আইনি নারীর প্রতি সহিংসতা যৌন লাঞ্ছনা

যৌন নির্যাতন কি?

sexual abuse
Written by Maya Expert Team

যে কোন ধরণের যৌন নির্যাতন শারীরিক সহিংসতা নয়। এই সহিংসতা ব্যক্তিকে মানসিক ভাবেও করা হয়ে থাকে। যারা যৌন সহংসতার কোন ধরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তারা যে মানসিক আঘাতটা পায়  তা তাদের সারাজীবন থেকে যায়।

যৌন নির্যাতন বলা হয় যে কোন ধরণের যৌন সংযোগ স্থাপন কে যেটাতে আপনার কোন সম্মতি থাকেনা। নির্বিশেষে এই ধরণের যৌন প্রবৃত্তি যেমন নারীর সাথে ঘটতে পারে তেমন পুরুষের সাথেও ঘটতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে যৌন নির্যাতনের ঘটনা পুরুষদের চায়তে নারীদের উপর বেশি হতে দেখা যায়।

আপনি হয়ত যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন কখনো যদি আপনার সঙ্গী বর্ণিত কাজ সমূহ বার বার করে থাকেনঃ

  • জোরপূর্বক আপনার সাথে সম্বন্ধ করতে চায়
  • যৌন উপায়ে আপনাকে অপমান করে অথবা খারাপ নামে ডাকে
  • জোরপূর্বক আপনার সাথে যৌন সম্পর্ক করতে চায় অথবা এমন ধরণের কোন কৌশল করে থাকে যা জোরপূর্বক
  • যৌন মিলনের সময় আপনাকে চেপে ধরে
  • যখন আপনি অসুস্থ থাকেন, ক্লান্ত থাকেন, অথবা আঘাত করার পর যৌনমিলন করতে চায়
  • যৌনমিলনের সময় অস্ত্র বা কোন বস্তু দ্বারা আপনাকে আঘাত করে
  • আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনাকে অন্য কারও সাথে যৌনমিলনের কাজে বাধ্য করে
  • যৌনমিলনের সময় আপনার অনুভূতি গুলোকে এড়িয়ে যায়
  • ইচ্ছাকৃত ভাবে আপনাকে যৌন সংক্রামক রোগ গুলো দেয়ার চেষ্টা করে
  • প্রকৃতপক্ষে যৌন নির্যাতন, উপরে বর্ণিত কর্ম সমূহে সীমাবদ্ধ নয়। যে কোন ধরণের আচরণ যা কোন ব্যক্তির দ্বারা আপনি প্রতারিত হন,  জোরপূর্বক আপনাকে যৌন আচরণে লিপ্ত করতে চায়, যাতে আপনার সম্মতি নাই তাকেই যৌন নির্যাতন হিসেবে অ্যাখ্যা করা হয়।

বেশিরভাগ সময়ই নির্যাতনকারী একজন পুরুষ হয়ে থাকে, কিন্তু কদাচিৎ ঘটনায় নারীকেও পাওয়া যায়।

যদি আপনার এমন কোন যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা হয়, এখানে কিছু বিষয় দেয়া হল যা সর্বদা মনে রাখবেনঃ

আপনার কোন দোষ নাই, তাই যা কিছু হোক নিজেকে দোষারোপ করবেন না।

এমন কোন কিছু আপনার অভিজ্ঞতায় হয়ে থাকলে এটি আপনাকে খারাপ মানুষ অথবা মূল্যহীন করে তুলে না।

যদি কেউ আপনার অতি নিকটের হয়ে থাকে, অথবা আপনি যাকে বিশ্বাস করেন, তারা যদি এমন কোন কাজ করে থাকে তার মানে তারা আপনার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তারা যা করছে তা ভুল। যারা আপানার নিকটতম অথবা যাদের আপনি বিশ্বাস করেন তাদের এমন কোন কাজকে ক্ষমা করবেন না।

তাদের কোন ওজরে বিশ্বাস করবেন না, যে তারা “ তাদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি।“ যারা এই ধরণের কার্যকলাপ করে থাকে তারা জানে তারা কি কাজ করছে এবং তারা কাজের মধ্যে কি করছে, তারা তাদের অবস্থান; ক্ষমতা এবং আপনার বিশ্বাসের অপব্যবহার করে থাকে।

কথা বলতে এবং সাহায্য পাবার ক্ষেত্রে ভয় পাবেন না।

সর্বদা মনে রাখবেন তাদেরই লজ্জা পাওয়া উচিত আপনার নয়।

যৌন নির্যাতনের যে কোন ঘটনায়, আমরা আপনাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ব্লাস্ত, আইন ও শালিস কেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য উৎসাহিত করছি বৈধ কার্যক্রম করার জন্য অথবা আপনি ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন মেডিকাল এবং পেশাদার সহকারীর জন্য।

যৌন নির্যাতনের পরে

এখানে যিনি যৌন নির্যাতন ভোগ করেছেন তার নির্দিষ্ট কোন উপায় থাকে না, তার সাথে কেমন আচরণ করা উচিত। মানুষ তার নানা সমস্যার সাথে নিজস্ব উপায়ে মোকাবিলা করে এবং এমন নির্যাতনের অভিজ্ঞতায় তাদের আচরণে পরিবর্তন আসে, সাধারণ মানুষ এসবের সাথে অনুপম উপায়ে প্রতিক্রিয়া করে থাকে। এটা অবশ্যই মনে রাখা উচিত যে এসব আচরণ কোন অসুস্থতা, অভাব অথবা দুর্বলতাকে বুঝায়না এবং একজন ব্যক্তির পোস্ট ট্রমা আচরণ বিভিন্ন প্রভাবের কারণে হতে পারে। এসব প্রভাব সমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্তঃ

