সংক্রামক ব্যাধি

মশাবাহিত রোগ – বর্ষায় সাবধান থাকুন

Written by Maya Expert Team

আমাদের দেশে বিশেষ করে বর্ষায়, প্রবল বৃষ্টির পানি ঠিকভাবে নিষ্কাশন করা যায় না বলে নানা ধরণের রোগ

হয়। এছাড়া ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো রোগগুলো পানিবাহিত না হলেও বর্ষাকালে এগুলোর প্রকোপ থাকে

সবচেয়ে বেশি।

ম্যালেরিয়া হলে প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর থেকে থেকে জ্বর আসবে। এই জ্বর আসার চক্রেরও একটা

বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে একদিন অন্তর রোগীর জ্বর আসে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবার

জ্বর আসার মাঝখানে দুইদিনের বিরতি থাকে। জ্বর আসার সাথে সাথে রোগীর শরীরে প্রচণ্ড কাঁপুনি হবে এবং

তার প্রচণ্ড শীত লাগবে। তারপর কয়েকঘন্টার জন্য শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে এবং সেই সাথে প্রচণ্ড

ঘাম আর ক্লান্তিবোধ হবে। বাচ্চার মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখলে, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেলে, চোখে

জন্ডিসের মতো হলুদ ভাব থাকলে, আর পেট ফুলে গেলে সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তবে এসমস্ত

লক্ষণ ম্যালেরিয়াজনিত নাও হতে পারে।

গর্ভবতী অবস্থায় আপনার ম্যালেরিয়া হলে মনে রাখেবন অন্যদের চাইতে আপনি বেশি ঝুঁকিতে আছেন।

গর্ভবতী হলে ডাক্তার আপনাকে কুইনাইন দিতে পারন। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় অন্য যে সব ওষুধ ব্যবহৃত হয়

তা কোনটি গর্ভবতীদের জন্য এর চাইতে নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়নি।

পরিবারের কারো ডেঙ্গু হয়েছে বলে সন্দেহ হলে নিচের লক্ষণগুলোর সাথে মিলিয়ে নিন, আর দেখুন রোগীর

গায়ে একটানা ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর জ্বর আছে কি না –

· মাথা ও শরীর ব্যাথা। বেশীর ভাগ রোগীই চোখের চারপাশে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে।

· শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুসকুড়ি

· প্রচণ্ড ক্লান্তি

· হঠাৎ নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। বমির সাথে রক্ত এবং গাঢ় বর্ণের পায়খানা

· রোগী হঠাৎ অস্থির হয়ে যেতে পারে, তার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে এবং ক্ষেত্রেবিশেষে সে ‘শক’

পর্যায়েও চলে যেতে পারে।

শেষের দু’টি লক্ষণকে মেডিকেল ইমার্জেন্সি বলে বিবেচনা করতে হবে। পরিবারের বাচ্চা বা বড়দের কারো

মধ্যেও এই লক্ষণ দু’টির কোনটি দেখলে তাকে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করুন। ডেঙ্গু সাধারণত নিজে

নিজেই ভালো হয়ে যায়, এবং খুব বেশি চিকিৎসা বা ওষুধেরও প্রয়োজন হয়না। এ সময় যতটা সম্ভব বিশ্রাম

নিন, প্রচুর পানি ও পানীয় পান করুন, জ্বর কমানোর জন্য কেবল প্যারাসিটামল খান । অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য

সকল ওষুধই এ সময় রোগীর জন্য নিষিদ্ধ কারণ তাতে করে মুখ বা নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

অন্যান্য রোগ যেমন একবার হলে শরীর নিজেই তার একটা প্রতিরোধ তৈরি করে নেয়, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে তা নয়।

ডেঙ্গুর চারটি ধরন আছে, ফলে একবার এক ধরনের ডেঙ্গু হলে পরবর্তীতে অন্য কোনো ধরনের হতে পারে।

যেমন, আপনি যদি একবার টাইপ ১ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তাহলে আপনি হয়তো টাইপ ১ এ আর আক্রান্ত

হবেন না, কিন্তু টাইপ ২, ৩, ৪ এর যে কোনোটায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

হলে তা বিরূপ আকার ধারণ করতে পারে, যেমন রক্তপাত (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) কিংবা শক (ডেঙ্গু শক

সিনড্রোম )।

মশাবাহিত আর দুটো রোগ হচ্ছে ফাইলেরিয়াসিস এবং পীত জ্বর। রোগ দু’টির প্রকোপ শহরে তেমন দেখা যায় না,

তবে পার্বত্য অঞ্চলে ফাইলেরিয়াসিস এর প্রকোপ নজির আছে।

যেভাবে মশার কামড় থেকে বাঁচতে পারেন –

· ভালো মানের মশা নিরোধক স্প্রে দিন এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন। বাজারে বেশ কিছু

কার্যকর মশা নিরোধক ক্রিম পাওয়া যায়। প্রথমে আপনার বা আপনার বাচ্চার ত্বকে এই ক্রিম

অল্প করে লাগিয়ে দেখে নিন কোন অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় কি না।

· মশা থেকে প্রতিরোধের জন্য ত্বকে লেমন গ্রাস ঘষতে পারেন।

· আপনার বারান্দা, ছাদ বা বাগানের যত জমে থাকা পানি ঝেড়ে ফেলুন। বৃষ্টির পানি জমতে পারে এমন

যে কোন পাত্র দরকারি না হলে ফেলে দিন।

· পানিতে নিম পাতা দিয়ে সিদ্ধ করুন এবং সেই পানি আপনার বাগানের গাছে ঢালুন। তাতে করে যে কোন

পোকা বা মশার আনাগোনা কম হবে।

· খাবারে বেশি করে রসুন এবং ভিটামিন বি-১ রাখুন, এতে আপনার শরীরও মশা থেকে নিজেকে

প্রতিরোধের জন্য তৈরি থাকবে।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment