নারী স্বাস্থ্য ও দেহতত্ত্ব মাসিক

মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা

মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা
মাসিকের সময় আপনার কিছু সমস্যা হতে পারে। আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন, কারন কিছু চিকিৎসা আপনার সহায়ক হতে পারে।

মাসিকের সমস্যাগুলো হলোঃ

  • মাসিকের অনুপস্থিতি (amenorrhoea)
  • অধিকমাত্রায় মাসিক হওয়া (menorrhagia)
  • অনিয়মিত মাসিক (oligomenorrhea)
  • ব্যথাযুক্ত মাসিক (dysmenorrhoea)

মাসিকের অনুপস্থিতি (amenorrhoea)
যদি কোন মহিলার মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, এটিকে মাসিকের অনুপস্থিতি বা অ্যামেনরিয়া বলে। এর অর্থ ডিম্বাণু উৎপাদন বন্ধ হওয়া। ডিম্বাণু উৎপাদন না হলে আপনি গর্ভবতী হতে পারবেন না।
মাসিকের অনুপস্থিতির বেশ কিছু সম্ভাব্য কারন রয়েছে, যেমন- অত্যধিক বিষন্নতা, চরমমাত্রায় ওজন হ্রাস পাওয়া এবং বিভিন্ন ঔষধের প্রভাব। তবে এই সমস্যায় চিকিৎসা করা হলে প্রায়ই পুনরায় মাসিক শুরু হয়।

অধিকমাত্রায় মাসিক (menorrhagia)
মাসিকের সময় নারীদের কি পরিমানে রক্তস্রাব নিঃসরন হবে সেক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
তবে আপনার যদি অধিকমাত্রায় রক্তস্রাব যায় এবং সেটি যদি আপনার প্রশান্তি ব্যাহত করে ও জীবন যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবেন।
যদি আপনার অধিকমাত্রায় মাসিকের সমস্যা হয়, কাপড়ে রক্ত লিকেজ যাতে না করে স্যানেটারী ন্যাপকিন ও ট্যাম্পন ব্যবহার করুন।

অনিয়মিত মাসিক (oligomenorrhea)
২-৮ দিন পর্যন্ত মাসিক স্থায়ী হতে পারে এবং মাসিকচক্র (একবার মাসিক শুরু হওয়া থেকে পরবর্তী মাসিক শুরুর আগের দিন) সাধারণত ২৪-৩৫ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
যদি আপনার অনিয়মিত মাসিক হয় (যা অলিগমেনরিয়া হিসেবে পরিচিত), তাহলে আপনার মাসিকচক্রের ব্যবধান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তাছাড়া কি পরিমান রক্তস্রাব যাবে এবং মাসিক কতদিন স্থায়ী হবে সেক্ষেত্রেও ভিন্নতা আসতে পারে।
অনিয়মিত মাসিকের কিছু সম্ভাব্য কারন রয়েছে এবং সেগুলোর উপর নির্ভর করে কি ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে গর্ভনিরোধ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা, বিশ্রাম গ্রহণ এবং কাউন্সিলিং অন্তর্ভুক্ত।

ব্যথাযুক্ত মাসিক (dysmenorrhoea)
অধিকাংশ নারীর জীবনে ব্যথাযুক্ত মাসিকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাসিকের পূর্বে কিংবা মাসিকের সময় তলপেট, পেলভিস, পিঠের নিচের অংশ, উরু, যোনিপথ- এসকল স্থানে সাময়িক ব্যথা হতে পারে।
এ ব্যথা মৃদু অথবা তিব্র হতে পারে। যদি ব্যথা তীব্র হয় এবং সহ্য করা আপনার জন্য কঠিন হয় তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
মাসিকের ব্যথার চিকিৎসায় ব্যথানাশক ঔষধ,যেমন- ননস্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) ব্যবহৃত হতে পারে।

About the author

Maya Expert Team