  • এই অভিজ্ঞতা আছে এমন মানুষদের সমিতি;
  • ব্যাপ্তি এবং প্রবন্ধ সহ শারীরিক নির্যাতন বা মানসিক ক্ষতির তিব্রতা;
  • মানসিক ক্ষতির তীব্রতা;
  • নির্যাতন বিধ্বংসী;
  • শারীরিক ক্ষতির মাত্রা;
  • পরিবার এবং বেচে যাওয়া বন্ধুকে সমর্থন।

কোন নারীর যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা হলে তিনি নিম্ন লিখিত আইনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

আঘাতের সময় নির্যাতিত ব্যক্তি এসব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে-

  • মৃত্যুর প্রচণ্ড ভয়
  • পৃথকীকরণ

অবিলম্ব এবং স্বল্প মেয়াদী প্রভাবের মধ্যে রয়েছে –

  • উদ্বেগ এবং প্রচণ্ড ভয়।
  • এমন কোন বিষয় যা সেই আঘাত সম্পর্কে মনে করিয়ে দেয়।
  • এসটিডিস অথবা গর্ভ ধারণের ভয়।
  • ভবিষ্যতে হামলা এবং অন্যান্য ক্ষতির ভয়।
  • কিছু নারী মনে করেন যে তারা কোন যত্নের অথবা ভাল কিছুর যোগ্য নয়।
  • বেশির ভাগই তাদের বিশ্বাস হারান এবং পৃথিবীটাকে অনিরাপদ এবং বিপদজনক হিসেবে উপলব্ধি করে থাকেন।

এর মধ্যম হতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত-

  • মাসের পর মাস বছরের পর বছর নিজের আত্মঅভিমান নিম্ন হয়, নিজেকে দোষারোপ করে এবং অপরাধী মনে করে।
  • সে ঘটনাতে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা  করে।
  • আত্মহত্যার চিন্তা এমন কি চেষ্টাও করে থাকে।

সমাজ এবং সম্প্রদায়ের মিথিস্ক্রিয়া স্ত্রীর সাথে আন্তব্যক্তিগত সম্পর্ক, অপরের প্রয়োজনীয়তা, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে সম্পর্ক সহ সকল ধরণের সম্পর্কে প্রভাব পড়ে এই যৌন নির্যাতনের জন্য।

যোগাযোগ, ঘনিষ্টতা, বিশ্বাস, বিশেষত যৌন সম্পর্কে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে উপভোগে সকল ক্ষেত্রে মুশকিল আসে এবং প্রভাব ফেলে থাকে।

নারীরা বিশেষ করে পুরুষদের সঙ্গে সামাজিক পরিস্থিতি এড়াতে পারে, অতিরিক্ত সচেতনতার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে কিছু লোক কাজ করতে সক্ষম এবং সীমিত ভাতার কারণে তার মিথস্ক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের সমর্থন ব্যক্তিকে তার ক্ষত সারাবার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

সমাজ এবং যৌন নির্যাতন

অনেক যৌন হয়রানির ঘটনায়ই উপযুক্ত কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করা হয় না অথবা তা বেশি বিলম্বিত হয়ে থাকে। তার কারণ নিম্নে দেয়া হল-

নির্যাতিত ব্যক্তি সমাজের কুসংস্কারকে ভয় পায়। বাংলাদেশের সমাজে যেখানে যৌন, যৌন নির্যাতন এবং এই বিষয় গুলো নিষিদ্ধ বিষয়, অনেকেই এই ধরণের ঘটনা নিরবে সহ্য করে নেয়। তারা এই বিষয়ে শেষ মুহূর্তে এসে রিপোর্ট করেন, যখন তাদের সামনে আর কোন পথ খোলা থাকেনা। এটি দুঃখজনক কিন্তু সত্যি যে যদি কেউ নির্যাতনের এমন কোন রিপোর্ট করেন, সমাজের মানুষ তাদের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে একঘরে করতে শুরু করে।

আত্মীয়স্বজন এবং পরিবার নির্যাতিত ব্যক্তির সাথে আলাদা রকমের আচরণ করে থাকে। যদি কোন আলোচনায় তাদের নাম আসে প্রথমেই লোকেরা সেই ঘটনার কথা মনে করে। চুপি চুপি সকলে সেই বিষয়েই কথা বলে এবং এই ঘটনার পূর্বে নির্যাতিত ব্যক্তির আচরণ কেমন ছিল সে সম্পর্কে সমালোচনা, বিবেচনা এবং বিচার করা হয়ে থাকে। অবশেষে তাকে আমন্ত্রিত অবাঞ্ছিত মনোযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

মানুষ সামাজিক জীব। তাই এতে অবাক হবার কিছু নাই যে কেন অধিকাংশ মানুষ এই ধরণের ঘটনা সম্পর্কে নিরব থাকে।

 

মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment