অনকোলজি জরায়ুমুখ ক্যান্সার

জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ

Written by Maya Expert Team

জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের সরাসরি কোন পন্থা নাই। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এর ঝুঁকি কমানো যায়। নিচে তার বর্ণনা দেয়া হলো-

  • নিরপদ যৌন জীবন

প্রায় সব ক্ষেত্রেই জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারন হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাস (human papilloma virus)। এই ভাইরাস মূলত যৌনমিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। সুতরাং প্রতিবার যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার করলে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুকি কমে যায়, ফলে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুকিও কমে যায়।

অল্পবয়সে নিয়মিত যৌনমিলনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনমিলন করলে হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। যদিও একজন মাত্র সঙ্গীর সাথে যৌনমিলন করেছে এমন মহিলাদের মধ্যেও জরায়ু মুখের ক্যান্সার দেখা যায়।

হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাস খুব সহজেই সংক্রমিত হয়। বিস্তৃত যৌনাঙ্গের ত্বকের সাথে ত্বকের সংস্পর্শে আসলেই এই ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়ে যায়। যার কারনে শুধু নিরাপদ যৌন অভ্যাস দিয়ে এটিকে প্রতিরোধ সম্ভব না। জরায়ু মুখের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমেই এটির ঝুকি কমানো সম্ভব।

  • জরায়ু মুখের স্ক্রিনিং

নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ু মুখের কোষের অস্বাভাবিকতা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করাই হচ্ছে, জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। ২৫ বৎসরের বেশি বয়সী সকল মেয়েদেরকে জরায়ু মুখের এই ‘স্ক্রিনিং’ পরীক্ষা করতে বলা হয়।

২৫ থেকে ৪৯ বৎসর বয়সী মহিলাদেরকে প্রতি ৩ বৎসর পর পর এবং ৫০ থেকে ৬৪ বৎসর বয়সী মহিলাদেরকে ৫ বৎসর পর পর এই স্ক্রিনিং টেস্ট করতে বলা হয়।

এমনকি হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা নেয়া থাকলেও নিয়মিত স্ক্রিনিং করা উচিত। কারন এই টিকা শতভাগ সুরক্ষা প্রদান করেনা।

যদি ইতিপূর্বে আপনার জরায়ু মুখের কোষের কোন অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে থাকে, তবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর আরো কম বিরতিতে স্ক্রিনিং টেস্ট করানো উচিত। কত ঘন ঘন আপনি স্ক্রিনিং টেস্ট করাবেন তা নির্ভর করবে আপনার জরায়ু মুখের কোষে কি ধরনের অস্বাভাবিকতা ছিল তার উপর।

জরায়ু মুখের স্ক্রিনিং টেস্টও সবসময় শতভাগ সঠিক হয়না। এমনও হতে পারে, জরায়ু মুখের কোষে অস্বাভাবিকতা থাকা সত্ত্বেও তা স্ক্রিনিং টেস্টে ধরা পড়ল না। সে কারনে স্ক্রিনিং টেস্টের ফলাফল ভাল থাকা সত্ত্বেও যদি যোনিপথে কোন অস্বাভাবিক রক্তস্রাব হয়, তাহলে দ্রুত আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

  • জরায়ু মুখের ক্যান্সারের প্রতিষেধক টিকা

এই টিকা হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসের দুইটি প্রজাতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে, এই দুই প্রজাতিই অধিকাংশ জরায়ু মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

মেয়েদেরকে ১২ থেকে ১৩ বৎসরের মধ্যে এই টিকা দিতে হয়। ৬ মাস সময়ের মধ্যে ৩টি টিকা দিতে হয়।

যদিও এই টিকা জরায়ু মুখের কান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটা হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতভাগ সুরক্ষা প্রদান করে না। সে কারনে এই টিকা নেয়া থাকলেও নিয়মিতভাবে জরায়ু মুখের স্ক্রিনিং টেস্ট করানো উচিত।

  • ধূমপান ত্যাগ

ধূমপান করলে কোনভাবেই আপনি আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারবেন না। যারা ধূমপান করে তাদের হিউমেন প্যাপিলমা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি, যা জরায়ু মুখের কান্সারের প্রধান কারন। যদি ধূমপান ত্যাগ করতে আপনার খুব বেশি অসুবিধে হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথ বলুন, ডাক্তার এই ব্যপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

 

মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa

 

About the author

Maya Expert Team