মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্ক

সুস্থ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক

Written by Maya Expert Team

“সখী, ভাবনা কাহারে বলে
                     সখী, যাতনা কাহারে বলে
তোমরা যে বলো দিবস-রজনী
                    ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’—
সখী, ভালোবাসা কারে কয়!
                     সে কি কেবলই যাতনাময় ।
                     সে কি কেবলই চোখের জল?
                     সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে
এমন দুখের আশ ।”

 

আমরা কম বেশি অনেকেই এই রবীন্দ্রসংগীতটির সাথে পরিচিত। এখানে কবি ভালোবাসা নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন প্রতীকী ভাবে। সিনেমা, নাটক, কবিতা বা গানে ভালোবাসার এমন অনেক রূপই আমরা দেখতে পাই। ভালোবাসা নিয়ে আমাদের অনেক জল্পনা-কল্পনা কাজ করে। অনেকের মতে ভালোবাসা একটি স্বর্গীয় অনুভূতি। বিজ্ঞানের ভাষায় ভালোবাসা একধরণের ইতিবাচক অনুভূতি, যা শুধু বিশেষ মানুষের ক্ষেত্রেই কাজ করে।  

ভালোবাসার সম্পর্ক কি:

ভালোবাসার সম্পর্ক দুজন ব্যক্তির আবেগকে যুক্ত করে। যখন কেউ কাউকে ভালোবাসতে শুরু করে তার ব্রেন থেকে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এর জন্য সুখকর অনুভূতি কাজ করে। সুখী থাকার জন্য সুস্থ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে আমরা ভালোলাগা এবং ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য গুলিয়ে  ফেলি। দুটি সম্পূর্ণই ভিন্ন বিষয়। ভালোলাগা স্বল্পস্থায়ী যেখানে ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী। ভালোবাসার অনুভুতিটার তীব্রতা বেশি থাকবে।

ভালোবাসার সম্পর্কের প্রকারভেদ এবং সুস্থ সম্পর্কের কি:

মনোবিজ্ঞানীদের মতে ভালোবাসার সম্পর্ক দু ধরণের। একটি হচ্ছে কমপ্লিমেন্টারি পার্টনারশিপ- যেখানে একজন আরেকজনের উপর কর্তৃত্ব খাটাতে চাইবে, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না।  আরেকটি হচ্ছে সিমেট্রিক্যাল পার্টনারশিপ- যেখানে উভয়েরই মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিশ্বাস থাকবে। বোঝাপড়া থাকবে, কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা থাকবে না, যা একটি সুস্থ সম্পর্ক।

সুস্থ সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা:

  • সম্পর্ক নিয়ে যদি রাগ- ক্ষোভ, হতাশা-বিষণ্ণতা, হীনমন্যতা ইত্যাদি কাজ করে তবে সেটা মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করে।  তাই মানসিক সুস্থতার জন্য সুস্থ সম্পর্ক দরকার।
  • সুস্থ সম্পর্ক আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
  • সুস্থ সম্পর্ক জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা বাড়ায়। এতে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ বাড়ে।  

কিভাবে সম্পর্কের উন্নতি করবেন:

  • ভালোবাসার মানুষটিকে শুনুন, তার মতামতের প্রাধান্য দিন।
  • একে অপরকে সময় দিন।  যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন,ভালোবাসার মানুষটির জন্য সময় রাখতে হবে। যেমন- একটু ফোন কথা বলা কিংবা মেসেজ দেয়া, সময় বেশি থাকলে একটা চিঠিও লিখে দিতে পারেন।
  • যত ছোট বিষয়েই হোক না কেন, পছন্দের মানুষটি প্রশংসা করুন।প্রশংসা বা স্বীকৃতি পেতে আমরা সবাই-ই পছন্দ করি।  
  • কোনো কিছু না লুকানো, এতে বোঝাপড়া ভালো থাকে।
  • অন্যদের সাথে তুলনা না করা, এতে সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হতে পারে।
  • বেশি সময় পেলে দূরে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন।

ভালোবাসার সম্পর্কটি হোক সুস্থ  এবং অটুট থাকুক কবিতার মতো,

“তোমারেই করিয়াছি
                                  জীবনের ধ্রুব তারা
এ সমুদ্রে আর কভু
                                    হব না কো পথ-হারা”

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment