমাত্র জরায়ু মুখেই সীমাবদ্ধ আছে, কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি

২য় মাত্রা (stage-two)- ক্যান্সার জরায়ু মুখের আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়েছে, কিন্তু শ্রোণিদেশের দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছায়নি এবং নিচের দিকে যোনিপথের নিম্নাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়নি

৩য় মাত্রা (stage-three) – ক্যান্সার জরায়ু মুখ ছাড়িয়ে শ্রোণিদেশের দেয়াল পর্যন্ত এবং নিচের দিকে যোনিপথের নিম্নাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

৪র্থ মাত্রা (stage-four) – ক্যান্সার ছড়িয়ে অন্ত্র, মুত্রথলি, ফুসফুস বা অন্যান্য অঙ্গ পর্যন্ত ছড়িয়েছে

About the author

Maya Expert Team