হৃদরোগ হৃদরোগ সংক্রান্ত

হার্টের অসুখ নির্ণয়

Written by Maya Expert Team

হার্টের অসুখ নির্ণয়

করোনারী হৃদরোগ  বা (CHD) সাধারণত ঝুঁকি নির্ণয় এবং আরও কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

ঝুঁকি নির্ণয়

আপনার যদি সিএইচডি হবার সম্ভাবনা থাকে, তবে আপনার চিকিৎসক কার্ডিওভাস্কুলার অসুখ, হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। আপনার, আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাস, আপনার জীবনযাপনের ধরণ, আপনি কেমন শারীরিক পরিশ্রম করেন এধরণের প্রশ্ন আপনার চিকিৎসক আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন। আপনার রক্তচাপ মেপে দেখবেন, আপনার কোলেস্টেরল মাত্রা পরিমাপের জন্য রক্ত পরীক্ষা করতে দিবেন। এইসবই আপনার রোগ নির্ণয়ের একটা অংশ। কোলেস্টেরল পরীক্ষার আগে ১২ ঘণ্টা আপনি কিছু খাবেননা, কারণ খাবার আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।  

অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা

নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনাকে আরও কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে। হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয়ের জন্য আপনাকে যে পরীক্ষাগুলো করতে বলা করতে হতে পারে:

  • ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি
  • এক্স-রে
  • ইকোকার্ডিওগ্রাম
  • রক্ত পরীক্ষা
  • করোনারি অ্যানজিওগ্রাফি

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম(ইসিজি)

ইসিজিতে আপনার হৃৎস্পন্দন এবং বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ধারণ করা হয়। কয়েকটি ইলেক্ট্রোড আপনার হাত, পা এবং বুকে লাগিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়।ইলেক্ট্রোডগুলো একটি মেশিনের সাথে লাগানো থাকে যা আপনার প্রতিটি হৃৎস্পন্দন রেকর্ড করে। ইসিজি আপনার হৃৎস্পন্দনের সমস্যা সহজেই ধরতে পারে, তবে এর মানে কিন্তু এই নয় যে অস্বাভাবিক রেকর্ড আসা মানেই আপনার হার্টে সমস্যা আছে। আবার ইসিজির স্বাভাবিক রেকর্ড আপনার হার্টের সমস্যা নাও ধরতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে এক্সারসাইজ ইসিজি বা স্ট্রেস টেস্ট করতে দেয়া হতে পারে। এটা করা হয় আপনি এক্সারসাইজ করার সময়( ট্রেড-মিলে আপনি দৌড়ানোর সময়)। যদি এক্সারসাইজ করার সময় আপনি ব্যথা অনুভব করেন তবে এই টেস্টের মাধ্যমে অ্যানজাইনার লক্ষণ ধরা পড়ে যা মূলত সিএইচডি এর জন্য হয়।

এক্স-রে

হার্ট, ফুসফুস আর বুকের সমস্যা দেখতে এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। এক্স-রে করার কারণে আপনার আসলেই হার্টের সমস্যা আছে কিনা তা বোঝা যায়। শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে আপনার হার্টের ছবি নেয়া হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার প্রতিটি হার্ট ভাল্ভের গঠন, পুরুত্ব, আর গতিবিধি শনাক্ত করা যায় এবং আপনার হার্টের বিস্তারিত চিত্রও এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। ইকোকার্ডিওগ্রাম করার সময় আপনাকে আপনার পোশাকের উপরের অংশ খুলে নিতে হবে এবং আপনার বুকের ত্বকে ট্রান্সডিউসার নামক একটি যন্ত্র চালনা করা হবে। তার আগে আপনার ত্বকে লুব্রিকেটিং জেল দেওয়া হয় যাতে যন্ত্রটি মসৃণভাবে আপনার ত্বকের উপর চলতে পারে এবং যন্ত্রের সেন্সর আর আপনার ত্বকের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখে।

রক্ত পরীক্ষা

কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি আপনার হার্টের কার্যক্রম পরীক্ষার জন্য আপনাকে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করাতে হতে পারে। এর মধ্যে কার্ডিয়াক এনজাইম পরীক্ষার জন্য ট্রপোনিন১ পরীক্ষাও থাকতে পারে, এর দ্বারা দেখা যায় যে হার্টের পেশীতে সাম্প্রতিক কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা।

করোনারি অ্যানজিওগ্রাফি

এটি কার্ডিয়াক ক্যাথেটার টেস্ট নামেও পরিচিত। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় যে আপনার হার্টের ধমনী কতটা সরু হয়ে গিয়েছে, এবং রক্ত চলাচলের পথ কতটা বন্ধ হয়েছে। এই পরীক্ষায় আপনার হার্টের চেম্বারগুলোর ভিতরের চাপ সম্পর্কে জানা যায়, এবং আপনার হার্টের কার্যক্রম কেমন চলছে তাও জানা যায়।  অ্যানজিওগ্রাম করার সময় একটি ক্যাথেটার আপনার কোমরের বা হাতের ধমনীতে এক্স-রের সাহায্যে প্রবেশ করান হয়। ক্যাথেটারে রঞ্জক পদার্থ ইঞ্জেক্ট  করা হয়, যাতে আপনার ধমনী দেখা যায়। এক্সরের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি নেয়া হয়, যাতে ধমনীতে কোন ব্লক আছে কিনা দেখা যায়। এই প্রক্রিয়াটা স্থানীয় এনেস্থেশিয়া দিয়ে করা হয়।

করোনারি অ্যানজিওগ্রাম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং গুরুতর কোন জটিলতা প্রায় দেখা দেয় না বললেই চলে। পুরো প্রক্রিয়াটা চলার সময় হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক অথবা মৃত্যুর ঝুঁকি ধারনা করা হয় প্রতি ১০০০ হাজারে ১ অথবা ২ জন। তবে অ্যানজিওগ্রাম করার সময় ও পরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:

  • যখন রঞ্জক পদার্থ ক্যাথেটারে প্রবেশ করানো হয়, তখন হাল্কাভাবে অদ্ভুত সংবেদনশীল বোধ করা।
  • ক্যাথেটার খোলার পর সামান্য কিছু রক্তপাত হওয়া।
  • হাত অথবা কোমরে ক্ষত হওয়া   

About the author

Maya Expert Team