অনকোলজি জরায়ুমুখ ক্যান্সার

জরায়ু মুখের ক্যান্সার

Written by Maya Expert Team

জরায়ু মুখ হলো যোনিপথ এবং জরায়ুর সংযোগস্থল, মেয়েরা যে সকল ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সার অন্যতম।

প্রাথমিক পর্যায়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কোন লক্ষন থাকে না। সবচেয়ে বেশি এবং সবার আগে যে লক্ষণটি দেখা যায় তা হলো- যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব, এটি যৌনমিলনের পর হতে পারে, দুই মাসিকের মাঝখানের সময়ে হতে পারে বা নির্দিষ্ট বয়সে মাসিক প্রাকৃতিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও হতে পারে।

তবে, যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব হলেই ক্যান্সার মনে করার কোন কারন নাই। অন্যান্য কারনেও এমনটা হতে পারে। যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব হলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরো জানতে ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সারের লক্ষন’ এবং ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়’ এই আর্টিকেল দুটি পড়ুন।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং (প্রাথমিক ভাবে রোগ নির্ণয়ের পরিক্ষা)

জরায়ু মুখের গায়ের আবরণে যে কোষ গুলো থাকে, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাদের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। কিছু কিছু দুর্লভ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই কোষ গুলি ক্যান্সার কোষে পরিনত হয়। তবে আশার কথা হলো, জরায়ু মুখের কোষের এই পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই বুঝতে পারা যায়, এবং সময়মত চিকিৎসা গ্রহন করলে এই ক্যান্সারকে প্রতিহত করা যায়।

২৫ বৎসরের বেশি বয়সী সকল মেয়েদেরকে জরায়ু মুখের এই ‘স্ক্রিনিং’ পরীক্ষা করতে বলা হয়। এই পরীক্ষায় জরায়ু মুখ থেকে কোষ নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয় তাতে কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা। এই পরীক্ষাকে ‘সারভাইকাল স্মেয়ার টেস্ট’ (cervical smear test) নামেও ডাকা হয়।

তবে এই পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়া মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়। অন্য কারনেও কোষে অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে যেমন, জরায়ু মুখে কোন সংক্রমণের কারনেও এমনটা হতে পারে। ক্যান্সার পূর্ববর্তী অবস্থার (preccancerous) কোষও থাকতে পারে, এটি কান্সার নয় এবং সহজেই নিরাময় যোগ্য।

একারনে ২৫ থেকে ৪৯ বৎসর বয়সী মহিলাদেরকে প্রতি ৩ বৎসর পর পর এবং ৫০ থেকে ৬৪ বৎসর বয়সী মহিলাদেরকে ৫ বৎসর পর পর এই স্ক্রিনিং টেস্ট করতে বলা হয়।

জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য UNFPA এর সহায়তায় বাংলাদেশে ৪৪ জেলায় বিশেষ ধরনের স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয় করার একটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

এ ব্যপারে আরো জানতে ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং’ আর্টিকেলটি পড়ুন।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারন

প্রায় সব ক্ষেত্রেই জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারন হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাস (human papilloma virus)। এই ভাইরাস মূলত যৌনমিলনের মাধ্যমে ছড়ায়।

হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসের ১০০ এর উপর প্রজাতি রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক গুলোই কোন ক্ষতি করে না। কিছু কিছু প্রজাতি জরায়ু মুখের কোষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, যার থেকে ক্যান্সার কোষের সূত্রপাত হয়।

About the author

Maya Expert Team