এন্ডোক্রিনোলজি স্বাস্থ্য

হাইপোথাইরয়ডিজম

        থাইরয়েড গ্রন্থিঃ

থাইরয়েড গ্রন্থি ছোট্ট একটি প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি যা আমাদের শ্বাসনালীর ঠিক সামনে থাকে।

এই গ্রন্থির প্রধাণ কাজ হচ্ছে হরমোন তৈরি করা যা শরীরের বিপাক কার্য (খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে)। এই হরমোন গু্লো হলঃ ট্রাইআয়ডোথাইরোনিন(T3)এবং থাইরক্সিন(T4)

শরীরের অনেক কার্যকলাপ ধীরগতির হয়ে যাবে যদি থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত  পরিমাণ হরমোন তৈরি করতে না পারে।

একটি কম কার্যক্ষমতা সম্পন্ন থাইরয়েড গ্রন্থিকে হাইপোথাইরয়ডিজম বলে।যার অর্থ বোঝায়, আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ যা থাইরয়েড হরমোন নামে পরিচিত- তা তৈরি করতে পারছে না।

কম কার্যক্ষমতা সম্পন্ন থাইরয়েড গ্রন্থির কিছু সাধারণ লক্ষণ হলঃ দুর্বলতা, ওজন বৃদ্ধি এবং বিষণ্ণতা।

সাধারণত একটি কম কার্যক্ষমতা সম্পন্ন থাইরয়েড এর জন্য ভয়ের কিছু নেই। এটি চিকিৎসার মাধ্যমে; প্রতিদিন একটি করে হরমোন ট্যাবলেট খাওয়ার মাধ্যমে যা আপনার শরীরের হরমোনের ঘাটতি পূরণ করবে; সম্পূর্ণরূপে নিয়নত্রণ করা সম্ভব।

হাইপোথাইরয়ডিজম সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বেশের ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ দেখা যায় যে- আপনার নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা থাইরয়েড গ্রন্থির উপর আক্রমণ অথবা থাইরয়েড ক্যানসার এর চিকিৎসা যা অনেক সময় আপনার থাইরয়েড গ্রন্থিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে অথবা বেশি কার্যক্ষমতা সম্পন্ন থাইরয়েড গ্রন্থি।

হাইপোথাইরয়ডিজম এর কারণ জানতে এই বিষয়ে আরও পড়ুন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

হাইপোথাইরয়ডিজম এর লক্ষণসমূহ এতো ধীরে ধীরে শুরু হয় যে, লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে এবং তা খেয়াল করতেও বছর লেগে যায়। প্রায়শই ডাক্তার এবং রোগী হাইপোথাইরয়ডিজম এর লক্ষণসমূহকে অন্য কিছুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।

আপনার যদি নিচের লক্ষণসমূহ দেখা যায় বা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। লক্ষণসমূহঃ

  • দুর্বলতা।
  • ওজন বৃদ্ধি।
  • বিষণ্ণতা।
  • ঠাণ্ডায় সংবেদনশীলতা।
  • শুষ্ক চামড়া এবং রুক্ষ চুল।
  • মাংসপেশীতে ব্যথা।

আপনার হাইপোথাইরয়ডিজম আছে কিনা তা জানার জন্য সবচেয়ে সঠিক উপায় হল, আপনার রক্তের হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে জেনে নেয়া।

কারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হনঃ

নারী এবং পুরুষ উভয়েই হাইপোথাইরয়ডিজম হতে পারে তবে নারীদের ক্ষেত্রেই এটি বেশি হতে দেখা যায়। প্রায় ৩৫০০-৪৫০০ নবজাতক এর ভেতরে ১ জন হাইপোথাইরয়ডিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যাকে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজম (Congenital Hypothyroidism) বলে। যখন নবজাতক এর বয়স ৫ দিন হবে তখন একটি হিল-প্রিক ( Heel-prick Blood Test) রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে নবজাতক এর Congenital Hypothyroidism আছে কিনা তা জানা সম্ভব।

 

হাইপোথাইরয়ডিজম এর চিকিৎসাঃ  

হাইপোথাইরয়ডিজম এর চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন হরমোন প্রতিস্থাপনকারী ট্যাবলেট লিভোথাইরক্সিন ( Hormone-replacement Tablet-Levothyroxine) খেতে হবে যাতে করে আপনার থাইরক্সিন হরমোন এর মাত্রা বাড়ে।সাধারণত সারাজীবনই ট্যাবলেট খেতে হতে পারে। তবে আশার কথা এই যে, নিয়মিত এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি একটি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।

যদি সঠিক সময়ে ঠিকভাবে হাইপোথাইরয়ডিজম চিকিৎসা করা না হয় তাহলে অনেক জটিলতা যেমনঃ হৃদরোগ, গলগন্ড(গলার সামনে একটি চাকার মত স্ফীত অংশ- থাইরয়েড গ্রন্থি),গর্ভাবস্থায় জটিলতা এমনকি

জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ অবস্থা মিক্সিডিমা-কোমা (Myxoedema Coma) হতে পারে, যদিও এটি খুবই বিরল।   

 

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment